‘বেশি নড়াচড়া করলে তোমাকে জবাই করতে কষ্ট হবে’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৫ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৮:০৫ অপরাহ্ণ

৭০ এর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে জামায়াতে ইসলাম, পাকিস্তান মুসলিম লীগের মতো অনেকগুলো রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদা ভাবে অংশ নিয়ে মোট প্রাপ্ত ভোটের ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ৬ দফার বিরোধিতাকারী শক্তি হিসাবে পরিচিত এই ২৬ শতাংশ এই ভোট কারা দিয়েছিল তা প্রজন্মকে জানতে হবে। ৭০ এর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষ যারা কাজ করেছে তারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষেও কাজ করেছিল। পাক হানাদার বাহিনীকে গ্রামের পর গ্রাম নিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে চিনিয়ে দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ পাকিস্তানের নেতাদের দিয়ে গঠিত রাজাকার আলবাদর আলশামসদের কারনে ৭১ সালে মাত্র ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোকের বিশাল প্রাণহানি হয়েছিল বলে বক্তব্য রেখেছেন চট্টগ্রাম ৮ আসনের সাংসদ মঈনউদ্দিন খান বাদল এমপি।
এসময় সাংসদ বাদল মুক্তিযুদ্ধে ধর্মের লেবাস লাগানো আলবদর বাহিনীর নিষ্ঠুরতার উদাহরণ দিয়ে বলেন, নদীর পাড়ে একজন আলবদর মৌলভী সাহেব একজন মুক্তিযুদ্ধাকে জবাই করার আগে বলেছিল, ‘বাবা বেশী নড়াচড়া করলে তুমিও কষ্ট পাবে আমারও জবাই করতে কষ্ট হবে’।
এমপি বাদল বলেন, তিন হাজারের বছরের ইতিহাসে সত্যিকার অর্থেই ভূমিপত্র শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই ৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতা এসেছিল। একমাত্র বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার ওপর ভিত্তি করেই সকল ধর্মের মানুষের জন্য স্বাধীন ভূখন্ডের আন্দোলন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই জাতীয়তাবাদের চেতনায় শাণিত হয়েই আমিসহ মুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু এখন নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে ভূলন্টিত করে ধর্মীয় চেতনাকে সামনে এনে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্টুডেন্ট ফোরাম, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যাগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আজ নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মিঠু।
ছাত্রনেতা সাজ্জাদ হোসেন শিবলু ও এস.এম শাহাদাত শাকিলের যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় সংসদ সদস্য মাঈন উদ্দীন খান বাদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত কচি।উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম সেলিম ও মোহাম্মদ ফয়সাল।
উক্ত অনুষ্ঠানে আর ও বক্তব্য রাখেন- ইরফানুল হক, ইব্রাহিম রিফাত, রাশেদুল হাসান রাশেদ, আব্দুল হাকিম ফয়সাল, সানি কাদের, মোহাম্মদ হাসান খান, মোহাম্মদ মাহিন, এস এম বিশাল, অমিত খাস্তগীর, সুফিয়ান সিদ্দীকি নিলয়, হোসাইন পাভেল, শান্তনো বাপ্পপী, মোহাম্মদ হাসান, মো: কায়ছার, মোহাম্মদ মহিন প্রমুখ।


আরোও সংবাদ