বুধবার থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ক্লাস ও পরীক্ষা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:১০ অপরাহ্ণ

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা টানা কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আগামীকাল বুধবার থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ক্লাস ও পরীক্ষা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ফেডারেশনের দীর্ঘ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।

বুধবার থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ক্লাস ও পরীক্ষাফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে ফেডারেশনের নেতাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে কর্মবিরতি স্থগিত করছি, প্রত্যাহার করি নাই। এটা আন্দোলনের অংশ। যদি আমাদের দাবি খণ্ডিত আকারে বাস্তবায়ন বা বিলম্ব করা হয় তাহলে ফেডারেশন তা গ্রহণ করবে না।’

তিনি দাবি বাস্তবায়নের সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, ‘আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির আগে যদি দাবি বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে ওইদিন ফেডারেশনের সভায় পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’ এ সময় তিনি আগামীকাল থেকে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে আমাদের দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি। বৈঠকে সচিবরা যুক্তি দিয়েছে আর আমরা যুক্তি খণ্ডন করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন। আমাদেরকে অনুরোধ করেছেন কর্মসূচি প্রত্যাহার করার জন্য।’

এদিকে বৈঠকে ৩৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগেই কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন নীলদল। মঙ্গলবার বেলা ১টায় টিএসসি মিলনায়তনে নাজমা শাহীনের সভাপতিত্বে আলোচনায় বসে তারা এ ঐক্যেমতে পৌঁছান বলে বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সদস্য প্রফেসর ড. নিহামুল হক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছি। আমরা মূলত নিজেদের করণীয় বিষয়ে এ আলোচনায় বসি।’

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে সঙ্কট কাটবে বলে প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এখন যদি আমলারা ঝামেলা করেন বা যেকোনো কারণে দাবি আদায় পিছাতে থাকে তাহলে আবার আমরা আন্দোলনে ফিরবো।’

প্রসঙ্গত, গত ১১ জানুয়ারি সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। ওইদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম পে-স্কেলে শিক্ষকদের অবনমনের প্রতিকার ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এ কর্মবিরতির চলে আসছিল। সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ ছিল।

এই কর্মবিরতিতে যাওয়ার আগে আরো দুইদিন কর্মসূচি পালন করা হয়। ৩ জানুয়ারি একই দাবিতে শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। ৭ জানুয়ারি স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শিক্ষকরা।

গত ২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এরপর ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের মুজাফফর আহম্মেদ চৌধুরী মিলানায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন। যদিও তা নয়দিনের মাথায় প্রত্যাহার করে নেয়া হলো।