বৈচিত্রময় আদি সংস্কৃতি’কে তুলে ধরতে বান্দরবানে লোক সাংস্কৃতিক উৎসব কাল

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৯ মে , ২০১৪ সময় ০৪:০৭ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ এবং সংরক্ষণে বান্দরবানে লোক সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন চলছে। পার্বত্যাঞ্চলের সুপ্রাচীন ও বৈচিত্রময় আদি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে বান্দরবান ক্ষুদ্র ন-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে নিজস্ব অডিটরিয়ামে শনিবার (১০ মে) “লোক সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৪ এবং পিঠা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। এছাড়াও জেলার সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কমকর্তা, সুধিসমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ’সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজনের উপস্থিত থাকবেন বলে জানাগেছে।
লোক সাংস্কৃতিক উৎসবআয়োজকরা জানায়, এই উৎসবে জেলার পাহাড়ী ৯টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং বাঙ্গালী শিশু-কিশোর, তরুন-তরুনী এবং শিল্পীরা অংশ নেবেন। পাহাড়ী জেলা বান্দরবানে বসবাসরত মারমা, বম, ত্রিপুরা, চাক, খেয়াং, ম্রো, খুমি, চাকমা, তংচংঙ্গ্যা’সহ নয়টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং বাঙ্গালী শিল্পিীরা তাদের বিলুপ্তপ্রায় নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরবে। এছাড়াও বাঙ্গালী সম্প্রদায়ের চিরায়িত সংস্কৃতিও নাচে-গানে ফুটিয়ে তুলবে বাঙ্গালী শিল্পীরা।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীদের রয়েছে আলাধা নিজস্ব সংস্কৃতি। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের সংস্কৃতি ছন্দ ও বর্ণময়। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে’সহ সামাজিক প্রতিটি কর্মকান্ডে রয়েছে সংস্কৃতির ছোঁয়া। কথা, সুর, ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সামাজিক অবস্থান সব আলাধা। কিন্তু তাদের বর্ণাঢ্য সংস্কৃতির পরিমন্ডল এখনো ভরপুর। তাদের নিজস্ব ভাষায় রয়েছে লোকগীতি ও লোকনৃত্য। রয়েছে নিজস্ব বাঁশির সুরের কলতান, ঢোল, কাসা, বাঁশের তৈরী এক ধরনের বাজনা। সেই বাদ্য-বাজনা দিয়ে লোকগীতি ও লোকনৃত্য পরিবেশিত হয়। যা তাদের আনন্দ বেদনা, সুখ দুঃখের স্বকীয় পরিচয় বহন করে চলেছে। উৎসবকে ঘিরে নাচ-গানের প্রস্তুতি চলছে জোরে-শোরে।
বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টটিউটের পরিচারক মংনু চিং মারমা জানান, সুপ্রাচীন ও বৈচিত্রময় আদি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে “লোক সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন। পাহাড়ে দেশজ সংস্কৃতির বিকাশ এবং সংরক্ষণে কাজ করছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাস্কৃতিক ইনস্টিটিউট। অসম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতির মেইল বন্ধন সৃষ্টি করা এবং এই সংস্কৃতির বিকাশ ও সংরক্ষণ করার প্রয়াসে দিনব্যাপী এই ব্যাতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কৃতী ও বরেণ্য লোক শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।