বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সংশয়!

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৩:৩০ অপরাহ্ণ

নিউজচিটাগাং স্পেশাল:
অবৈধ বিলবোর্ডপাহাড় ঘেরা চট্টগ্রামের সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। অল্প যা কিছু পাহাড় কিংবা সবুজের সমারোহ রয়েছে, তাও ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বিলবোর্ডের আড়ালে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বাসা-বাড়ি, অলি-গলি, সুউচ্চ পাহাড় কিছুই বিলবোর্ড মালিকদের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বিলবোর্ড উচ্ছেদে একযোগে মাঠে নেমেছে সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ ও পুলিশ। এরপরও নানা কারণে চট্টগ্রামের বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানের সুফলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘নগরীতে ২০১০ সালের পর থেকে বিলবোর্ড, ইউনিপোল বা ওভারহেডের অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (সিসিসি) করা তালিকায় বৈধ বিলবোর্ড ছয় হাজার ৪শ ৮৫টি। অবৈধ বিলবোর্ড রয়েছে ৪শ ২২টি। এসব অবৈধ বিলবোর্ডের তালিকা পুলিশ কমিশনারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলত এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদে নেমেছে প্রশাসন।’

সংশি¬ষ্টরা বলছেন, মাত্র ৪শ ২২টি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে প্রাচ্যের রানী চট্টগ্রামের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা যাবে না। কারণ বৈধ বিলবোর্ডের সংখ্যা অনেক বেশী। কথিত অবৈধ বিলবোর্ডগুলো উচ্ছেদ করা হলেও বিলবোর্ড মালিকদের আয়ে সামান্যটুকু ভাটাও পড়বে না। অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করার পর তারা বৈধ বিলবোর্ডগুলোর দাম বাড়িয়ে সেটা পুষিয়ে নেবে।
এদিকে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষার্থে বিলবোর্ড উচ্ছেদে নগরজুড়ে দাবি উঠলেও এ কার্যক্রমে সরকার দলীয় কোনো নেতাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের মতে, সিডিএ ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সরকার দলীয় নেতারাও যদি এ কাজে সহযোগিতা করতেন, তাহলে বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান আরো বেগবান হতো।
অভিযোগ উঠেছে, সরকার দলীয় নেতাদের অসহযোগিতার কারণে পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকার পরও সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযান সঠিক গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে না।
অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকছে। দায়িত্বপালনকারী একাধিক পুলিশ সদস্যের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশন বিলবোর্ড উচ্ছেদের জন্য একাধিক ক্রেন আনে। কিন্তু তা কাজে লাগায় না। উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য যেসব গাড়ি এবং ইকুইপমেন্ট আনা হয় তা যথাযথভাবে কাজে লাগালে দিনে একটি সড়ককে বিলবোর্ডমুক্ত করা সম্ভব।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের সম্পাদকরা গত বছরের জুনে বিলবোর্ড অপসারনেরর বিষয়ে সিটি মেয়রকে স্বারকলিপি দিতে গেলে মেয়র এম মনজুর আলম বলেছিলেন, কোন অবস্থাতেই অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদে ছাড় দেয়া হবে না। বিলবোর্ডের ট্যাক্স হিসাবে কর্পোরেশন এক থেকে দেড় কোটি টাকা পায়, কিন্তু সেই টাকা না হলেও কর্পোরেশন চলতে পারবে। অতীতে কারো কারো সাথে ২০/২৫ বছরের চুক্তি করা হয়েছিল। তারপরও বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে তারা যেসব অনিয়ম করেছেন সে সূত্র ধরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্যে তিনি চট্টগ্রামের সকল দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও নগরবাসীর সহায়তা কামনা করেছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরীন বলেন, নগরীর অধিকাংশ বিলবোর্ডের মালিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা। তারা বিভিন্ন কাগজ পত্র নিয়ে হাজির হচ্ছেন। এসব বিষয় সমাধান করার কারণে হয়তো সময় একটু বেশী লাগছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি প্রফেসর সিকান্দার খান বলেন, বন্দর নগরীর যেকোনো স্থানে গেলেই মনে হবে এটি যেন বিলবোর্ডের নগরী। সড়কের ধারে, ভবনের ছাদে অথবা রোড ডিভাইডারের উপরে বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি। এসব বিলবোর্ড মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।


আরোও সংবাদ