‘বিশ্বমানের নগরী গড়তে প্রচলিত আইনের যুগোপযোগি পরিবর্তন অপরিহার্য’

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম শহরকে আধুনিক ও টেকসই নগরী বিনিমার্ণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। তিনি আজ সোমবার বিকেলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সাস্টেইনেবল এন্ড রিনিউএ্যাবল এনার্জি ডেভেলাপমেন্ট অথরিটি (¯্রডো) এবং ইউএনডিপি’র যৌথ আয়োজনে “সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট-প্রমোট লীভ্যাবল সিটি” শীর্ষক সেমিনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। নগরী আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম ও ¯্রডোর চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’র প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণের মহিউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জি. মোঃ শাহীনুর ইসলাম খান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন, লুব-রেফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ ও পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ, বিএসআরএম’র লীড সিএসআর রুহী মুর্শিদ আহমেদ ও ইউএনডিপি’র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট আরিফ এম ফয়সল বক্তব্য রাখেন। নেট মিটারিং এবং এলসিইউডি’র উপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ¯্রডোর সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের ও ইউএনডিপি’র প্রোগ্রাম স্পেশালিষ্ট আরিফ এম ফয়সাল।
সিটি মেয়র আরো বলেন বিশ্বমানের নগরী গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে বর্তমান বাস্তবতা উপলব্ধি করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আইনের বাধাকে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করেন। বর্তমান আইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ব্যতীত কাংখিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন একটি নগরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি খাতকে অর্থায়নে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তি খাত ও সরকারি খাত মিলেই পিপিপি নির্ভর অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। এতসব উদ্যোগের সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও টেকসই নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তাই চট্টগ্রাম নগর উন্নয়নে গৃহিত প্রকল্প সমূহ যথাযথ বাস্তবায়নে তিনি সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন দৈনিক ১৭শ থেকে ১৮শ টন গৃহস্থলি বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন ডাম্পিং করে থাকে। এ বর্জ্য বহুমুখি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ,সার ও জ্বালানী উৎপাদন করা সম্ভব। তাছাড়া নগরবাসী দৈনিক ৫শ থেকে ৬শ টন বর্জ্য নালা-নর্দমা ও খালে নিক্ষেপ করে থাকে। এক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তনের উপ গুরুত্বারোপ করেন মেয়র।

বিশেষ অতিথি চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম শিল্প ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এর টেকসই উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামতের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন-টেকসই জ্বালানী এসডিজির অংশ এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে। চেম্বার সভাপতি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার আহবান জানানোর পাশাপাশি টেকসই প্রাইভেট সেক্টর প্রয়োজন বলে মনে করেন। তিনি নগরবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধিসহ চট্টগ্রামের কাঙ্খিত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সিটি মেয়রের নেতৃত্বে কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করার প্রস্তাব দেন। বিশেষ অতিথি ¯্রডোর চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ভালো ফলাফল আসে বলে মন্তব্য করে ভবিষ্যতে এনার্জি এফিসিয়েন্ট মেশিনারীজ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে শিল্প মালিকদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি নেট মিটারিংকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করতে শিল্প কারখানার মালিকদের আহবান জানিয়ে ¯্রডোর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা আশ্বাস প্রদান করেন এবং ¯্রডো শীঘ্রই গ্রীন বিল্ডিং রেটিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে বলে সভায় জানান। সেমিনারে সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ