বিয়ের নামে প্রতারণা!

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১ জুন , ২০১৭ সময় ১০:০৪ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও/কক্সবাজার প্রতিনিধি: বরপক্ষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে খালি হাতে ফেরত দিলো কনেপক্ষ। শুধু তাই নয়, বরপক্ষের হাতে বউ ও তুলে দেয়া হলো না। উল্টো অসম্মান করে খালিমুখে বিদায় করলো কনেপক্ষ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীতে।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, ঈদগাঁও জাগির পাড়ার মরহুম নুর আহমদের পুত্র মো. আমানু সওদাগরের সাথে ভারুয়াখালী বানিয়া পাড়ার আমির হোসেনের কন্যা মোছাম্ম রুমা হোসেন (রুনা) এর সাথে সামাজিকভাবে গত ৮ মাস আগে বিয়ের কাবিন নামা সম্পাদিত হয়। মেয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। কাবিনের পর থেকে বর আমানু হবু স্ত্রীর বাড়ীতে আসা-যাওয়াসহ তার পড়ালেখার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে আসছিল। শেষে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণ ও আনুষাঙ্গিক আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। যথারীতি বরপক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টরা বউ আনার জন্য নির্ধারিত তারিখে কনের বাড়ীতে যান। সেখানে তারা দেখতে পান যে, বিয়ে বাড়ীর মত আয়োজন করা হয়েছে। এসময় কনেপক্ষ বরপক্ষের অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য খাবারের টেবিলে বসান। প্লেটও সরবরাহ করেন। ইত্যবসরে কনেকে সাজানোর নামে বরপক্ষ থেকে সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৫৩ হাজার টাকার কাপড়-চোপড় কৌশলে নিয়ে নেয়। ঐদিন সকালে বরপক্ষ প্রায় ২২ হাজার টাকার প্রসাধনী সামগ্রী (সাজনী) পাঠান কনেপক্ষের জন্য। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কনে পক্ষের ইচ্ছা বাস্তবায়ন হয়ে গেলে কনেপক্ষের লোকজন টেবিলে প্রদত্ত প্লেটগুলি উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাদের লাঞ্চিত করে বউ দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এসময় বরপক্ষের লোকজন অনেক কাঁকুতি মিনতি করলেও কনেপক্ষ তাতে কোন সাড়া দেয়নি। এক পর্যায়ে বরপক্ষ নিরুপায় হয়ে খালি হাতে ও খালি মুখে ফেরত আসতে বাধ্য হন।
পরে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ সোহেল জাহান চৌধুরী, ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্র এএসআই মহি উদ্দীন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হাশেম প্রকাশ বিমান মৌলভীসহ বরপক্ষের সমাজের গণ্যমান্য লোকজন আবারো কনেপক্ষের বাড়ীতে গিয়ে বউ নিয়ে আসতে অনেক তদবীর চালান। কিন্তু কনেপক্ষ তাদেরকেও বউ ছাড়া বিদায় করে দেয়। শেষে উভয়পক্ষের লোকজন বিয়ের পরবর্তী শুক্রবার এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদে বৈঠকের কথা নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত ১ম বৈঠকে কনেপক্ষ হাজির না হওয়ায় ২য় বারে কনের বাড়ীতেই এ বিষয়ে সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ঐদিন বরপক্ষ সেখানে গিয়ে দেখতে পান যে, কনের বাড়ী তালাবদ্ধ। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের নিকট মালামাল জমা ও বৈঠকের সিদ্ধান্ত দিয়েও কনেপক্ষ তাতেও উপস্থিত হয়নি। বরং বরপক্ষের কাছে খবর এসেছে যে, কনেপক্ষ উল্টো বরপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। বর আমানু সওদাগর জানান যে, বিয়ে উপলক্ষে তার ১৫/২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারুয়াখালীর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতারণার ঘটনাটি সত্য জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কনেপক্ষ আমাকে আর কিছুই জানায়নি। ভবিষ্যতে কোথাও এ সংক্রান্ত বৈঠক হলে আমি যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব।