বেড়েছে উচ্চশিক্ষার হার, কাঙ্ক্ষিত মান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ:| সোমবার, ৪ মে , ২০১৫ সময় ০৮:০৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষায় পরিমাণ ও সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও গুণগত আর কাঙ্ক্ষিত মান কতটুকু নিশ্চিত তা নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন। আর এদিক থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র আরও বেশি হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে থাকা ২ হাজার ২শ’ ৫৪টি কলেজে ১৫ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী সেশন জটের কবলে পড়ে মানসিকভাবে যেভাবে ভেঙ্গে পড়ছে ঠিক তেমনিভাবে পিছিয়ে পড়ছে কর্মক্ষেত্রেও। আর এ জন্য খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেবার কথা বলছেন শিক্ষাবিদরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ৩০ লাখ। আর এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে।

কিন্তু ভর্তি-জট থেকে শুরু করে ফলাফল-জট পর্যন্ত নানা অনিয়মের কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা এতটাই নাজুক যে পাঁচ বছরের পড়াশোনা শেষ করতে লাগছে আট বছরের বেশি সময়। আর এর ফলে সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘আমাদের সাথে যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তারা অনেক এগিয়ে গেছে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। পরীক্ষার সময়সূচি যথেচ্ছ পরিবর্তনের ফলে আমাদের শিক্ষাজীবনে একতা স্থবিরতা চলে আসে। এটা আমাদের সামনের সময়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছেন, সিলেবাস পদ্ধতির পরিবর্তে সেমিস্টার পদ্ধতিতে ফিরে আসলে কমে আসতে পারে এ সেশনজট।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘যে কোন ভাবেই তাদের সেমিস্টার পদ্ধতিতে নিয়ে আসতে হবে। ৬ মাসের সেমিস্টার পদ্ধতিতে আনতে পারলেই এই সমস্যা কেটে যাবে। একইসাথে তাদের মানও বাড়বে।’

তবে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ভাবে পরীক্ষাগ্রহণ আর ফল প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপর নির্ভর করাই এ দীর্ঘসূত্রতার কারণ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ রাশিদুল হাসান বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে যে ধরণের লোক থাকা প্রয়োজন তা আমাদের নেই। এই প্রশাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

শুধু স্নাতক পর্যায়েই নয় ডিগ্রি পাস কোর্সের অবস্থা আরও শোচনীয়। আর এ জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারেন তার দাবি জানান তারা।

১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভয়াবহ সেশনজট কমিয়ে কলেজগুলোর মান উন্নয়ন করা। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম বছরের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হতে সময় নেয় প্রায় এক বছর। আর এজন্য প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই তারা তাগিদ দিচ্ছেন যত দ্রুত সম্ভব কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ফিরিয়ে আনার।


আরোও সংবাদ