বেপরোয়া বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১১:২৭ অপরাহ্ণ

মো:মহিন উদ্দীন,হাটহাজারী থেকে:
হাটহাজারীর নাজিরহাটে পুরাতন ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে কলেজ গেইটের সামনে হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র। এই চক্রেরের মধ্যে ৭ থেকে ১০ বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনজন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এ সদস্যরা হলেন, বালু কামাল, বালু বাবুল, এয়াকুব মাঝি, হোসেন মাঝি, হারিস মাঝি, শহীদ এবং এয়াকুব হাজী। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বালু উত্তোলন করে চলছে। হালদা নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উঠানোর কারণে তার ভাঙ্গন ভয়াবহ পযায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ এখন হুমকির মুখে পড়েছে। রাতদিন অব্যাহতভাবে বালু উঠানোর কারণে নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙ্গনের মাত্র দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বালু খেকোরা এ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন দালান নির্মাতাদের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু সরবরাহ করছে। এই সব বালু খেকোরা বেপরোয়া উৎপাতের ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসমে অতি বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলে হালদা নদীর ভাঙ্গন তীব্র হয়। যার ফলে বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি,জীব বৈচিত্র্য,বসত বিটা,রাস্তাঘাট,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মহা মুল্যবান জাতীয় সম্পদ বিলীন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের বিপর্যয়ের আশংখ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,নাজিরহাট কলেজ গেইটের সামনে থেকে লক্ষ করলেই বালুর স্তুপ আর জীপ এবং বড় একটি ট্রাকে কয়েকজন শ্রমিক বালু ভর্তি করছে। তার পাশে ১০ থেকে ২০ টি নৌকা বাধানো রয়েছে। সেই নৌকা গুলো থেকে শ্রমিকেরা বালু নামাতে দেখা গেছে। এইভাবে চলছে তাদের জমজমাট বালুর ব্যবসা। এ পেশায় জড়িত ২/৩ জনের বাড়ী অন্য জেলার হলেও বাকীরা স্থানীয় বলে জানা যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী ও কয়েকজন দোকানদার বলেন,অবৈধ বালুর ব্যবসা করে অনেকেই হয়েছে লাখপতি এবং অন্যজেলার যে কয়েকজন আছে তারা এখন স্থানীয় বাসিন্দা। তারা আরো বলেন,প্রতিদিন তাদের আয় হয় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। গড়ে ২০থেকে ৩০ টি জীপ,মিনি ট্রাক ও বড় ট্রাক বিভিন্ন স্থানে বালু নিয়ে যায়। এই ব্যবসায় জড়িত এয়াকুব মাঝি জানান,আমরা নেতাদের টাকা দিয়ে এ স্থানে অনেক বছর ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রয় করি। কেউ তো আমাদেরকে বাধা দেয় না। সবাইকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা করি।স্থানীয় দানবীর ও রাজনীতিবিদ ড. মাহমুদ হাসান বলেন, হালদা নদী থেকে যেন কেউ বালু উত্তোলন করতে না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা বিলকিস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা যখন অভিযান চালায় তখন তারা পালিয়ে যায়। তবে এখন আমাদের একজন ভুমি কর্মকর্তা বদলি হওয়াতে অভিযান চালাতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। খুব শ্রীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবির ক্যাপশন: কলেজ গেইটের সামনে হালদা নদীর পাড়ে একটি ট্রাকে কয়েকজন শ্রমিক বালু ভর্তি করছে।