বিষাক্ত ও তৈলজাতীয় বর্জ্য প্রতিনিয়ত হালদা নদীতে পড়ছে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

বিপ্লব দে,হাটহাজারী>>বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডস্থ নন্দীর হাট এলাকার এশিয়ান পেপার মিল এর বিষাক্ত ও তৈলজাতীয় বর্জ্য দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে পড়া অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদী হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও প্রজননের জন্য আসা কার্প জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) মা-মাছ এবং নদীর জীববৈচিত্র খুব হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। এছাড়া এমন সব বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে পতিত হওয়ার ঘটনায় খোদ হালদা প্রকল্প পরিচালক ও জেলা মৎস্য অফিস মিল কতৃপক্ষকে সর্তক করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।হালদা নদী দূষণ
সূত্র জানায়, মিলের বিষাক্ত বর্জ্য পাশ্ববর্তী মরা ছাড়া হয়ে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মাদারী খাল দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে পতিত হচ্ছে। এতে করে নদীর মা-মাছ ও জীব বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে হালদা নদী হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। তাছাড়া গত বছর ১০০ মেগা ওয়াট হাটহাজারী পিকিং প্ল্যান্ট এর বর্জ্যেও হালদা নদীর পানি দূষিত হওয়ার ফলে পিকিং প্ল্যানট কর্তৃপক্ষকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল।
এশিয়ান পেপার মিলের বর্জ্যওে সংবাদ অবহিত হয়ে গত ৬ জুলাই বিকালে হালদা প্রকল্প পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতী দেব পেপার মিলের বিষাক্ত বর্জ্য পতিত হওয়ার দৃশ্য অবলোকন করে মিল কতৃপক্ষকে সর্তক করেন। আর যদি পরবর্তীতে এই মিলের বিষাক্ত বর্জ্য পাশ্ববর্তী মরা ছড়া দিয়ে এমন বর্জ্য উপজেলার বিভিন্ন শাখা নদী হয়ে হালদা নদীতে পতিত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। ওই দিন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও হালদা প্রকল্প পরিচালকের পরিদর্শনের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিলের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে অজ্ঞাত কারণে কতৃপক্ষ তাদের (সাংবাদিক) বাধা দেন।
তবে এই ব্যাপারে এশিয়ান পেপার মিলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো: শাহাজাহান এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, অনতিবিলম্বে আমরা এসব বর্জ্য যাতে হালদা নদীতে পতিত না হয় সেজন্য এখন থেকে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করছি।কিন্তু ৫ মাস অতিক্রিান্ত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
এদিকে হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও হালদা গবেষক মনজুরুল কিবরিয়া সাথে এই বিষয়ে আলাপকালে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন হালদা নদীতে পতিত হওয়া বর্জ্যের ব্যাপাওে যদি কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারচ্ছে না। তবে পদক্ষেপ গ্রহনে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহল অকার্যকর হওয়ায় কারণে প্রজননের জন্য আসা কার্প জাতীয় (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাইশ) মা-মাছ, নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং নদীর জীববৈচিত্র খুব হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। তাই এই হালদাকে এখন বাচিঁয়ে রাখা দূ:স্কর হবে।


আরোও সংবাদ