বেপজার উদাসিনতায় শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধতা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

নগরীর ইপিজেড থানাধীন ৩৯নং ওয়ার্ড দক্ষিণ হালিশরের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে মহাজন ঘাট(হিন্দু পাড়া)ভায়া স্টিল মিলস কেইপিজেড মেইন গেইট পর্যন্ত পিছনের নিচু এলাকাটি দীর্ঘ ১৫/২০দিন যাবত নোংরা-আবর্জনা আর ময়লা পানিতে জলাবদ্ধার শিকার হয়ে ঐ এলাকার শতশত বাসিন্দা তীব্র জনদূর্ভোগে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গেল ৫/৭ মাস পূর্বে সিমেন্ট ক্রসিং থেকে মহাজন ঘাট-নারিকেল তলা মেইন রোড খ্যাত ভিআইপি সড়কে চরম ক্ষত-বিক্ষত আর গর্ত এবং ড্র্রেন-নালা সংস্কার অবহেলায় পড়ে থাকলে বিভিন্ন গনমাধ্যমে খবর ছবি সহ প্রকাশ হলে চসিক, সিডিএ এবং স্থানীয় মন্ত্রানলয়,ডিসি ও সড়ক জনপদ যৌথ ভাবে কাজ মেরামত করে ভিআইপি সড়কে চলাচলরত যাত্রী এবং জনগণ কে শ্বস্তি দেন।
কিন্তু এর মাস দুই তিনেক যেতে না যেতেই মূল সড়কের নিকটস্থ ৭নং খালের পানি কর্ণফলী নদী না গিয়ে উল্টো পানি গুলো জমাট হয়ে নালা-ড্রেন হয়ে বসত ঘরে ডুকে যাচ্চে বলে জানান স্থানীয় মুফিজ উল্লাহ সুকানীর বাড়ীর বাসিন্দা মোঃ শামসুল আলম, স্টিল মিলের প্রবীন শ্রমিক ও স্থানীয় বাড়ীর বাসিন্দা মোঃ আব্দুল মান্নান(জাফরের বাপ),নুরুল আলম সওদাগর ও যুবক মোঃ হানিফ।
তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, পাশে বেপজার (কেইপিজেড) ৭নং খাল টি তাদের দেওয়ালের ভিতরের অংশে নিয়ে ফেলে খালের পানির গতিপথে নির্মাণ সামগ্রী,ইট-বালি ও কংকরের বস্তা এবং নোংরা-ময়লা জমিয়ে কর্ণফলী নদীর দিক বন্ধ করার কারণে চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এই এলাকাবাসী কে। তারা এব্যাপারে ৩৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রতিনিধি(মেম্বার) হাজী মোঃ ফরিদুল আলম কে একটি গণস্বাক্ষর যুক্ত অভিযোগও দাগিল করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রতিনিধি(মেম্বার) হাজী মোঃ ফরিদ বলেন, তাদেও কথাটি সত্য এবং আমি এই জনদূভোর্েেগর কারণ সহ কাউন্সিলর কে জানালে তিনি বেপজা কে লিখিত জানিয়েছেন এবং তারা সরজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবার বিষয়টি কাউন্সিলর কে অবগত করে চরম ভাবে অবহেলা করেছেন। যার পরিপেক্ষিতে আজকের এই অকাল জলাবদ্ধতা শিকার ভিআইপি সড়কে পাশে ”নুরগনি পাড়ার বাসিন্দারাড়। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই৩/৫বার বেপজার (কেইপিজেড) কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসী কে আশ্বাস্ত করে দীর্ঘ ১৫/২০দিন যাবত পানি যাওয়ার কোন উদ্যোগ নেননি। এতে করে গত ২/৩ দিন আগে বয়ে যাওয়া সামন্য কাল বৈশাখীর ঝড়ে পানি পুরো এলাকা কে হাটু থেকে কোমর সমান পানি ডুবিয়ে দেয় বলে ভুক্তভোগি নুরুল আলম(নিম) জানান।আর বাস্তব সত্যতা পাওয়া যায় আজ মঙ্গলবার সকাল১১টায়। এখনো পর্যন্ত ঐ নিচু এলাকাটির স্থানীয় বাসির উঠানে, বসত ঘরে, পাক ঘরে আর চলাচল রোডেও নোংরা-ময়লা,গ্রীন-কালো রঙ্রে পানি জমে থাকার দৃশ্য প্রতিয়মান।
৩৯নং ওয়ার্ড দক্ষিণ হালিশরের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা(সুপার ভাইজার) এবং কাউন্সিলর প্রতিনিধি(মেম্বার) হাজী মোঃ ফরিদ স্পষ্ট করে বলেন যে, খালের বাইরের অংশে আমরা কাউন্সিলরের নির্দেশে অধিক লোকবল দিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করলেও বেপজার ভিতরের অংশে আমাদের অনুমোদি না থাকায় ৭নং খাল টির বেশ অংশে পানি আটকে এই চরম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পাবে বলে মনে করেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত বলেও এই প্রতিনিধি(মেম্বার) সংবাদ মাধ্যম কে জানান।
এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের স্থায়ী বাসিন্দার মহিলা জানান,বাড়ীর উঠানে হাটা-চলা,বারান্দায় বসা এবং ছেলে-মেয়ে প্রচন্ড গরমে বাতাসেও বসতে পারছি না এই জমাট নোংরা-ময়লা পানির কারণে। আর আমাদেও ছোট-ছোট ছেলে মেয়েদের মারাত্মক পানি বাহিত রোগ দেখা দিয়েছে,ডাইরিয়া, কলেরা,সর্দি-কার্শির মতো কঠির রোগে ও আক্রান্ত হচ্ছি।আর ঐ নোংরা –ময়লা মিল কারখানার পানি গুলো বাড়ীতে এসে পড়ায় গাছ পালা মারা যাচ্ছে ,পুকুরে ধোয়া-মোছা এবং আশ-পাশের পরিবেশও র্দুষণ হবার কথাটি জোর দিয়েই বলেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রসঙ্গে বেপজার (কেইপিজেড) জি.এম কে গত ১২,১৩,১৫এপ্রিল এর আগ পরে ২/৩বার উত্তর জানতে চেয়েও কোন জবাব পাওয়া যায় নি। সংবাদ মাধ্যম কে জানানোর বিষয় নই বলে নিম্ম কর্তাকে অন্যকাজ করতে বলেন বেপজার (কেইপিজেড) জি.এম স্টার্ফে এক অফিস সহকারী । তাছাড়া বেপজার চেয়ারম্যান কে বিষয়টি জানাবেন বলে জি.এম’র সচিব (নাম না জানানো) শর্তে বলেন॥ তবে এক অফিস সহকারী জানান, চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ কে জানালে তারা ভিততে আসতে অনিহা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। যাই হোক ভুক্তভোগিরা বেপজার উদাসিনতা কেই দায়ি করেছে বার বার। উচ্চ প্রশাসন জনগুরুত্ব এলাকাটিকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা