বিরোধী নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে বি চৌধুরী ও কর্নেল অলি

প্রকাশ:| রবিবার, ১ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ

বি চৌধুরী ও কর্নেল অলিবিরোধী দলের গ্রেপ্তারকৃত সিনিয়র নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে বিকল্পধারা ও এলডিপি। আলাদা বিবৃতিতে বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এ দাবি জানান। বিরোধী নেতাদের নিঃশর্তে মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি তারা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের ইস্যুতে আলোচনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান সরকারের প্রতি। বিবৃতিতে বি. চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরোধীদলের প্রতি মুহুর্মুহু চ্যালেঞ্জ দেয়া রাজনৈতিকভাবে সমীচীন হয়নি। বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তাতে সংঘাতের জন্য এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য শোভন হয়নি। রাস্তায় নামার জন্য কেন আহ্বান করছেন, তা বোঝা যায় না! তিনি বলেন, সাদা পোশাকধারী পুলিশ বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ের জানালার গ্রিল কেটে দলটির চেয়ারপারসন, মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতাদের কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে। ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ ও অন্য এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। রিজভীকে প্যান্ট পরতে এবং হাতের লাঠিটি পর্যন্ত নিতে দেয়া হয়নি- এগুলো কোন রাজনৈতিক সরকারের জন্য শোভনীয় নয়। আমি সরকারের এই সব অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা করছি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের যদি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পূর্ণমাত্রায় সদিচ্ছা থাকে এবং নির্বাচনে বিরোধী দলকে আহ্বান শুধুমাত্র মুখের কথা নয়, তা হলে সরকারের উচিত হবে এই মুহূর্তে নেতাদের মুক্তি দিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা উচিত। ওদিকে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, রাতে সাদা পোশাকধারী পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যে কায়দায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ, নেতাদের গ্রেপ্তার ও ভাঙচুর করেছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। তিনি বলেন, অভিযানের সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত না থাকলে রিজভী আহমেদকে হয়তো গুম করা হতো তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কমান্ডো স্টাইলে বিএনপি অফিসের এই হামলা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিপন্থি। কোন ব্যক্তি আধাপাগল না হলে, এ ধরনের কাজ করেতে পারে না। অলি বলেন, আমরা আশা করি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্বার্থে সরকার আওয়ামী পুলিশদেরকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখবে। কর্নেল (অব.) অলি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বারবার বলেছেন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা সহ নির্বাচন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজের তদারকি ও বদলি নিয়ন্ত্রণ করবেন। তা হলে কি আমরা ধরে নিতে পারি, যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশে এ হামলা হয়েছে। অথবা তারা সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আলাপ আলোচনায় কোন সুফল বয়ে আনবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারংবার বলেছেন প্রয়োজনে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদও বিরোধী দলকে দেবেন। সত্যিকার অর্থে তিনি যদি এই কথাগুলো বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আলোচনার পথ আরো সুগম হবে এবং একধাপ এগিয়ে যাবে।


আরোও সংবাদ