বেপরোয়া চট্টগ্রামের সবজি ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ:| শনিবার, ৪ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৯:২৫ অপরাহ্ণ

প্রশাসনের যথাযথ মনিটরিং না থাকায় মধ্য রমজানে এসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামে সবজি ব্যবসায়ীরা।

গত ১০/১২ দিন ধরে যেই বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে শুক্রবার থেকে সেই বেগুনের দিগুণেরও বেশি দাম বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা মরিচের দামও দুই দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাঁচা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় এবং প্রশাসনের মনিটরিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার অসাধা ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন।

শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই দিন আগেও যে কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে, শনিবার একই কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকায়। আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৫ টাকা, পটল কেজি ৫০ টাকা, তিত করলার কেজি ৬০ টাকা, ঝিংগা কেজি ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ কেজি ৬০ টাকা, শসা কেজি ৫০ টাকা, বরবটি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের প্রতিটিতেই গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাছের বাজারেও যেনো আগুন, ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০০ টাকা, লাল কোরাল মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কৈ কোরাল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ (বড়) প্রতি কেজি ৯ শ টাকা ও ছোট রূপচাঁদা মাছ প্রতি কেজি ৮ শ টাকা, কালো চাঁদা কেজি ৬ শ টাকা, বাগদা চিংড়ি কেজি ৫০০ টাকা, লইট্ট্যা মাছ কেজি ১৮০ টাকা, কাতলা মাছ কেজি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাটা মাছ কেজি ৪০০ টাকা, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি।

গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, দেশি মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা এবং বয়লার মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৪৫ টাকা দামে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসের উদ্যোগে গঠিত বাজার মনিটরিং টিমের তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসনের ছয়টি টিম বাজার মনিটরিং করছে। হঠাৎ কাঁচ সবজি, মরিচ বেগুনের মূল্য বৃদ্ধির নেপথ্যে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি কাজ করছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আসলে এবার জাতীয়ভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাজার মনিটরিংয়ের কোন নির্দেশনা ছিল না। প্রশাসনকে আমরা অনেকটা জোর করে নামিয়েছি। কিন্তু রমজানের মাঝামাঝি এসে যথাযথ মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।