‘বেলপেপার’ উদ্বোধন করলেন মাশরাফি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৯ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

 

শুক্রবার দুপুর ২টার কিছু পরের সময়।নগরীর দু নম্বর গেট এলাকার জিননুরাইন কমপ্লেক্সের আশপাশটা আগে থেকেই সেজে আছে মাশরাফির ছবি সমেত টাঙ্গানো ব্যানার-পোস্টারে। কমপ্লেক্সের মুখেই মাশরাফি বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রেস্তোরাঁর মালিকসহ অন্যান্যরা।কমপ্লেক্সের ভেতরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ভিড় করা দর্শনীর্থীদের প্রতীক্ষা, কবে আসবেন মাশরাফি?

‘বেলপেপার’ উদ্বোধন করলেন মাশরাফিমাশরাফি মানেই আবেগের বিস্ফোরণ, মাশরাফি মানেই তাকে ঘিরে লেগে থাকা থিক থিকে ভিড়, শিশু থেকে প্রবীণ। এসবের আরও একবার প্রদর্শনী হলো চট্টগ্রামে।

হুম জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক চট্টগ্রামে এসেছেন। তবে দেশের ‘চিরশ্রেষ্ঠ’ অধিনায়কের কয়েক ঘণ্টার এই যাত্রায় ক্রিকেট ছিল না একটুকুও। আপত ব্যাট-বলের বিষয় তুলে রেখে তিনি এসেছিলেন ‘বেলপেপার’ নামের একটি রেস্তোরাঁর উদ্বোধন করতে।

এর একটু পরেই প্রাইভেট কার থেকে মাফরাফির নামার দৃশ্যটা প্রজেক্টরে ভেসে উঠতেই মুহুর্মুহ করতালি-উচ্ছ্বাস।

সাদা ফুলহাতা শার্ট আর সাদা জুতোর সঙ্গে মিলিয়ে বাদামি রংয়ের প্যান্ট। কালো চশমাতে ঢাকা চোখদ্বয়। এই হালকা মেজাজেও ছয় ফিট ৩ ইঞ্চির মানুষটাকে লাগছিল দুর্দান্ত। এরপর ফিতা কেটে উদ্বোধন পর্ব সেরে মাশরাফি চলে এলেন সোজা তিনতলায়। এ সময় ‘জনজোয়ার’ ঠেকাতে বারবার কর্তৃপক্ষের পক্ষে ঘোষণা করা হচ্ছিল মাশরাফি প্রতি টেবিলে টেবিলে গিয়ে সবার সঙ্গে হাত মেলাবেন। কিন্তু মাশরাফিকে আগেভাগেই ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে সে কথা কেনো শুনবে। তাই যেদিক দিয়ে তার পা পড়ছিল সেদিকেই ছুঁটছেন সবাই। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে একটি ছবির অংশ হতে পারলেই হলো, সেখানে একটা সেলফি হয়ে গেলো তো দ্বিগুণ পাওয়া। তাই এই ভিড়।

এরপর ডায়াসে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বলে গেলেন, ব্যস্ততার কারণে এভাবে আসা হয় না। হঠাৎ করেই আসা হলো। সকাল থেকে চট্টগ্রামে যতক্ষণ আছি খুব এনজয় করছি এবং আমার খুব বেশি ভালো লাগছে। আপনাদের সবার প্রতি আমার শুভকামণা থাকবে। আমাদের সবার জন্য দোয়া করবেন।’

অন্যদিকে রেস্তোরাঁটি চট্টগ্রামবাসীকে ভালো খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে তৃপ্তি দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বলে গেলেন চট্টগ্রামে তার ভালো লাগার কথা কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে একটা কথাও না।

তবুও ক্রিকেট যার সহজাত সেই মাশরাফির মুখ থেকে ক্রিকেট বিষয়ে যদি কিছু বের করা যায়, এই আশায় সাংবাদিকরা তার প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন পেন্ডুলামের মতো ঝুলে থাকা আসন্ন ইংল্যান্ড সফর নিয়ে। তবে মাশরাফি এবার নিশ্চুপ।

মুখে হাসির রেখা টেনে শুধু বলে গেলেন, আজ ক্রিকেট নিয়ে কিছু বলবো না।

বক্তব্য শেষে রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণ করতে আসা প্রায় সবার সঙ্গে হাত মেলালেন, চাইলেন দোয়া।

Screenshot_334কয়েক’শ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, দেদার সেলফি-ছবি তোলার আবদার মেটানো, এই গরমে আশপাশে উপচে পড়া ভিড়। আধাঘণ্টা ধরে এমন চূড়ান্ত ছোটাছুটির পর যে কেউ টাল খেতে বাধ্য। কিন্তু তিনি মাশরাফি। হাফডজন অস্ত্রোপাচার নিয়েও যিনি দেশের জন্য দিব্যি বল করে যান তার জন্য এই কষ্ট একেবারেই নস্যি ব্যাপার।তাই শেষ সময়েও মুখে ওই চিরচেনা হাসিটা লেগেই ছিল। এই না হলে মাশরাফি ?

পুরো বিশ্বের কাছে ‘মাশরাফি মানেই বকলমে বাংলাদেশ ক্রিকেট’ এই পরিচিতিটা শুধু ক্রিকেট দিয়েই তো হয়নি।