বিভক্তি কাটাতে সমন্বয় পরিষদের(আ.লীগ) সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী উত্তম

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২১ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

সমিতির নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বিভক্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ সম্পাদক পদে তৃতীয় আরেকজনকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা।

রোববার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জেলার নেতাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সভায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সদস্য সচিব ফজলে নূর তাপস।

সাধারণ সম্পাদক পদের অন্য দুই প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু হানিফ ও সাবেক জেলা পিপি আবুল হাশেম সার্কিট হাউজে উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা সভায় অংশ নেননি।

জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি রতন কুমার রায় বলেন, “চেম্বার বরাদ্দে অনিয়েমের অভিযোগ ওঠার পর পাবলিক পারসেপশন ভালো না হওয়ায় আবু হানিফের এবং শর্ট নোটিসে ঘোষণা দেওয়ায় আবুল হাশেমের মনোনয়ন বাদ দিয়ে তৃতীয় আরেকজনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

“তিনি হলেন উত্তম কুমার দত্ত। আমাদের স্টিয়ারিং কমিটির সবাই এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে একমত হয়েছেন।”

সভায় উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন যেহেতু দুই জন হয়ে গেছে তাই আপনারা অন্য একজনের নাম বলুন। তখন আমি উত্তম কুমার দত্তের নাম প্রস্তাব করি। অন্যরা সবাই সমর্থন করেন।”

চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধের জেরে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ।

নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৫ নভেম্বর সমন্বয় পরিষদের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা হয়েছিল সভাপতি পদে ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হানিফকে রেখে।

কিন্তু চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে বিরোধে গত সোমবার রতন কুমার রায় ও আবু হানিফের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি সভার পর সেদিন বিকালেই সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক পিপি আবুল হাশেমের নাম ঘোষণা করা হয়।

এরপর থেকে সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে আবু হানিফ ও আবুল হাশেম দুজনই প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এর মধ্যেই রোববার কেন্দ্রীয় নেতারা হস্তক্ষেপ করলেন।

তবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের পর তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোটের জন্য আমি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সব আইনজীবীর কাছে গিয়েছি। আমার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি আছে। আমি নির্বাচনে অংশ নেব।”
অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ আনলেই তো হবে না, প্রমাণ দিতে হবে। কেউ এক টাকার অনিয়ম দেখাতে পারলেও আমি নির্বাচন করতাম না। চেম্বার বাণিজ্য করতে দিইনি বলে তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।”

আরেক প্রার্থী আবুল হাশেম বলেন, “এ বিষয়ে পরে কথা বলব। এখন ব্যস্ত আছি।”

সভায় চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, অশোক কুমার দাশসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ১১ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ সময় ২২ জানুয়ারি।