বৃষ্টি তুমি সুখি হও

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট , ২০১৬ সময় ১০:৪৩ অপরাহ্ণ

ইমরানুল হক বেলাল

লাইটনিরব-নিস্তব্ধ রাএি। লাইট পোসট গুলো দাঁড়িয়ে আছে শহর আলোকিত করে। দূরে কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। রাত প্রায় তিনটা পঁচিশ মিনিট।বাইরে নিঝুম আঁধার। কোন টু শব্দ নেই। সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। চারিদিকে শোনা যাচ্ছে ঝিঁঝি পোকার ডাক। কিন্তু এ মুহূর্তে নীলের কিছুতেই ঘুম আসছে না। শীতে গা একটু একটু কাঁপছে। নীলের অকৃতজ্ঞ নারীটার কথা বারবার মনে পড়লো, চোখের সামনে ভেসে উঠেছে সেই রহস্যময়ী অকৃতজ্ঞ নারী, বৃষ্টির সিগ্ধ -সুন্দর মায়াবিনী মুখচছবিটা । মানুষ যে মানুষের সঙ্গে কখনো এত বড় প্রতারণা করতে পারে বৃষ্টিই সেটা প্রমাণ দিয়ে গেল। বৃষ্টিকে সমস্ত মন-পাণ উজার করে ভালোবেসেছিল নীল।
বৃষ্টির প্রতি নীলের ভালোবাসা ছিল সম্পুর্ন সমুদ্রের মতোই অসীম ও গভীর।
বৃষ্টিকে ভালোবাসার দোষটা নীলের নয়। বৃষ্টিই একদিন তার শূন্য হৃদয়ে সুখের প্রদীপ জ্বালিয়ে ছিল। এসেছিল বন্ধুত্বের প্রতি শ্রুতি নিয়ে। নীলের সাথে বৃষ্টির পরিচয় হয়েছিল পএ-মিতালীর মাধ্যমেই,তার পর ফোনে আলাপ…।
ফোনে প্রতিদিন কথা হতো।
এক সময় বৃষ্টির মেসেজ নীলকে মোহাবিষ্ট করলো।
এভাবেই চলতে থাকে তাদের আদান -প্রদান। এমন অবস্থা হলো যে প্রতিদিন বৃষ্টি SMS না পাঠালে নীল সে রাতে প্রায় না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিত।
নীলের শরীরের গঠন, চেহারা-দোহারা চমৎকার না হলে ও কথাবার্তা, চালচলন, পএ-পএিকায় লেখালেখিতে ছিল তার অসাধারণ গুণ।
সেই গুনে মুগ্ধ হয়ে বৃষ্টিই প্রথম নীলকে ভালোবাসার কথা শোনায়।
জন্মের পর থেকে মা-বাবা ছাড়া বৃষ্টির কাছেই ভালোবাসার কথা শুনল নীল। বৃষ্টির কাছে জানতে চেয়েছিল, ‘কেন তুমি আমাকে
মিথ্যা আশা দিচ্ছ?’
আমাকে দেখলে তোমার ভালোবাসতেই ইচ্ছে করবে না। কারণ, আমি দেখতে সুন্দর নই, তুমি কি আমাকে স্বপ্নের পুরুষ হিসেবে তোমার বুকে স্থান দিতে পারবে?
তুমি কি চিরজীবন আমার স্বপ্নের রাণী হয়ে থাকতে পারবে?
পৃথিবীতে সবচেয়ে সুখের জিনিস যদি ভালোবাসাটাও মিথ্যে হয়ে যায়? ‘
তার জবাবে বৃষ্টি বলেছিল, শোন নীল, আমার সুন্দর পুরুষের দরকার নেই। আমি শুধু চাই সুন্দর একটা মন। আমার কাছে তোমার মনটাই বড়। আর যদি অসুন্দর হয়েই থাক তাই বলে কি আমাদের ভালোবাসা শেষ হয়ে যাবে?
তারপর একদিন বৃষ্টি নীলের কাছে দু ‘কপি রঙিন ছবি চাইল। নীল ছবি পাঠানোর পর সেও পাঠালো। ছবিতে দু ‘জন দু ‘জনকে দেখেই পছন্দ হলো।
যাকে বলে প্রথম দর্শনেই প্রেম । তাই তো বৃষ্টিকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে মন-প্রাণ উজার করে ভালোবেসেছিল নীল। তারপর দিনের পর দিন তাদের ভালোবাসা আরো গভীর হয়। এভাবে প্রায় দীর্ঘ দু’টি বছর কেটে যাওয়ার পর একদিন হেমন্তের এক শুভ বিকেলে দু ‘জনে দেখা হয়। পৃথিবীর সমস্ত শুদ্ধতা দিয়ে হৃদয়ের শুদ্ধ অঙ্গনে নীল বৃষ্টিকে বসাতে চায়।
কিন্তু মানুষ যে নিয়তির হাতে খেলার পুতুল!
সেদিন বৃষ্টিকে প্রথম দেখার পর কেমন যেন বারবার এড়িয়ে যাবার ভাব মনে হচ্ছে।
দু’চোখের দৃষ্টি- ভঙ্গি দেখে মেয়েটির ছলনা খুব সহজেই বুঝতে পারল নীল। অপমানের তীব্র কষ্টে নীলের চোখ দুটো জলে ভরে গেল। তবুও কষ্টটাকে কিছুক্ষণ কন্ট্রোল রেখে একটা পরাজয়ের হাসি হেসে বলল, “আচ্ছা সত্য করে বলতো, আমাকে তোমার ভালো লাগছে?”
জবাবে বৃষ্টি কিছু বলেনি।আরেকবার যখন নীল জানতে চাইল,উওরে বৃষ্টি বলল, কেন ভালো লাগবে না নীল?
-তারপর ও এখানে পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার থাকতে পারে।
জবাবে বৃষ্টি বলেছিল,যদি বলি ভালো লাগেনি?’
-ভালো না লেগে থাকলে আর কি করবো? কেউ চলে যেতে চাইলে তাকে জোর করে ধরে রাখা যায়না। কারণ, মনের ওপর কারো জোর নেই।
-তোমার ভীষণ কষ্ট হবে বুঝি?
-তাতো হবেই। তুমি এমন করে কথা বলছ কেন? শোনো, জানামতে আমি তোমার কাছে কোন অপরাধ করিনি। তারপর ও যদি অজান্তে করে থাকি আমাকে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখো। তবুও কষ্ট দিওনা।
বৃষ্টির চোখ দুটো জলে ছলছল করছে। সে ভাবতে লাগল,নীলের মতো এ ধরনের ছেলেদের সঙ্গে খেলা করা যায় না।
বৃষ্টির চোখে পানি দেখে নীল বলল, সে কি, তুমি কাঁদছ…!
আমি কি তোমার মনে কষ্ট দিয়েছি?
-না
-তাহলে কাঁদছ যে….?
-কি বলবো আমি কিছু বুঝতে পারছিনা।
তার পরের কাহিনী অতি সংক্ষেপ।
শেষ বিদায়ের সময় অশ্রুভেজা কন্ঠে বলে গিয়েছিল, চিঠি লিখো…,
খোঁজ খবর নিও।
সেই যে গেল আর ফিরে আসেনি।
একটা চিঠি ও দেয়নি।
অনেকদিন কেটে যাওয়ার পর
হঠাৎ একদিন বৃষ্টি ছোট্ট একটি চিরকুট লিখে নীলের কাছে পাঠায়। তাতে বৃষ্টির হাতের লেখা ঝরঝরে কয়েকটা লাইন –
নীল তোমাকে ভালোবেসেছিলাম,আগে তোমার প্রতি যতটুকু টান ছিল, দেখা হওয়ার পর থেকে এখন আর টান নেই। কারণ, তোমাকে দেখতে যে রকম আশা করেছিলাম তুমি দেখতে সেই রকম নয়। তাই ভালো লাগেনি। আমি এমন ছেলে চেয়েছিলাম সে হবে সুন্দর।
নীল তুমি আমাকে ভুলে যাও। বিশ্বাস করো তোমাকে কষ্ট দিতে চাই নি। কি আর বলব আমার মনের আশা পুরনো হলো না। শেষান্তে ভালো থেকো। ইতি -বৃষ্টি।
চিরকুটটি পেয়ে নীলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তার মধ্যে যেন কোন চেতনাবোধ নেই। সে যেন মুহূর্তেই পাথরের মূর্তি হয়ে গেল। হালকা নীলাভ রঙের শার্টটায় তার অশ্রু ফোঁটা গুলো টুপ টুপ করে পড়তে লাগল।এরপর অবাক নয়নে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল-এই কি ছিল বৃষ্টির ভালোবাসা? কি অপরাধ ছিল আমার? কেন সেই মেয়েটি মিথ্যা ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিল?
নিজে নিজে বিড়বিড় করে বলতে লাগল,বৃষ্টি আমাকে কষ্ট দিয়ে যদি সুখী হতে পার সুখি হও। তোমার সুখ দেখে না হয় আমি আমার সুখ খুঁজে নেব।


আরোও সংবাদ