বৃটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ক অধিবেশন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বৃটেনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৫:০০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের ওয়েষ্টমিনিষ্টার হলে আয়োজিত অধিবেশনে শ্যাডো ইন্টারন্যাশনাল ডেভোলাপমেন্ট মিনিষ্টার গেভিন শুকার এমপি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারনে বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠুৃ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়নি। তাই গত ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়নি সে মর্মে আন্তর্জাতিক মহলের বিবৃতি দেয়া উচিত। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন না ঘটা এবং নতুন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্বসম্প্রদায়ের আহ্বান বিষয়ে তিনি বলেন, বৃটেনের এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সকল রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান। বুধবার কনজারভেটিভ এমপি ফিলিপ হোলোবনের সভাপতিত্বে ও গেভিন শুকার এমপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন লেবার এমপি এন্ড্রু স্মিথ, জিম কানিংহাম ও কনজারভেটিভ এমপি রেহমান চিশতি। জিম কানিংহাম এমপি বাংলাদেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধে সরকারের উপর জাতিসংঘের চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। লেবার এমপি এন্ড্রু স্মিথ বলেন, আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন না করায় এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কনজারভেটিভ এমপি রেহমান চিশতি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি সময়সীমা দেয়ার কথা উল্লেখ করলে গ্যাভিন শুকার বলেন, কারও উপর সময়সীমা চাপিয়ে দেয়া যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের মাধ্যমে এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছতে হবে। ’গেভিন শুকার বাংলাদেশে চলতি বছরে ৭৫০ কোটি পাউন্ড উন্নয়ন-সহায়তা বরাদ্দ থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই অর্থ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো আর নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। তিনি বাংলাদেশে ব্রিটিশ সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ না করে জরুরি ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান। সমাপনী বক্তব্যে ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ অফিসের মিনিষ্টার অব স্টেট হিউ রবার্টসন বলেন, নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ ও সহিংসতায় বৃটেন সবসময় হতাশা প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের সময় এই সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়াতে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ জরুরি।