বেড়িবাঁধেরবেহাল দশা সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হতে চলেছে কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং ইউনিয়ন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:২৯ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়ি বাঁধের ভয়াবহ ভাঙন
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়ি বাঁধের ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হতে চলেছে দ্বীপের উত্তর ধুরং ইউনিয়ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর ধুরং ইউনিয়নের সতর উদ্দিন এলাকার ৪ কিলো মিটার বেড়িবাঁধ গত বর্ষা মৌসুমে সম্পন্ন বিলীন হয়ে গেছে সাগরে। আর এখন খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রতনিয়ত জোয়ারের পানি প্রবেশ সাগরের লোনা পানি। এর কারণে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে।
দ্বীপের উত্তর ধুরং ইউনিয়নের মিরাখালী সড়কের সতর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে ধুরুং জেটিঘাট, ফয়জানির বাপের পাড়া, হজু বাপের পাড়া, নতুন পাড়া সহ সতর উদ্দিনের ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মাটি সাগরের জোয়ারে বিলীন হয়ে হয়েছে। বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের লোনা পানি প্রতিদিন দু‘বার প্রবেশ করছে লোকালয়ে। এ ছাড়া ওই গ্রামগুলোর প্রত্যন্ত এলাকার কয়েক হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা বেড়িবাঁধ হওয়ায় চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধে অবস্থিত সতর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, সতরউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফয়জানি পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালিমুল কুরআন মাদ্রাসা সহ দু‘টি কালভার্ট সাগরে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষা প্রতষ্ঠানগুলো ভাঙনের কবলে থাকায় শত শত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। বর্ষা মওসুম এলেই এ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বলে স্থানীয়রা জানান।
উত্তর ধুরং ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুদ্দৌল্লাহ বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙনেরর ফলে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে জন সাধারণের। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বসতিগুলো রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। জরুরী সংস্কার কাজ নামমাত্র করা হলেও তা আবার চলে গেছে সাগরে। এখন শুষ্ক মওসুমেই তিনি বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল আলম,,টেক্সী চালক বজল করিম কুতুবী বলেন, ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের সময় ভিতরে লোনা পানি প্রবেশ করায় শতাধিক পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছেনা। অমাবশ্যা-পূর্ণিমায় অতিরিক্ত জোয়ারের পানি প্রতিনিয়ত প্রবেশ করলেও বেড়িবাঁধ সংস্কারে হাত দেয়া হচ্ছেনা বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দৌল্লাহ জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের প্রায় পুরো বেড়িবাঁধই ক্ষতিগ্রস্থ ফয়জানি পাড়া, নতুন পাড়াসহ ৩/৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ খোলা পথচারিরা যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাচ্ছে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ থাকায়। পাউবো কর্তৃপকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ সংস্কার করা হবে তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী এম, মাঈন উদ্দিন খাঁন জানিয়েছেন, বরাদ্দ না থাকায় কুতুবদিয়া উত্তর ধুরং ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা। অবশ্য তিনি বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বেড়িবাঁধ সংস্কার হবে বলে জানিয়েছেন।