বাংলাদেশে ১মবারের মত গড়ে তোলা হয়েছে বিষধর সাপের খামার

প্রকাশ:| বুধবার, ১৩ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কাঁসাদহ গ্রামে ৮৩ শতাংশ জমির উপরে বাংলাদেশে ১মবারের মত গড়ে তোলা হয়েছে গোখরা সাপের ‘রাজবাড়ী স্ন্যাক ফার্ম’। এলাকার শিক্ষিত কয়েক যুবক মিলে গড়ে তুলেছে পরীক্ষামূলক এ সাপের খামার। খামারের ৩৫টি গোখরা সাপের একটি সমপ্রতি ১৪টি ডিম দিয়েছে। খামার শুরুর প্রাথমিক পর্যায়েই সাপ ডিম দেয়ায় উদ্যোক্তারা বেজায় খুশি। খামারে বিষধর সাপের খামারদাড়াস, খোয়া গোখরা, তেলে কালো গোখরা, কাল গোখরা, পঙ্খীরাজসহ ৪ প্রজাতির বিষধর গোখরা সাপ রয়েছে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খামার উন্মুক্ত করা হয়। একেকটি প্লাস্টিকের খাঁচার মধ্যে একটি করে গোখরা সাপ পালন করা হচ্ছে। খামারের ৩৫টি গোখরা সাপের বেশির ভাগই স্থানীয় বাসাবাড়ী থেকে উদ্ধার করা। সাপের এ খামারের অন্যতম উদ্যোক্তা ও মালিক মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু মল্লিক (৩১)। তিনি জানান, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে জৈব সার ও সাপের খামারের কিছু তথ্য পাই। পরে যোগাযোগ করি ঝিনাইদহের জৈব সার খামারি হেলাল উদ্দিন এবং পটুয়াখালীর সাপের খামারি আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে। হেলাল উদ্দিনের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের খ্যাতিমান কৃষিবিজ্ঞানী এম গুল হোসেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে গত বছরের প্রথম দিকে গড়ে তুলি সাপের খামার। এলাকাবাসী প্রথমে পাগল বলে আখ্যায়িত করলেও তারা এখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকায় এখন আর কেউ সাপ মারে না। কারও বাড়িতে সাপ ধরা পড়লে আমাদের খবর দেয়। আমরা গিয়ে বিষধর সাপের খামার১সাপটি উদ্ধার করে খামারে নিয়ে আসি। তিনি আরও জানান, তার খামারের সাপগুলোকে সপ্তাহে ১ দিন করে বয়লারের বাচ্চা খাওয়ানো হয়। ৭ দিনে ২ বার গোসল করাতে হয়। ১ দিন সাপের খাঁচা ও ঘর পরিষ্কার করতে হয়। সাপ ধরতে ও পালন করতে লাঠি, টং, হাত মোজা, গ্লোপস, পায়ে বড় বুট ব্যবহার করা হয়। বিষধর এই সাপ নিয়ে খেলা জীবনের সঙ্গে বড় বাজি। যখন তখন ঘটতে পারে মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা। তাই জেলার হাসপাতালে দরকার সাপের কামড়ের এন্টি ভেকসিন। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সাপের খামার করে বিষ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা অনেক সহজ। এতে খরচও অনেক কম। সরকারের সহযোগিতা ও খামারের নিবন্ধন পেলে তারা এ সাপের খামারের বিষ সংগ্রহ করে দেশের ওষুধের চাহিদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপশি অর্জন করতে পাবে বৈদেশিক মুদ্রা। খামারের স্বেচ্ছাসেবক প্রদীপ শীল জানান, তারা তাদের এলাকার ভাই ও বন্ধুদের নিয়ে এ সাপের খামারে কাজ করছে। খুব সতর্কতার সঙ্গে খামারে কাজ করতে হয়। এছাড়া পাশাপাশি তারা খামারে হাঁস-মুরগি, কবুতর, মাছসহ অন্যান্য উপার্জনের ক্ষেত্র তৈরি করবে। এ পর্যন্ত খামারের স্থাপনা নির্মাণসহ প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে তারা। মালিক মো. রবিউল ইসলাম রঞ্জু মল্লিকের মা আনোয়ারা বেগম (৬০) জানান, তার ছেলে রঞ্জু বিষাক্ত সাপের খামার করেছে। সে তার ছেলের জন্য সব সময়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া কামনা করেন। রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. নূরুজ্জামান জানান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের কাঁসাদহ গ্রামে বিষাক্ত সাপের একটি খামার গড়ে উঠেছে। রাজবাড়ী সরকারি কলেজের কয়েকজন উদ্যোগী ছাত্র এ খামারটি গড়ে তুলেছে। প্রকৃতিতে বিলুপ্ত প্রায় এই বিষাক্ত সাপ নিয়ে যে খামারটি গড়ে তুলেছে সেটি একটি ভাল উদ্যোগ।