বিলুপ্তির পথে শিল্পি বাবুই পাখি

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ২০ জুলাই , ২০১৮ সময় ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ


মিজান মনির

‘‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই,
কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে…।’’

কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক গ্রামবাংলার এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। তবে গ্রামবাংলায় এখন আর আগের মতো বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা চোখে পড়ে না। হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী, সম্প্রীতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। বাবুই আবহমান বাংলার শোভন পাখি । দলবেধে বাসা বাঁধে তালগাছের পাতায়। দৃষ্টিনন্দন বুননে সে বাবুই পাখির বাসা সুইচ্চ তালগাছ আরও নয়নাভিরাম করে তোলে। বাবুইয়ের মত এমন সুন্দর নিপুণ কারিগরী বুননে দুষ্টিনন্দন বাসা আর কোন পাখি বুনতে পারেনা। আর মানুষের পক্ষেও অমন সুন্দর বাসা তৈরী সম্ভব নয়। তাই বাবুই পাখির শিল্পিত বাসা নিসর্গকে মনোরম করে তোলে। তবে গ্রামবাংলার পল্লী অঞ্চলে আগের মতো বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা এখন আর চোখে পড়ে না। সময়ের বিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আজ হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী, সম্প্রীতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা।

কালের বিবর্তনে নওগাঁর পত্নীতলা সহ উত্তরাঞ্চলের জেলা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি ও তার বাসা। বাবুই আবহমান বাংলার শোভনীয় পাখি। তালগাছের পাতায় দলবেধে বাসা বাঁধে তারা। তাদের বাসা তালগাছ কে আরও নয়নাভিরাম করে তোলে।

তাই বাবুই পাখির শিল্পিত বাসা নিসর্গকে মনোরম করে তোলে। যেমন দৃষ্টিনন্দন তাদের বাসা ঠিক তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড় বৃষ্টি-বাতাসেও টিকে থাকে তাদের বাসা। খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করত বাবুই পাখিরা। একান্নবর্তী পরিবারের মত এক গাছে দলবদ্ধ বাসা বুনে এদের বাস। বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনেরও প্রতিচ্ছবি। শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া কঠিন। দিনে দিনে উজাড় হচ্ছে তালগাছ। তার সাথে উজাড় হচ্ছে বাবুই পাখির বাসা।

কয়েক বছর পূর্বেও গ্রাম-গঞ্জের তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছে ব্যাপকভাবে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়তো। কিন্তু এখন আগের মতো আর চোখে পড়েনা বাবুই পাখির বাসা। এসব বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক যোগাত এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করত।
গাছের ঝুড়ির মতো চমৎকার বাসা বুনে বাস করায় এ পাখির পরিচিতি জগৎ জোড়া। খড়, তাল গাছের কচি পাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতা-পাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করতো বাবুই পাখি। সেই বাসা যেমন আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙ্গে পড়ে না। বাবুই পাখির শক্ত বুননে এ বাসা টেনেও ছেঁড়া যায় না। এ জন্য অনেকেই একে তাঁতি পাখি বলে ডেকে থাকে। এ বিষয়ে পাখি প্রেমি মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের অফিসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছাত্র কলিম উল্লাহ কলি বলেন, বর্তমানে বাবুই পাখি বাসা বাঁধতে পাড়ে এ ধরনের গাছগুলি কেটে ফেলা হচ্ছে, গ্রাম অঞ্চলেও তৈরি হচ্ছে ইট ক্রংকিটের ইমারত। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি। তাই আগের মতো তাল গাছ নেই আর বাবুই পাখিও নেই। তিনি আরো বলেন, এখনি যদি পাখিদের রক্ষণা-বেক্ষণ করার জন্য সরকারকারি ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। তাহলে হয়তো এসব পাখি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে আশা করি।