বেসরকারি ১১ বীমা কোম্পানি অনুমোদন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৫ জুলাই , ২০১৩ সময় ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি খাতে নয় ব্যাংকের পর এবার ১১টি বীমা কোম্পানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আরো আসছে ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা লিজিং কোম্পানি। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ব্যাংকের মতো নতুন করে অনুমোদন দেওয়া বীমা কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।Insurance-Bima

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, লিজিং কোম্পানির জন্য ১৪৯টি আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়লেও নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে তা বিবেচনায় আসছে না। সরকারের ওপর মহলের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আবেদন নিয়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আরো ব্যাংক ও বীমার মতো লিজিং কোম্পানি অনুমোদন হতে পারে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইডিআরএ) কার্যালয়ে গতকাল বৈঠকের পর অনুমোদনের বিষয়টি আইডিআরের সদস্য ফজলুল করিম নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে দুটি সাধারণ বীমা কোম্পানি ও ১১টি জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত বুধবার আইডিআরের চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ অ্যাকচুয়ারি নতুন বীমা অনুমোদন-সংক্রান্ত বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ১১টি নতুন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া নয়টি জীবন বীমা কোম্পানি হচ্ছে : মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, বেস্ট লাইফ, সোনালী লাইফ, তাইও সামিট লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, চার্টার্ড লাইফ, জেনিট ইসলামী লাইফ ও প্রটেকটিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
আর সাধারণ বীমা কোম্পানি দুটি হচ্ছে : সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
এর মধ্যে তাইও সামিট লাইফ ইন্স্যুরেন্স জাপান ও বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের যৌথ মালিকানায় গঠিত কোম্পানি।
এ প্রসঙ্গে আইডিআরের সদস্য ফজলুল করীম বলেন, দেশে অর্থনীতির যে সম্প্রসারণ হচ্ছে তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নতুন বীমা কোম্পানির দরকার আছে। নতুন বীমা কোম্পানিগুলো কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার মাধ্যমে বীমা খাতের মান উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুমোদন পাওয়া বীমা কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নাম জানা যায়নি।
তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া বীমা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খানের তাইয়ো সামিট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও গবেষণা সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপির জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিকের বেস্ট লাইফ, শীর্ষ ব্যবসায়ী মনজুর এলাহীর গার্ডিয়ান লাইফ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আবদুুস শহীদের চার্টার্ড লাইফ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান আওয়ামী লীগের এমপি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের প্রটেকটিভ লাইফ, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান গোলাম কুদ্দুসের সোনালী লাইফ ও কানাডা প্রবাসীদের এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
আর সাধারণ বীমা কোম্পানি দুটি শিকদার গ্রুপের জয়নুল হক শিকদারের শিকদার ইন্স্যুরেন্স ও সেনাকল্যাণ সংস্থার সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বীমাকারীর নিবন্ধন প্রবিধানমালা-২০১৩ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। গেজেট প্রকাশের পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন বীমা কোম্পানির নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র দাখিল করতে আইডিআরের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ১৫ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
আবেদন চাওয়া হলে ৭৭টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭১টি জীবনা বীমা কোম্পানি ও ছয়টি সাধারণ বীমা কোম্পানি। পরে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে গত ১৬ থেকে ২০ জুন পর্যায়ক্রমে এসব আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে প্রাথমিকভাবে আবেদনকৃত ৭৭টি আবেদনের মধ্যে ৬৬টি কোম্পানির আবেদন ত্রুটি ধরা পড়ে। আর বীমা কোম্পানির প্রবিধানের সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করে ১১টি কোম্পানি। এ ১১টি কোম্পানিকে গতকাল চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নয়টি জীবন বীমা ও দুটি সাধারণ বীমা কোম্পানি।
জানা গেছে, বীমার প্রবিধান অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের পরিশোধিত মূলধনের নিজ নিজ অংশ দায়মুক্তভাবে বাংলাদেশে কোনো তফসিলি ব্যাংকে কোম্পানির নামে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটি জীবন বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে ১৮ কোটি টাকা এবং সাধারণ বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে ২৪ কোটি টাকা আগাম কোম্পানির নামে জমা করতে হবে। আবেদনের সময় এ বিষয়েও তথ্য সরবরাহ করতে হবে। যারা এসব শর্ত পূরণ না করে আবেদন করেছে তাদের আবেদনপত্র ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৬২টি কোম্পাানি বীমা ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সরকারি বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুটি। বেসরকারি সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে ৪৩টি ও জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে ১৭টি। সর্বশেষ বেসরকারি খাতে বীমা কোম্পাানির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০০০ সালে। এ সময় মোট ৩০টি কোম্পানির অনুমোদন দেয় সরকার। আর এবার নতুন করে ১১টি কোম্পানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো।