বৃষ্টি ভেজা গরমের ফ্যাশন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৭ জুন , ২০১৩ সময় ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

এই বৃষ্টি তো এই কাঠ ফাটা রোদ্দুর! রোদের গায়ে ভর দিয়ে আসা তীব্র গরমে জীবন অতিষ্ঠপ্রায় সবার! ইচ্ছেমতো ফ্যাশন করতে পারো না বলে তোমাদেরও মেজাজ খিটখিটে খুব। স্টাইলিস টিনএজাররা, এই আবহাওয়ায় তোমাদের উপযুক্ত ফ্যাশনের খোঁজ দিতে সাজানো image_1422_347902.gifহলো বিশেষ আয়োজন।
লিখেছেন প্রীতি নাহার
শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতেই হঠাৎ করে বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় তোমাদের, জানি। শারীরিক মানসিকভাবে কখনও বাহ্যিক আবার কখনও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলোর সম্মুখীন হওয়ার পর এতে মানিয়ে নেওয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাই বলে টিনএজারদের দুরন্তপনাকে থামানোর সাধ্য কার, বলো?
বয়স আর দৃঢ়তার সংমিশ্রণে টিনএজে এসে তোমরা যেমন চঞ্চল হয়ে ওঠো, তেমনি থাকো প্রাণবন্ত। এই অসহ্য গরমের আস্ফালনের সাধ্য নেই তোমাদের দস্যিপনাকে থামিয়ে রাখার। সাধ্য নেই তোমাদের আটকে দেওয়ার। তোমরাই বরং উল্টো ইচ্ছেমতো সেজে, ইচ্ছেমতো ফ্যাশন করে সূর্যকে ঠোঁট উল্টিয়ে বলো, ‘পারলে ঠেকাও!’
তবে প্রতিদিন ক্লাস, আড্ডা, ঘোরাঘুরির মধ্যে খাওয়াদাওয়া, ঘুম, শারীরিক মানসিক পরিচর্যা কিছুটা যে ব্যাহত হবে_ সেটা অস্বাভাবিক নয়। তবে এত ব্যস্ততার মাঝে এই তীব্র গরমের কালে নিজের প্রতি একটু অন্যরকম খেয়াল তো রাখতেই হবে, তাই না? আর নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাটাও কিন্তু সহজ কাজ নয়।
এই আবহাওয়ায় তোমরা ত্বক চুলের যত্ন কীভাবে নেবে, সে পরামর্শ আমরা জানতে চেয়েছিলাম রূপ বিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন মিউনির কাছে। তিনি বললেন, ‘আমার কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, সুস্থ শরীর, সুন্দর ত্বক চুল। তবে এটাও সবসময় মনে রাখতে হবে যে, অভ্যন্তরীণ সুস্থতা বজায় রেখেই কেবল বাহ্যিক সুস্থতা অর্জন করা সম্ভব। আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার খাই, যেভাবে জীবনযাপন করি, তা থেকেই আমাদের ত্বক চুল পুষ্টি পায়। আর বাইরের ধুলোময়লা, সানবার্ন, ব্রণ ইত্যাদি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন, সঠিক ডায়েট, ঘুম পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতা।
১৩ থেকে ১৯, অর্থাৎ টিনএজ ছেলেমেয়েদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় বলে আমি মনে করি। তবে যদি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান, দাওয়াত বা পার্টিতে যেতে হয়, সে সময় কিছুটা মেকআপ নিলে মন্দ হয় না; তবে তা অবশ্যই হতে হবে লাইট মেকআপ। চাইলে চুল নিয়েও করা যেতে পারে কিছুটা এক্সপেরিমেন্ট!’
এই রূপ বিশেষজ্ঞ তোমাদের দিয়েছেন গরমোপযোগী কিছু মেকআপ হেয়ার স্টাইল টিপস। চলো সেদিকে চোখ বুলানো যাক_
ত্বক
দিনের মেকআপের বেজ হালকা হওয়া বাঞ্ছনীয়। তোমাকে এমনভাবে মেকআপ নিতে হবে, যাতে সেটি তোমার ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলে যায়। এক্ষেত্রে টিনটেড ময়েশ্চারাইজার বা লিকুইড ফাউন্ডেশন ভালো। তবে ত্বক পরিষ্কার মসৃণ থাকলে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার দরকার নেই। তুলোয় অ্যাস্ট্রিনজেন্ট লোশন মেখে ত্বকে লাগিয়ে নিতে পারো। অ্যাস্ট্রিনজেন্ট লোশনওপেন পোরসবা খোলা লোমকূপের সমস্যা কমায়, ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করে।
এরপর কমপ্যাক পাউডার অথবা বেবি পাউডার লাগাতে পারো মুখে। তবে নাক, কপাল থুতনির মতো তেলতেলে জায়গায় তা লাগাতে হবে। মেকআপ করার আগে খেয়াল রেখো, তুমি কোন ধরনের লাইটে যাচ্ছ, সেখানকার তাপমাত্রা কেমন থাকতে পারে। সেই অনুযায়ী বেজটা করতে হবে।
দিনের বেলায় ব্লাশন ব্যবহার না করাই ভালো; তবে করলে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে এবং অবশ্যই ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে। চোখ
চোখের মেকআপের ক্ষেত্রে পেন্সিল ব্যবহার করা ভালো। কোনো রঙিন কাজল, সঙ্গে দুই কোটে মাশকারা লাগালেই হয়ে যাবে চোখের মেকআপ! সঙ্গে ব্রাউন বা গ্রে আইশ্যাডোতে একটি সফট এফেক্ট তৈরি হবে। এটুকুতেই চোখ উজ্জ্বল দেখাবে।
ঠোঁট
ঠোঁটের জন্য পেল্গন গল্গস বা ন্যাচারাল কালার লাইট লিপস্টিকই যথেষ্ট। ত্বকের সঙ্গে মানানসই হলে মভ বা পিংকের মতো হালকা প্যাস্টেল শেডের লিপস্টিক বেছে নিতে পারো। গাঢ় রঙের কিছু ঠোঁটের জন্য ট্রাই না করাই ভালো। জানো তো, গাঢ় রঙে অল্প বয়সী লুকটা হারিয়ে যায়!
চুল
টিনএজার মেয়েদের সবচেয়ে বেশি ভালো দেখায় বেনিতে! তবে বৈচিত্র্য আনতে হরেক রকমের বেনি করা যেতে পারে। কখনও সাধারণ বেনি, কখনও ফ্রেঞ্চ বেণী, অথবা ছাড়া চুলে চিকন স্টাইলিস্ট বেনি_ যেকোনো বেনিই তোমাকে করে তুলবে দারুণ স্টাইলিশ! আর কম সময়ের মাঝে চুল বাঁধতে হলে পনিটেইলই সবচেয়ে ভালো। এই বয়সে লম্বা চুলের স্টাইলই ভালো লাগে।
তবে চুল লম্বা হোক বা ছোটই হোক চুলের কোয়ালিটি গুরুত্বপূর্ণ। আর ছেলেরা যতটা সম্ভব চুলে ছোট কাট দেওয়ার চেষ্টা করো সময়ে। গরমে বড় চুলের ফ্যাশন তোমার জন্য অস্বস্তি বয়ে বেড়াতে পারে।
ফ্যাশন
তো গেল সাজসজ্জার কথা, এবার আসি ফ্যাশনের আলাপে! বয়সী ছেলেমেয়েরা স্বভাবতই দারুণ স্টাইলিশ হও। তোমরা ফ্যাশন নিয়ে নিরীক্ষা করো প্রতিনিয়ত, ক্যারি করতে পারো যেকোনো স্টাইল। আর তোমাদের হাত ধরেই আসে নতুন নতুন সব ফ্যাশনেবল ট্রেন্ড। তবে এই গরমে ফ্যাশনের সঙ্গে আরাম স্বাচ্ছন্দ্যের কথাটাও মাথায় রেখো। সুতি বা খাদি কাপড় হতে পারে সময়ে আদর্শ। মেয়েরা ফতুয়া, কুর্তা, শর্ট কামিজ, ফতুয়া টাইপ টিশার্ট_ এসব পোশাক পরতে পারো। আর ছেলেরা ফতুয়া টিশার্টেই পাবে সবচেয়ে বেশি আরাম। আর এসবের সঙ্গে জিন্স বা থ্রিকোয়ার্টার প্যান্ট মানিয়ে যায় বেশ।
রঙের ক্ষেত্রে নীল, সাদা, গোলাপি, লেমন ইয়েলো _ ধরনের হালকা শেডের রঙগুলোই বেশি আরামের হবে। স্লিভলেস অথবা ম্যাগি হাতা পরলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। ত্বক সুরক্ষিত রাখতে থ্রিকোয়ার্টার হাতাও পরতে পারো।
একটি মজার কাজ করতে পারো! দুইতিন রঙের সংমিশ্রণে, অর্থাৎ কন্ট্রাস্ট করে পরতে পার পোশাকগুলো। সালওয়ার, কামিজ, ওড়না, স্কার্ফ, ভ্যান্ডানা_ একেকটি একেক রঙের হলে দারুণ রঙিন আকর্ষণীয় হবে লুকটা। একটু চেষ্টা করেই দেখ না!

সূত্র -শৈলী


আরোও সংবাদ