‘‘বিশ্ব ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে’’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:৩১ অপরাহ্ণ

১৮১৮ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে ন্যায়বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিজেকেএস জিমনেশিয়াম চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, প‍ঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা হত্যা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশে হবে তা কেউ বিশ্বাস করতো না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করে আমাদের দায়মুক্ত করেছেন। এ জন্য বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু ও মার্কিন কূটনৈতিক শ্যারন বাংলাদেশে সাফল্য এবং অগ্রগতির স্বীকৃতি দিয়েছেন। দীর্ঘ ৬০ বছর পর ছিটমহলগুলো ঐতিহাসিক মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তারা আজ বাংলাদেশের নাগরিক। এই প্রথমবারের মতো তারা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে বিজয় দিবস উদযাপন করেছেন। আজ বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক সূচকে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ একদিন অবশ্যই উন্নত দেশে পরিণত হবে।

মুখ্য আলোচক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ইসহাক মিয়া বলেন, জিয়াউর রহামান একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছেন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসিত করেছেন। তিনি এই জাতিকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছেন। সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা সৈনিককে হত্যা করেছেন। এই জন্য তার মরণোত্তর বিচার হওয়া উচিত।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল পিপিএম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসররা এখনো বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য ওঁত পেতে আছে। যতদিন পর্যন্ত এদেশ জঙ্গিবাদ ও জামায়াত-শিবির মুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত মুক্তির সংগ্রাম প্রতিদিনই চলবে।

খ্যাতিমান নাট্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবিনাশী তাই বাংলাদেশকে কোনো শক্তি পদানত করতে পারবে না। বাংলাদেশ এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও পহেলা বৈশাখে বীর বাঙালির ঢল নামে তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যাবে না।

মুক্তিযোদ্ধা এমএন ইসলামের সভাপতিত্বে ও তপন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন শহীদ পরিবারে সন্তান, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। আলোচনা সভার আগে পরে বিপুল পাল ও পরিতোষ দাশের পরিচালনায় উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

শনিবার বিজয় মঞ্চে স্মৃতিচারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র। প্রধান অতিথি থাকবেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। মুখ্য আলোচক থাকবেন কমোডর (অব.) এ ডব্লিউ চৌধুরী বীর উত্তম, বীর বিক্রম। আলোচনা করবেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট শফিউল বশর, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক নওশের আলী খান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবেন ‘প্রমা’ ও ‘নির্মাণ আবৃত্তি একাডেমি’ এবং বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশন করবেন কুষ্টিয়ার লালন একাডেমি।