বেতন ১০ তারিখের মধ্যে, বোনাস ১৪ জুলাই

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ
তৈরি পোশাক খাতসহ সব কারখানায় শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন ১০ জুলাই এবং উৎসবভাতা ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার সরকার, গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি’র সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জানিয়েছেন।

পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে প্রতি বছরই ঈদের আগে বিভিন্ন কারখানায় বিক্ষোভ-অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে অনেক সময় মহাসড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ধাপে ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বলা হয়েছে। ঈদের আগে ৪-৫ দিন ধরে তারা যেন বাড়ি ফিরতে পারেন।

পোশাক কারখানাগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-ভাতা দিতে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আশা করি, ১৪ জুলাইয়ের আগেই শিল্প কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের উৎসব ভাতা দেবেন। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি ১৪ তারিখের মধ্যেই উৎসব ভাতা দিতে।

“বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, অ্যামপ্লয়্যার্স ফেডারেশন সরকারকে বিমুখ করবে না। …আমি আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই বেতন-বোনাস দিয়ে দেবেন, এর ব্যত্যয় হবে বলে মনে করি না।”

শ্রম আইনে শ্রমিকদের বোনাসের বিষয়টির উল্লেখ নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদে বোনাস পায়, তাই মালিকদের অনুরোধ করে শ্রমিকদের বোনাস দিতে আমরা কনভিন্স করেছি।”

সব পোশাক কারখানায়ই তদারকি করা হয়েছে উল্লেখ করে চুন্নু বলেন, পোশাকখাতে চার হাজারের মতো কারখানা আছে। সেখানে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে।

কমপ্ল্যায়েন্সসহ নানা কারণে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ’ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে জানিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অনেক বড় বড় কমপ্ল্যায়েন্স ফ্যাক্টরি এক্সপান্ড হচ্ছে। বেকার শ্রমিকরা সেখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।”

“কিছু কারখানা বন্ধ হতেই পারে, সমস্যা হতে পারে। তবে বড় কোনো সমস্যা নেই। বড় কোনো সমস্যা যাতে না হয় সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।”

বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ছাড়াও পোশাক কারখানার মালিক-শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।