বিসিএস শিক্ষা সমিতির নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপিপন্থী প্যানেল

প্রকাশ:| বুধবার, ২১ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

বিসিএস শিক্ষা সমিতিবিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচনে [/four_fifth_last]
বিজয়ী হয়েছে বিএনপিপন্থী প্যানেল। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের শ্যালিকা ও টাঙ্গাইল করোটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক নাসরিন বেগম।

সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় ক্যাডারের এই নির্বাচনে সরকার সমর্থক শিক্ষকরা দু’টি প্যানেলে নির্বাচন করায় মহাসচিব ছাড়া অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদেই জিতেছে বিএনপি পন্থীরা। তবে প্রগতিশীলদের নতুন প্যানেল (বিভিন্ন ব্যাচের ফোরামের সমন্বয়ে গঠিত) ঢাকাসহ বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ সদস্যপদে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে।

প্রগতিশীল বলে পরিচিতি একটি প্যানেল থেকে মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষক আইকে সেলিম উল্লাহ খন্দকার।

দু’জন সহসভাপতি ও যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি পন্থী প্যানেল থেকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল বুধবার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি এবং কোন প্রার্থী কতো ভোটে বিজয়ী হয়েছেন, তাও নিরূপণ করতে পারেনি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

সরকার সমর্থক প্যানেলের ভরাডুবির কারণ সর্ম্পকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মহাপরিচালক এবং বিসিএস শিক্ষা সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন দাবি করেছেন, যারা সরকারের সুবিধা ভোগ করেছে, তারাই সরকারের সঙ্গে বেঈমানি করেছে।

ফাহিমা খাতুন শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে তারা দুই হাজার ভোটও পায়নি। অথচ মাসুম (মাসুমে রাব্বানী খান) অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে হেরেছে।’ তবে প্রগতিশীল সাধারণ শিক্ষকরা বিশেষত সাবেক ছাত্র লীগসহ বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা এর জন্য দায়ী করছেন সর্বশেষ কমিটিকে।

তাদের অভিযোগ, প্রগতিশীল প্যানেল দাবি করলেও সর্বশেষ কমিটির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রগতিশীলরা। অথচ বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বড় বড় পদের স্বাদ পেয়েছে। মূলত সাবেক কমিটির এমন অবস্থানের কারণে প্রগতিশীলদের মধ্যে ভাঙ্গন হয়েছে বলে বলছেন শিক্ষকরাই। এমনকি নির্বাচনে গ্রগতিশীলদের এক পক্ষ মাসুম-সেলিম পরিষদের অনেক প্রার্থীই গ্রগতিশীলদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিএনপি-জামায়াত প্যানেলের হয়ে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাসুম-সেলিম পরিষদের কয়েক প্রার্থী হতাশা প্রকাশ করে নিজ প্যানেলের এসব ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করতে সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

সরকার সমর্থকদের ভরাডুবির কারণ সর্ম্পকে শফিক- শাহেদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অধ্যাপক এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রচারণার জন্য মাত্র তিন কর্মদিবস ছিল। তাই ওই সময়ের মধ্যে সারাদেশে ঠিকমতো প্রচারণা চালাতে পারিনি।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু ঢাকায় ভালোভাবে প্রচারণা চালাতে পারায় এখানকার সবকটি কেন্দ্রেই আমি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছি। আর মাসুমের (মাসুমে রাব্বানী খান) বাধার কারণে অনেক কেন্দ্রে আমরা প্রচারণা চালাতে পারিনি। এ সুযোগে নাসরিন বেগম সুবিধা পেয়েছেন।’

তিনি জানান, ‘খোদ মহাপরিচালকের নিয়ন্ত্রণে থাকা খোদ শিক্ষাভবনে আমি পেয়েছি ৯০ ভোট, মাসুম পেয়েছে ৬৬ ভোট ও নাসরিন পেয়েছেন ৫০ ভোট। এতেই বুঝা যায়, সারা দেশের শিক্ষকরা আমাদেরই চেয়েছিলেন। মাসুমকে চাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম পেশাজীবিদের এই নির্বাচনে অরাজনৈতিক রাখতে। কিন্তু এবার এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে হয়েছে।’

উলেখ্য, নির্বাচনে এবার তিনটি প্যানেল অংশ নেয়, যার দু’টি সরকার সমর্থক এবং একটি বিএনপি-জামায়াত সমর্থক। সরকার সমর্থক একটি প্যানেলের সভাপতি প্রাথী হলেন সরকারি কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম শফিকুল ইসলাম ও মহাসচিব প্রার্থী হলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শাহেদুল খবির চৌধুরী (শফিক-শাহেদ পরিষদ)।

সরকার সমর্থক অপর একটি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী হলেন মানিকগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষক প্রফেসর মাসুমে রাব্বানী খান ও মহাসচিব প্রার্থী ঢাকা কলেজের শিক্ষক আইকে সেলিম উল্লাহ খন্দকার (মাসুম-সেলিম পরিষদ)। আর বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্যানেলটির সভাপতি প্রার্থী হলেন টাঙ্গাইল করোটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক নাসরিন বেগম ও মহাসচিব প্রার্থী হলেন সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের পিএস কেএমএএম সোহেল (নাসরিন-সোহেল পরিষদ)।

বলা হয়, প্রগতিশীলদের নতুন প্যানেল শফিক-শাহেদ পরিষদের নেপথ্যে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ এবং মাসুম-সেলিম পরিষদের নেপথ্যে ছিলেন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।

এদিকে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার খবর পেয়ে দুপুরে পল্টনস্থ বিসিএস শিক্ষা সমিতির কার্যালয়ে আসেন অধ্যাপক নাসরিন বেগম। তিনি দ্রুত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার জন্য নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ধমক দিয়ে বলেন, এতো দেরি হচ্ছে কেন? এতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন।

জানা গেছে, নাসরিন বেগম বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ছিলেন। তখন তার বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এছাড়া নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠায় ২০০৩ তাকে টাঙ্গাইল করোটিয়া কলেজে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। ফল সম্পর্কে সর্বশেষ বুধবার রাতে শফিক-শাহেদ পরিষদের সেমিনার সচিব প্রার্থী বিজয় কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমরা সারা দেশে মোট ১৩টি নির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছি। আর মহাপরিচালকের সমর্থিত প্যানেল থেকে কেবল মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছে।’ বাকি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে নাসরিন-সোহেল প্যানেল থেকে।

মঙ্গলবার বিসিএস শিক্ষা সমিতির নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ছিল ১০ হাজার ৩৬৬ জন। দেশের সব সরকারি কলেজ, মাদ্রাসা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থায় কর্মরত শিক্ষকরা ভোটার । মোট ১২৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সভাপতি ও মহাসচিব ছাড়াও সহসভাপতি দু’জন ও যুগ্মমহাসচিব দু’জন। মোট ১৮৮টি কেন্দ্রে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।