বেড়িবাঁধের ভয়াবহ ভাঙ্গন: ২০গ্রাম প্লাবিত, হাহাকার

প্রকাশ:| শনিবার, ১ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

বেড়ি বাঁধ ভাঙ্গন
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামার ৫ পয়েন্টে গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষন ও সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধের ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আর ভাঙ্গা ওই বেড়িবাঁধ দিয়ে গত শুক্রবার ও আজ শনিবার সকাল-বিকাল জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। ফলে মগনামা ইউনিয়নের অন্তত: ২০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য চিংড়ি ঘের ও স্থানীয়দের পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ। মগনামার অধিকাংশ বাড়ী-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সাধারন মানুষ এভাবে দূর্ভোগ ও অনাহারে দিন কাটালেও গত ২দিন ধরে প্রশাসন ও এনজিওদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের ত্রান বিতরণ করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার পৃথক সময়ে পূর্ণিমার জোয়ারের তীব্র স্রোতে পাউবোর নিয়ন্ত্রিত মগনামার শরৎ ঘোনার ২টি পয়েন্টে, কাক পাড়ার ৩টি পয়েন্টে ভেঙ্গে গেয়ে দিনরাত অব্যাহতভাবে সমানতালে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এছাড়াও মগনামা কয়েকটি স্লুইচ গেইট প্রভাবশালীরা জবর দখল করে প্রবেশ মূখে অবৈধভাবে জাল বসিয়ে পানি নিষ্কাষনে চরম বাধার সৃষ্টি করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যেই পেকুয়ার ইউএনও মো. মারুফুর রশিদ খান মগনামার ইউনিয়নের কয়েকটি স্লুইচ গেইট দখল করে বসানো জাল অপসারণ করে জোয়ারের পানি বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন। মগনামার রুপাইখালের মাথার স্লুইচ গেইটটি দীর্ঘদিন ধরে জবর দখল করে তার প্রবেশমূখে জাল বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী যুবদল নেতা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন নামের এক লোক। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মগনামার চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তাফা চৌধুরীকে মোটা অংকের ম্যানেজ করে ওই যুবদল নেতা ওই স্লুইচ গেইট দখল করে জাল বসায়। এছাড়াও সোনালী বাজার এলাকার পাউবোর স্লুইচ গেইটটি ও একইভাবে জবর দখল করে প্রবেশ মূখে দিনরাত জাল বসিয়ে রাখেন স্থানীয় গুটিকয়েক প্রভাবশালী লোক। এদিকে মগনামার ওই ৫ পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ভয়াবহ ভাঙ্গন দিয়ে সাগরের জোয়ারের পানি অব্যাহতভাবে প্রবেশ করায় মগনামা ইউনিয়নের মুহুরী পাড়া, বাইন্যাঘোনা, রুকুর দ্বিয়া, ধারিয়াখালী, মটকাভাঙ্গা, কুমপাড়া, সোনালী বাজার, চেরাং ঘোনা, রঙ্গিন খালীল পূর্বকুল, কাজী মার্কেট, শুদ্ধাখালী পাড়া, কালার পাড়া, ষাট দনিয়া পাড়া, বোড়িং পাড়া, পশ্চিমকুল, জালিয়া পাড়া. শরৎ ঘোনা, হারুন মাতবর পাড়া, করলিয়া পাড়া, ঘাট মাঝির পাড়া, মগনামা মাঝির পাড়াসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

অপরদিকে মগনামা ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় চিংড়ি প্রজেক্ট দক্ষিণ মগনামার বড় ঘোনা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটির টাকার বাগদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতি মাছ ভেসে গেছে। ওই চিংড়ি প্রজেক্টের ইজারাদার মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, তিনি প্রায় আড়াইশ একরের ওই চিংড়ি প্রজেক্ট ইজারা নিয়ে এ বছর মৎস্য চাষ শুরু করেছেন। কিন্তু গতকাল শনিবারের ভয়াবহ জোয়ারের পানিতে তার চিংড়ি প্রজেক্টটি সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এ ক্ষতির ফলে তার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সরকারীভাবে ব্যবসায়ী রবিউল ক্ষতিগ্রস্থ চিংড়ি ঘেরের ইজারাদারদের ক্ষতি পূরণসহ অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারম্যানের গাফিলতির কারনে মগনামার বেড়িবাঁধগুলো যথাসময়ে সংস্কার করা হয়নি। জামায়াত নেতা ওই ইউপি চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে সারা বছরই টিআর, কাবিখা ও সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে উন্নয়ন বরাদ্দের নামে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নয়ছয় করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা আরো দাবী করেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের গাফিলতির কারনেই মগনামার বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অন্তত: প্রায় অর্ধশতাধিক চিংড়ি ঘের ও পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে জানার জন্য মগনামার ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তাফা চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু জানিয়েছেন, পূর্নিমার জোয়ারের মগনামার বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধের পয়েন্ট ভেঙ্গে গিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। তিনি মগনামার ভাঙ্গ্া বেড়িবাঁধগুলো পুন:মেরামতসহ সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ও জানালেন।