বিশ্বাস

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৯:৩৬ অপরাহ্ণ

“বিয়ের কথা কিছু কি ভেবেছেন? আপনার কি কোন পছন্দ আছে? যদিও এটা ব্যক্তিগত ব্যাপার তারপরও প্রশ্নটা করলাম”। সাদিয়ার এমন একটা এস.এম.এস’র জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। এ যেন মুরগীর সাথে ডিম একসাথে পাওয়া। উত্তরে লিখলাম, “বিয়ে করাতো কোন ব্যাপার না, যখন ইচ্ছে তখনই করা যায় কিন্তু সমস্যা হলো বিয়ে পরবর্তী সময়। এটাই সবচেয়ে কঠিন সময়।” উত্তরে সাদিয়া লিখল, কঠিন ঠিক আছে, তারপরওতো বিয়ে করতে হয়, সংসার করতে হয়। সংসার না হলেতো চলে না।” আমি যে বছর প্রথম চাকরিতে জয়েন করি তারও ছমাস আগে একই কোম্পানীতে জয়েন করে সাদিয়া। চাকরির সুবাদেই পরিচয়। দীর্ঘ চার বছর একই কোম্পানীতে চাকরি করেছি দুজনে। তারপর প্রথমে সাদিয়া চাকরি ছেড়ে চলে যায়, তারও চারমাস পর আমি চলে যাই অন্য কোম্পানীতে। এই চার বছরে সাদিয়াকে যতটুকু দেখেছি বর্তমান সময়ে মোটামুটি ভালো মানুষ বলা চলে। দুজন দুদিকে গেলেও মাঝে মধ্যে একে অপরের খবরা-খবর নেওয়া হয়, কুশলাদি বিনিময় করা হয়। এক অপরকে বিয়ে করার ব্যাপারে কখনো ভাবা হয়নি। তবে আমার মনে এতটুকু উঁকি দিয়েছিল, জীবনে সাদিয়ার মতো কোন মেয়েকে জীবন সঙ্গী করতে পারলে জীবনে সুখী হওয়া যেত। অন্যদিকে চার বছর একসাথে চাকরি করা এবং তারও পরে আমার কথা-বার্তা, আচার- আচরণে মুগ্ধ হয়েই হয়তো বিয়ে নিয়ে সাদিয়ার এমন প্রশ্ন। উত্তর জানানোর জন্য সাদিয়ার কাছে কিছুদিনের সময় নিলাম। তিনদিন পরে জানালাম, “পছন্দ বলতে তেমন কেউ নেই, তবে মনের মত কাউকে পেলে বিয়ে করতাম কিন্তু তেমন কাউকেতো পাচ্ছিনা।” সাদিয়া লিখল, “একটু খুঁজলে মনের মতো মানুষ পাওয়া যায় তবে কিছু ঘাটতি থাকবেই।” আমি লিখলাম, “বুঝলাম সব, এবার তাহলে একটি প্রশ্ন, যদি কিছু মনে না করেন। বিয়ের পাত্রীটি কি আপনি! হ্যাঁ বা না বলুন।” সাদিয়া উত্তর দিল, “ধরেন হ্যাঁ।” “যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে এবার আপনার মুখোমুখি হতে হবে আমাকে। আমার মতো এক ছন্ন-ছাড়াকে আপনার কেন হঠাৎ পছন্দ হলো তা জানতে হবে আগে। এখন বলুন কখন কোথায় আপনি আমার সাথে দেখা করতে পারবেন? কথা-বার্তা যা বলার এবং ঝগড়া-ঝাটি যা করার বিয়ের আগেই করে ফেলব, পরে নয়। সাদিয়া লিখল, “আসলে আমি আমার জন্য আপনাকে বিয়ের কথা বলিনি, বলেছি আমার ছোট বোন পারুলের জন্য। পারুলকে মনে হয় আপনি দেখেছেন। এখন আপনি ভেবেচিন্তে হ্যাঁ বা না যে কোন একটি বলতে পারেন।” সাদিয়ার এমন একটি প্রস্তাবের জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। তার উপর অচেনা- অজানা এক মানুষকে জীবন সঙ্গী করা, বিষয়টি আমার কাছে মোটেই সুখকর নয়। আমি লিখলাম, “আপনার প্রস্তাবকে আমি সম্মান করি, তবে আপনার জন্য হলে ভাবতাম না কিন্তু আপনার বোনের ব্যাপার, তাই আমাকে একটু ভাবতে হবে। ভেবে আমি জানাব।” ভাবার আর সময় পেলাম না। কাজ-কর্মের ব্যস্ততায় কেটে গেল অনেক দিন। তারপর হঠাৎ করে স্মরণে আসল ব্যাপারটি। সাদিয়াকে লিখলাম, “আপনার বোনের ব্যাপারে আমি কোন মতে আসতে পারছি না। যদি আপনার বোনের পরিবর্তে আপনি হন তাহলে আপনাকে বিয়ে করতে কোন আপত্তি নেই। এবার আপনি ভেবে চিন্তে বলুন আমার প্রস্তাবে আপনি রাজি হবেন কিনা? আমার প্রশ্নের উত্তর জানাতে সাদিয়া এক সপ্তাহ সময় নিল। এক সপ্তাহ পর সাদিয়া জানাল, “আপনার প্রস্তাবে আমি রাজি। আচ্ছা, আমরা নিজেরা সব ঠিক করছি, আপনার বাবা-মা রাজি হবেন তো?” আমি লিখলাম, “রাজি হবেন।” সাদিয়া লিখল, “তাহলে আমি চাই বিয়েটা তাড়াতাড়ি হোক।” কাজের ব্যস্ততায় কিছুদিন সাদিয়ার সাথে কথা বা এস.এম.এস আদান প্রদান করতে পারিনি। একদিন অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নাস্তা-পানি খেয়ে, বালিশে হেলান দিয়ে আধশোয়া অবস্থায় ভাবছি নানান কিছু। সাদিয়ার এস.এম.এস-এ ভাবনায় ছেদ পড়লো। “কেমন আছেন, কি করছেন? ” “ভাবছি।” “কি ভাবছেন।” ” একটি গল্প লেখার কথা ভাবছি কিন্তু মাথায় কিছু আসছে না।” “যারা লেখক মানুষ তাদের মাথায়তো না আসার কথা নয়। চেষ্টা করেন ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে।” “না, হচ্ছে না। কারণ এখন আমার মধ্যে আবেগ নেই, আছে বেগ। বেগ নিয়ে লেখালেখি করা যায় না। ভাবছি বিয়ের পর চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে শুধু লেখালেখি করব। কি বলেন, ভালো হবে না?” “না, না, তা হবে না। চাকরি ছেড়ে শুধু লেখালেখি করা চলবে না। তাতে সংসার চলবে কি করে। চাকরিও করতে হবে, ফাঁকে ফাঁকে লেখালেখিও করতে হবে। সুতরাং সংসারও চলবে ঠিকমত আর কবিতা গল্পও শোনা হবে।” “সৈয়দ শামসুল হকের নাম শুনেছেন? তিনি জীবনে চাকরি বা ব্যবসা কিছুই করেননি। লেখালেখি করেই কাটিয়ে দিয়েছেন সমগ্র জীবন। স্ত্রী চাকরি করতেন আর তিনি লিখতেন সারাদিন। ব্যাপারটি প্রথম প্রথম খারাপ লাগতো তার স্ত্রীর। কিন্তু আস্তে আস্তে সব সয়ে গেছে। আর এখন গর্বে মাথা টান টান কারণ তার স্বামী দেশের নামকরা লেখক, দেশের সম্পদ।” “আচ্ছা আমি আপনার কাছে একটু ক্লিয়ারলি জানতে চাই, বিয়ের পর সেরকম কি কিছু ইচ্ছে আছে আপনার?” সাদিয়ার এ প্রশ্নের উত্তরটি আমি সরাসরি দিলাম না। ভাবলাম একটু বাজিয়ে দেখি। আমি লিখলাম, ” আমি হচ্ছি আউলা-ঝাউলা মানুষ, আমার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। হতে পারে বিয়ের পর চাকরি-বাকরি ছেড়ে শুধু কবিতা লেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকব।” সাদিয়া লিখল, “তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, আমি চাকরি করে সংসার চালাব আর আপনি বসে বসে কবিতা লিখবেন! আপনার মনে তাহলে এ ধরনের চিন্তা ছিল! আপনার চিন্তা এত নীচ। আপনাকে আমি ভাল মানুষ হিসেবে জানতাম কিন্তু আপনি যে এত খারাপ মানুষ তা জানতাম না। আপনার সুন্দর চেহারা ও ভালো মানুষির আড়ালে যে নোংরা মানুষ লুকিয়ে আছে তা আগে জানতাম না। আপনি একটা মুখোশধারী ভালো মানুষ।” “ভাল মানুষ নাকি খারাপ মানুষ তা জানি না তবে এতটুকু জানি লেখালেখি আমার প্রাণ, এটা ছাড়া আমার জীবন হবে তলাবিহীন ঝুড়ি।” ” এখন বুঝতে পারছি আপনি শুধু ব্যতিক্রম মানুষ নন, পুরোটাই ব্যতিক্রম মানুষ। আর অন্যদিকে আপনি বিয়েটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এ চালাকির আশ্রয় নিয়েছেন। শুনুন আপনার যে চিন্তাধারা, ঘরের বউ চাকরি করে সংসার চালাবে আর আপনি বসে বসে খাবেন, এ মানসিকতা পরিবর্তন করুন নয়ত চাকুরিজীবিতো দূরে থাক, বিয়ে করার জন্য একটা সাধারন মেয়েও খুঁজে পাবেন না।” “মুশতারী শফির নাম শুনেছেন। একজন নামকরা লেখিকা। মুক্তিযুদ্ধে স্বামীকে হারিয়েছিলেন। যুদ্ধের কারণে সাত ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছিলেন ঘর ছেড়ে। যুদ্ধ শেষে ফিরে এসে ছেলে-মেয়ে গুলোকে মানুষ করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ফাঁকে ফাঁকে করতেন লেখালেখি। সব ছেলে-মেয়েকে মানুষ করলেন এবং লেখালেখিতে পেলেন স্বীকৃতি। সুতরাং এত ভয় কেন। আমি মারা গেলে সংসার চালাতে হবে না, ছেলেপুলে মানুষ করতে হবে না।” ” আপনিতো মহৎ নারীদের কথা বললেন, মহৎ পুরুষদের কথাতো বললেন না। শুনুন আপনি যে এত লোভী তা জানতাম না। আপনি বলে পার পেলেন, অন্য কোন ছেলে হলে তার একহাত দেখিয়ে ছাড়তাম।” “আপনিতো দেখি খুম সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছেন। আমাকে গালাগাল আর হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। আমিতো জানি আপনি খুব ভাল একটা মানুষ। আপনার চরিত্রের সবকিছুই ভালো কিন্তু আপনি যে এভাবে গালাগাল করতে পারেন আর হুমকি-ধামকি দিতে পারেন তা জানতাম না। আপনার ব্যবহার খারাপ এতদিনে জানলাম।” “আপনি মনে হয় আমাকে ভুল বুঝছেন। আমি আপনাকে হুমকি বা গালাগাল দিচ্ছি না।” “না আমি আপনাকে ভুল বুঝছি না। আমি শুধু এটা বলতে চাচ্ছি, আমার ভুল হয়েছে আপনাকে চিনতে। আপনি যেমন ছিলেন, তেমনই আছেন, আমি আপনাকে ঠিকমত চিনতে পারিনি। আমি আপনাকে অনেক ভাল জানতাম। ভাবতাম আপনি অনেকের মধ্যে একজন। কিন্তু এখন দেখছি আপনি অন্য দশজন থেকেও সাধারন।” “হ্যাঁ আমিতো সাধারন, আমি যদি আপনার কথায় সায় দিয়ে চাকরি করে সংসার চালাতাম আর আপনি হাতে চুড়ি পরে ঘরে বসে থাকতেন তাহলে আমি হতাম আপনার কাছে অন্যতমা। আপনার মতো এমন বাজে চিন্তাধারার মানুষ আগে আর কখনো দেখিনি।” “যাক অনেক হল আর না! আমি আপনার সাথে ফান করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি সবকিছু সিরিয়াসলি নিয়ে আমাকে অনেক গালমন্দ, হুমকি-ধামকি দিলেন। আপনি আসলে ফান বুঝেন না। ক্ষমা চাইছি আপনার কাছে ফান করার জন্য।” “আপনি বলতে চাচ্ছেন এগুলো ফান। আপনি আপনার এস.এম.এস গুলো দশজনকে দেখান আর আমি আমারগুলো দেখাই। তারা যদি বলে, এগুলো ফান তাহলে আমি আমার কান কেটে কুকুরকে খাওয়াব।”
দুদিন সাদিয়ার এস.এম.এস- এর কোন উত্তর দেইনি এবং ফোন রিসিভ করিনি। দেখতে চাইলাম রাগলে সে কি রকম আচরণ করে। দুদিন পর পেলাম তার এস.এম.এস। আপনার এস.এম.এস. গুলো আমি রাবেয়াকে দেখিয়েছি, সে বলেছে আপনি এস.এম.এস দিয়ে গালমন্দ করেছেন, আমি হলে সরাসরি ফোন করে গালাগাল করতাম।” চট্টগ্রামের মহান এক রক্তদাতাকে নিয়ে বিখ্যাত উপস্থাপক হানিফ সংকেতের কাছে চিঠি লিখেছিলাম, তিনি আমাকে গুরুত্ব দিয়ে ঐ মানুষটিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ইত্যাদিতে প্রচার করার জন্য। আর আপনাকে নিয়ে নোবেল কমিটিতে লিখব যাতে গালাগালির জন্য আপনাকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়।” “হানিফ সংকেত এবং অন্য কেউ তোকে চিনতে পারেনি কিন্তু আমি পেরেছি, সুতরাং তুই মুখোশধারী শয়তান। এজন্য নোবেল প্রাইজ পাওয়ার যোগ্য তুই। আমি না।” “যাক, উত্তর আমি পেয়ে গেছি, রাগ করলে আপনি কতটুকু খারাপ আচরণ করেন তা জানলাম। এবার তাহলে আমি আসল কথা বলি, আপনাকে এতদিন আমি যা বলেছি সবই ছিল ফান। আপনার সাথে মজা করার জন্যই বলেছি, দেখতে চাইলাম আপনি ফান বুঝেন কিনা, কিন্তু না আপনি ফান বুঝেন না। সবকিছুতেই সিরিয়াস হয়ে বসে থাকেন। আমি মানুষটা লেখালেখি করি ঠিক কিন্তু সমাজ-সংসারত্যাগী নই। আমার জীবনটা দুঃখে গড়া। দুঃখ সয়ে হয়ত কিছুটা মানুষ হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই পরিবারে দেখে আসছি অর্থকষ্ট। এর মাঝেও নিজে পড়ালেখা করেছি এবং ছোট ভাইদের পড়িয়েছি। নিজে কোন রকমে গ্রাজুয়েট আর ভাইয়েরা একজন মাস্টার্স এবং অপরজন অনার্স-এ। জীবনে এত কষ্ট পেয়েছি, অন্যের কষ্ট দেখলে আসলেই কষ্ট পাই। আসলে আমি একটা ব্যাপার বুঝতে চাইছিলাম। সেটা হলো আমার মতো দুঃখী মানুষের জীবনের সাথে জড়িয়ে আপনি আসলেই সুখী হতে পারবেন কিনা। সত্যি বলতে কি যখন চাকরি করতাম, তখন অফিসে আপনার কথা-বার্তা, চাল-চলন সবকিছুতে মুগ্ধ হতাম। আপনার ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারন। তখন মনে মনে ভাবতাম, আপনার মতো একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী করতে পারলে জীবনটা সুখী হবে। এজন্য আপনি যখন আপনার বোনের জন্য প্রস্তাব দিয়ে পরে নিজে রাজি হলেন খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু সামান্য কিছু এস.এম.এস-এ যখন আপনাকে নতুন করে চিনতে হল তখন মনে খুব কষ্ট পেলাম। এটা বুঝলাম মানুষের প্রতি আপনার বিশ্বাস কম। একটা এস.এম.এস-এ এত অবিশ্বাস, এত হুমকি-ধামকি, গালাগাল, তাহলে বিয়েতো সারাজীবনের ব্যাপার। বাংলায় দুইটি প্রবাদ আছে, বিশ্বাস-এ মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর এবং অবিশ্বাস করে ঠকার চেয়ে বিশ্বাস করে ঠকা অনেক ভাল। যাকে বিয়ে করবেন বলে রাজি হলেন তাকে বিশ্বাস করা উচিত ছিল যতক্ষণ পর্যন্ত না অবিশ্বাসের কাজ করা হয়। শেষবেলায় বলি আমার প্রতি আপনি বিশ্বাস রাখতে পারতেন, এত গালাগাল করার প্রয়োজন ছিল না। আর আপনি যে আমাকে এত গালাগাল করলেন এটা আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হয় এটা আপনি নন, অন্য কেউ। আর, হ্যাঁ আপনি আমার এস.এম.এস গুলো দশজনকে দেখিয়েছেন, আপনি পেরেছেন কিন্তু আমি পারিনি। কেন পারিনি জানেন, ব্যাপারটি ছিল আমার আর আপনার, অন্য কারো ছিল না। একটা সমস্যা হলে আমি আর আপনি সমাধান করব। সমাধান আমাদের মাঝে থাকতে হবে। কোন তৃতীয় পক্ষ থেকে নয়। অথচ আপনি দশজনকে দেখিয়ে নিজের সম্মানতো নষ্ট করলেনই, করলেন আমারটাও। কিন্তু আমি পারলেও আপনার এস.এম.এসগুলো কাউকে দেখাইনি। কারণ যাকে সম্মান, শ্রদ্ধা করা যায় তাকে কখনো অপমান বা ছোট করা যায় না।”

আমি যখন সবকিছু সিরিয়াসলি জানালাম তখন সাদিয়া নিজের ভুল বুঝতে পেরে এস.এম.এস পাঠাল, “আমি যে মাঝে মাঝে কেন এমন হয়ে যাই জানি না, ছোটকাল থেকে দুঃখ-কষ্ট পেয়ে বড় হয়েছি বলেই হয়ত অল্পতেই রেগে যাই, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। আপনি আমাকে বিয়ে না করেন কিন্তু ভুল বুঝিয়েন না। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আপনি যে শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেব। তবুও ভুল বুঝিয়েন না। আমি লজ্জিত, খুব লজ্জিত। এখনো কেন বেঁচে আছি জানি না!”

রহমান মিজান


আরোও সংবাদ