বুদ্ধি বাড়াতে খাবার

প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

ইংরেজিতে ‘উইজডম’ আর বাংলায় ‘জ্ঞান’। যদিও প্রাচ্যের ধারণায় জ্ঞান আসে অভিজ্ঞতা থেকে, আর অভিজ্ঞতা আসে বয়স থেকে। আর এরই মাঝে সময় আর জ্ঞানের সম্মিলনে মানুষের বুদ্ধি বাড়ে। যার নেই কোনো নিজস্ব মানদণ্ড। তবুও বিদ্যাশিক্ষার ফলেই যে জাগতিক বিষয়ে বুদ্ধি বাড়ে জ্ঞানকে পাশাপাশি রেখে তা মোটামুটি সব মনিষীই বলে গেছেন। তাই বলে, যারা শিক্ষিত নন তারা কি তবে বুদ্ধিমান নন? কালিদাস পন্ডিত যে ডালে বসেছিলেন সেই ডালই নাকি তিনি কাটছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্কুলের গন্ডিই পেরুতে পারেননি। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কলেজের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। তাই বলে কি তাদের বুদ্ধি কম ছিল?

বুদ্ধি আসলে, মানুষের জীবনে সার্বিক ক্ষেত্রের প্রয়োগিক জ্ঞানের যথার্থতা। সেই বুদ্ধি বাড়াতে দরকার উর্বর মস্তিষ্ক। আর উর্বরতা ধরে রাখতে চাই সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় স্বাস্থ্যকর খাবার। কারণ প্রাচ্য এবং পাশ্চত্য দুই জায়গাতেই ভোজন এবং ভোজনরসিকতা পেয়েছে এক বিজ্ঞানসম্মত রূপ। তাই কোন কোন খাবার মানুষের বুদ্ধি বাড়াতে কিংবা মস্তিস্কের জন্য ইতিবাচক তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মাছের তেল
মাছের তেলে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা অন্য খাবারে পাওয়া দুষ্কর। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই এসিড বেশ কার্যকরী। স্যামন, ম্যাকরেল, সারডিন, কডের মতো সামুদ্রিক মাছে আছে প্রচুর ফ্যাটি এসিড। এই ফ্যাটি এসিড মস্তিষ্ক, চোখ ও স্নায়ুতন্ত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে দু’দিন এইরকম মাছ খেতে পারলে মস্তিষ্ক থাকবে সতেজ।

ডিম
সু-স্বাস্থের জন্য প্রতিদিন খাবার প্লেটে একটি করে সেদ্ধ ডিম রাখা জরুরী। ডিমে থাকে প্রচুর আয়রণ। যা লোহিত কণিকা তৈরি করে রক্তের উপাদানে সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ সহজ করে। যা বুদ্ধি বাড়াতে কার্যকর।

গ্রিন টি
মস্তিস্ককে সঠিক মাত্রায় আর্দ্র রাখতে পারলে নিখুঁত কাজ করা সম্ভব। সাধারণত মস্তিষ্কের ৭০ শতাংশ আর্দ্র থাকা চাই। তাই যখনই ক্লান্ত লাগবে, এক কাপ গ্রিন টি পান করে নিন। এতে আছে পলিফেনল যা ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সহায়ক। নিমেষে চনমনে হয়ে উঠবেন। সেইসঙ্গে স্মৃতি শক্তির উন্নতি ঘটবে।

পাতাসহ সবজি
সবুজ রঙের পাতাসহ সবজি শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও পুষ্ট করে। প্রতিদিন খেলে স্মৃতি বিলুপ্তির মতো ঘটনা থেকে রেহাই পাবেন। বিশেষ করে পালং শাক, পুইশাক, ব্রোকলি, ফুলকপি খাওয়া খুব উপকারি। কারণ, এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফলিট, বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন- সি।

ডার্ক চকলেট
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন- ডার্ক চকলেট মস্তিস্কের জন্য খুব উপকারী। এতে থাকে ৭৫% কোকো যা সাধারণ কোন চকোলেট থাকে না। পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ আপনার শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া মস্তিষ্কে নিউরন তৈরি করে যা নতুন বিষয় মনে রাখতে সাহায্য করে। এমনকি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে ডার্ক চকলেট।

বাদাম
বাদামে থাকে ভিটামিন ‘ই’ যা মস্তিষ্কের সমন্বয় সাধনের ক্ষমতা বাড়ায়। কাজুবাদাম, পেস্তা, চীনাবাদাম, যে কোন ধরণের বাদামই আপনি ব্যবহার করতে পারেন। বাদাম খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো রাতে ঘুমানোর আগে অথবা একদম সকালে।

বীজ
তিল, সূর্যমূখীর বীজ অথবা মিষ্টিকুমড়ার বীজ মস্তিষ্কের জন্য দারুন ভালো। এতে আছে জিঙ্ক যা চিন্তাশক্তি বাড়ায়।

ডালিমের জুস
ডালিমের জুসে আছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা ফ্রি র‌্যাডিকেল এর বিরুদ্ধে কার্যকরী। পরীক্ষার দিনে আধাকাপ ডালিমের জুস আপনার কর্মক্ষমতা দারুন বাড়াবে।