বিশেষ প্রতিবেদন:রাউজানে হত্যা সন্ত্রাস অপরাজনীতি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৬:৩১ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম ,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।হত্যাযুবলীগ নেতা মোবারকের খুনের ঘটনার চারদিন অতিবাহিত, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ
যুবলীগ নেতা মোবারকের খুনের ঘটনার চারদিন অতিবাহিত, হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ । হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো আতংক কাটেনি । যুবলীগ নেতা মোবারকের হত্যাকান্ডের মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হক সৌদি আরবে আর্ত্বগোপনে থাকা অবস্থায় তার পথের কাটা সরাতে প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা মোবারক হোসেনকে হত্যা করার নিদের্শ দেয় বলে মামলার বাদী নিহত মোবারকের মাতা ছবুরা খাতুন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন । হত্যাকান্ডের পর সৌদি আরবে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হক তার অনুসারীদের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের হারানো সম্রাজ্য ফিরে পেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । যুবলীগ নেতা মোবরক হোসেনের হত্যা মামলার আসামী নুরুল ইসলাম বাবুল গতকাল সকাল ৭ টার সময় রাউজানের রায়মুকুট দিঘীর পাড় এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় বলে এলাকার লোকজন জানান । যুবলীগ নেতা মোবারক হোসেনের হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াপাড়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ টুটন মজুমদার জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনিদের গ্রেফতারের জন্য বিরামহীন অভিযাণ চলছে । হত্যাকান্ডের ঘটনার পর হত্যাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা টুটন মজুমদার জানান ।
গত দুই যুগে রাউজানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক যুবক ছাত্র
রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এলাকায় ঘাঁটি করে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে রাউজানের বিভিন্নস্থানে গত দুই যুগে অর্š—ত শতাধিক ব্যক্তি খুন হয়েছে। এই ধরণের ঘটনায় সর্বশেষ বলি হয়েছে উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ মোবারক। গত শনিবার সন্ধ্যায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের অনুসারীরা তাকে নির্মম হত্যা করে পালিয়ে যায়। গত রোববার বিকালে স্থানীয় নোয়াপাড়া মুসলিম হাই স্কুল মাঠে জানাজা শেষে মোবারককে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা খুনিদের বিএনপি-জামাতের চর আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এই খুনের ঘটনায় গত রবিবার দিবাগত রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হক ও তার অনুসারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্বে নিহত যুবলীগ নেতা মোবারকের মাতা ছবুরা খাতুন বাদী হয়ে মামলা করেন রাউজান থানায় । পুলিশ ঘটনার চারদিন পর ও গ্রেফতার করতে পারেনি খুনিদের। এলাকায় এখনো রয়েছে ভিতিকর পরিস্থিতি। মোতায়েন আছে অতিরিক্ত পুলিশ। এদিকে দক্ষিণ রাউজানের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন থেকে ভাল অবস্থানে থাকলেও শনিবার রাতে প্রকাশ্য বাজারে কুপিয়ে ও গুলি করে যুবলীগ নেতা খুনের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি পুরো এলাকার লোকজনের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক।গত রবিবার সকাল থেকে নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল। গত রবিবার বিকেলে যুবলীগ নেতা মোবারক হত্যার প্রতিবাদে খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান, আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব দিদারুল আলম চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন আহমেদ চেয়ারম্যান, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দুলাল বড়–য়া প্রমুখ।
শনিবার ঘটনার পর উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র নোয়াপাড়া পথেরহাট, চৌধুরীহাটসহ পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর পর নোয়াপাড়া পথেরহাট বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ করে দিকবিদিক ছুটতে থাকে ব্যবসায়ীসহ শত শত সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শনিবার সন্দ্ব্যায় নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরী হাট এলাকায় যুবলীগ নেতা মোবারককে তার দুই সহযোগী সেকান্দর জসিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের অনুসারী সন্ত্রাসীরা এতে যুবলীগ নেতা মোবারক ঘটনা স্থলে নিহত হয় । সেকান্দর ও জসিম গুরুতর আহত হয়।
।এ ব্যাপারে কথা বললে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী সুদৃঢ নেতৃত্বে রাউজানের এখন কোনো সন্ত্রসী চাঁদাবাজ নেই। দলের মধ্যে যারা আগে বিপদগামী ছিল তাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন ভাবে তিনি পুনবাসন করেছেন। তারা খেটে খাচ্ছে। যারা সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। রাউজানে গত ১৯৮৬ সালের রাউজান কলেজ থেকে ডিগ্রী পরিক্ষা দিয়ে বাড়ী ফেরার পথে ছাত্রলীগ নেতা ফয়জুল আলম খান ফারুককে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি কওে হত্যা রাউজান করেজের সামনে সন্ত্রাসীরা । ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রাউজানে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে খুনের খেলা । রাউজানের হলদিয়ায় খুন হয় যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস মাষ্টার. ছাত্রলীগ নেতা এমদাদ, মুজিবুর রহমান পেয়ারু, এনডিপি নেতা এজাহার মিয়া, আবুল কালাম, আবদুল মোনাফ, শামস,ু ফারুক. যুবলীগ নেতা আজিজ, ডাবুয়ার ছাত্রলীগ নেতা শফিউল আলম বাচুরিয়া, দিদারুল আলম, স্বরণ বড়–য়া, দুই সহোদর টিটু, বিটু, এনডিপির আবদুর রজ্জাক, সুনইক্যা, শুক্কুর, চিকদাইরের ছাত্রলীগ নেতা মোং রফিক, এনডিপির মিয়া, নোয়াজিশ পুরের যুবলীগ নেতা আবুল কাসেম বল্লাইয়া, রাউজান পৌর এলাকার সুলতান পুরের ছাত্রলীগ নেতা ফখর উদ্দিন মোঃ বাবর, যুবলীগ নেতা আলমগীর, পৌর কাউন্সিলর এসকান্দর হোসেন চৌধুরী, এনডিপির জামাল, জামাল পাশা, মনসুর, গহিরার মনাইয়্যা, পশ্চিম গহিরা ছাত্রলীগ নেতা আসলাম, বিণাজুরীর ছাত্রলীগ নেতা আশিষ বড়–য়া, সমীর কান্তি মুহুরী, ৭নং রাউজান ইউনিয়নের খলিলাবাদ এলাকার এনডিপির আবদুল হালিম, ফজল, নিজাম উদ্দিন, ব্যবসায়ী সাহালম. ইউপি মেম্বার আকতার হোসেন, মোটর সাইকেল মেকানিক নাসির, কদলপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম উদ্দিন খানের শ্যালক মেধাবী ছাত্র ওমর ফারুক, যুবলীগ নেতা আরিফবিল্লাহ, জাকের হোসেন বাইল্লা তোতা, এনডিপির আকতার হোসেন, খোরশেদ আলম বাইল্লা, পাহাড়তলীর যুবলীগ নেতা মোহরম, বাগোয়ানের ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন খোকন. মোহাম্মদ মিয়া, নাসিম,অমৃত তালুকদার. কৃষ্ণ, যুবলীগ নেতা মোঃ রফিক, খোকন, এনডিপির আলিমুল্লাহ, পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের বড় ঠাকুরপাড়া এলাকার যুবলীগ নেতা রফিক, মানিক, সাতবাড়িয়ার আবু তালেব, খোকন, আধার মানিকের ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন জামিল, আবুল কাসেম, প্রদীপ সেন মেম্বার, চেয়ারম্যান আকতার হোসেন রাজু, ফেরদৌস আলম মাষ্টার, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকার যুবলীগ নেতা বুলইক্যা, এনডিপির ননা মিয়া, মগদাইর টুক্কুল মেম্বার, যুবলীগ নেতা সাবের, এসকান্দর, চেয়ারম্যান আবু তাহের, মেম্বার নাসির, শ্রমিক নেতা কামাল, জামাই আবুল কাসেম, উরকির চর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ, এনডিপির ইউছুপ, বাদশা, রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খায়েজ আহাম্দ, দুই সহোদর সোহেল, লিটন, হাজী আবদুর রসিদ, এনডিপির আবদুল লতিফ, আবদুল হামিদ কাদাইয়্যা, খোরশেদ, সর্বশেষ খুন হয় গত শনিবার যুবলীগ নেতা মেবারক খুর হয়। মোবারক খুনের ঘটনার বিয়য়ে কথা বললে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন হত্যাকারীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে । বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাউজানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড না হলে ও যুবলীগ নেতা মোবারক হত্যার পর রাউজানের সর্বত্র চলছে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক । রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহতদের পরিবারের স্বজনেরা হত্যাকান্ডের ঘটনার ব্যাপাওে মামলা করলে ও কোন হত্যাকান্ডের বিচার পায়নি স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা ।

ক্রস ফায়ারে নিহত ১৫ জন
রাউজানে র‌্যাব পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্বে নিহত হয় পনর জন তারা হলেন, গত ২০০৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাউজানের কলমপতি এলাকার অরুন দের বাড়ীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলম ও তার সহযোগীদের ধরতে র‌্যাব হানা দিলে র‌্যাবকে উদ্যেশ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে র‌্যাব পাল্টা গুলি চালালে ক্রস ফায়ারে শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলম সহ তার নয় সহযোগী নিহত হয় । ক্রস ফায়ারে পরবর্তী সময়ে নিহত হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিন্না,ওয়াহিদ মুরাদ, সরোয়ার হোসেন সেরু, দেলোয়ার হোসেন দেলু, নিলু বড়–য়া ।
রাউজানের চার শীর্ষ সন্ত্রাসী অন্তধ্যান স্বজনেরা তাদের হদিস পায়নি
রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী বদিউল আলম বদি, বাগোয়ানের চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু জাফর, আজিম উদ্দিন মাহমুদ, বড়ঠাকুর পাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এই চার সন্ত্রাসীর স্বজনেরা খোজাখুজি করে গত কয়েক বৎসরে ও তাদের কোন হদিস পায়নি ।