বিশ্বের স্মরণকালের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের আঘাতে ১’শ ২০ জন নিহত

প্রকাশ:| শনিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

বিশ্বের স্মরণকালের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের আঘাতে ফিলিপাইনে অন্তত ১’শ ২০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন এ মৃতের তথ্য জানিয়েছেন।১’শ ২০ জন নিহত

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় ঘূর্ণিঝড়টি ফিলিপাইনে আঘাত হানে। প্রথমে আঘাত হানে পূর্বাঞ্চলের সামার দ্বীপে। আর যে এলাকাগুলো মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে আশংকা করা হচ্ছে তার মধ্যে আছে গুইয়ান। সেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে যাদের অধিকাংশই জেলে।

ঘূর্ণিঝড়টির আঘাতে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় এই শহরটি প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ফিলিপাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপ-মহাপরিচালক ক্যাপ্টেন জন অ্যান্ড্রুজের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন।

লাশগুলো ট্যাকলোবানের রাস্তায় পড়ে ছিল বলে জানান অ্যান্ড্রুজ।

শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ৩৮৯ কিলোমিটার বেগে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ৪৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসও উপকূলে আঘাত হানে, পাশাপাশি ৪শ’ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

এতে ট্যাকলোবান শহরের ভবনগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। শহরের প্রায় সব ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্গত এলাকার বিদ্যুত্ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সময় ট্যাকলোবান শহরটি পানিতে ডুবে যায়।

বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরটিতে পৌঁছতে ত্রাণ সংস্থাগুলোর কর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে জান মালের ক্ষয়ক্ষতি আরো অনেক বাড়তে পারে। শুধু সামরিক বিমানযোগে শহরটিতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ড্রুজ।

দুর্গত এলাকা থেকে দ্রুত লোকজন সরিয়ে নেয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেছে ফিলিপাইন সরকার। লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার তুলনায় মৃতের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায়

১০ লাখ লোক ঝুকিঁপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সরে যায়।

তবে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা কয়েকদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে এবং অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাইয়ানের কারণে ১ কোটি ২০ লাখ লোক সঙ্কটজনক অবস্থায় আছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


আরোও সংবাদ