বিশ্বের বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হয়ে উঠতে পারবে-ড্যান মজীনা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:২৮ অপরাহ্ণ

usa
বাংলাদেশের উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য স্বাধীন ও উন্মুক্ত হলে চীনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হয়ে উঠতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পুর্ব জোন সদর দপ্তরে যুক্তরাস্ট্রের দেওয়া মেটাল শার্ক বোট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যত এশিয়ান টাইগার। চীনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক জুতো, চামড়াজাত পণ্যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মালবাহী নৌযান, জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যালস, হিমায়িত চিংড়ি, চীনামাটি, পাট ও রেশম এবং আরো অনেক পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হয়ে ওঠার জন্য সামুদ্রিক সংযোগ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ তখনই সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ হবে যখন পরিবারের সবার জন্য নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত পুষ্টিমানসম্মত খাদ্য, ভালো স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে।

মজীনা বলেন, এদেশের সমুদ্রসীমার সম্পদগুলো রক্ষার জন্য দেশের সামর্থ্য গড়ে তুলতে আমেরিকা বাংলাদেশের নির্ভরশীল অংশীদার। গত বছর ও তার আগের বছর বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীকে যে নৌযানগুলো প্রদান করেছিলাম আজকে এই ছয়টি নৌযান সেই ধারাবাহিকতার সংযোজিত অংশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ত্রিশটি বিশেষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। আমেরিকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে অংশীদারিত্বে এসডাব্লুএডি গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে।

এ বছরের শেষ দিকে সমুদ্র জয় তরীটি চট্টগ্রামে পৌঁছবে। ৩৭৮ ফুট দীর্ঘ এই তরী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরের সর্ববৃহৎ তরীতে পরিণত হবে। এটি আমেরিকা বাংলাদেশকে প্রদান করছে। আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দ্বিতীয় এমন আরেকটি তরী ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছি। ২০১৫ সালে আরো ছয়টি নৌযান কোস্ট গার্ডকে হস্তান্তর করা হবে।

মজীনা বলেন, বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমার রক্ষার জন্য নিজ সামর্থ্য আরো জোরদার করলে সবারই লাভ হয়। আমেরিকার লাভ হয় কারণ বাংলাদেশ আমাদের জন্য তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস এবং এই পণ্যগুলো সমুদ্রপথে সরবরাহ হয়।

এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহা পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল কাজী সারওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পরিচালক(প্ল্যানস অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আমিনুর রহমান খান, ইস্ট জোন কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. আবিদুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ছয়টি শার্ক বোট কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকের কাছে হস্তান্তর করেন