বিনা ভোটে ক্ষমতা দখলের নির্বাচন আর হতে দেয়া হবেনা

প্রকাশ:| শনিবার, ২৯ জুলাই , ২০১৭ সময় ১১:০৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আগামীতে বিনা ভোটে আর ক্ষমতা দখলের নির্বাচন আর হতে দেয়া হবেনা। তিনি বলেন, দেশে এমন নির্বাচন হতে হবে যেটি সবার অংশগ্রহণে সঠিক, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।দীর্ঘদিন মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেনা। ‘আওয়ামী লীগ মার্কা’ ক্ষমতা দখলের নির্বাচন আর জনগন চায় না।

তিনি আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটা রেস্তোরায় ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সাবেক ছাত্রদের এক সভায় এসব বলেন।

ডা. শাহদাত বলেন, নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার দরকার। সহায়ক সরকার ছাড়া প্রহসনের নির্বাচন হতে দেবেনা এদেশের মানুষ। তিনি বললেন,আগামী নির্বাচনে একতরফা খেলা হবে না । বিনা ভোটে সরকার গঠন করে গায়ের জোরে দেশ চালাতে দেয়া হবেনা। জনগন যাতে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচিত করতে পারে সেজন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠনে সংলাপে বসা উচিত সরকারের। এটা সরকারের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগন আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করে নেবে।

বিএনপির তথ্য ও গববেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আজকে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। এবং সেই নির্বাচন না কি সংবিধান অনুয়ায়ী হবে। প্রশ্ন হচ্ছে কোন সংবিধান? যে সংবিধান (আওয়ামী লীগ) নিজেদের স্বার্থে ভেঙে চুরে, কেটে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলেছে সে সংবিধান!

তিনি বলেন, সংবিধানকে ইচ্ছেমতো কেটে তারা (আওয়ামী লীগ) মনগড়া কাগজ তৈরি করেছে। সরকার এখন আমাদের তাদের মত করে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে বলছে- কিন্তু নির্বাচন কিভাবে করবে সেটা নিয়ে কথা বলছেনা। রেফারি ও লাইন্সম্যান সব তারা । তারা একতরফা ফাউল খেলে গোল দিয়ে যাবেন। আমরা জার্সি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকবো এটাতো হতে পারেনা।

এভাবে কী খেলা হয় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, একতরফা খেলা হবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছাড়া নির্বাচন হবে না। সে জন্য আমরা বলেছি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে। কিন্তু কীভাবে হবে? সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে সংলাপ বসতে হবে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর নির্বাচনের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

ডা. সারোয়ার হোসেন বলেন, পরিবর্তনের ঝোড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। ক্ষুদ্ধ জনগণের অভিযাত্রায় প্রবল বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়ার ভয়েই নিজেদের হাতে ক্ষমতা রেখে নির্বাচন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার।

তিনি বলেন, এ আওয়ামীলীগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল।এখন ক্ষমতা দখল করে নিজেদের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করেছে। নিজেদের স্বার্থে, ইচ্ছা মাফিক সংবিধান বদল বা সংশোধন করেছে তারা। আমরা বরাবরই তাদের এ অপকর্মটির বিরোধীতা করেছে। কিন্তু জনমত তোয়াক্কা না করে তারা একতরফাভাবে সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। এখন তারা বিএনপিকে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে।

ডা. সাইফুদ্দিন নিসার আহমেদ তুষার বলেন, তারা এতো সংবিধানেত দোহাই দিচ্ছেন, সংবিধানে তো সব দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার আছে। বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা আছে, কিন্তু সাংবিধানিক সেই বিধান তো সরকার মানছে না।

ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ তুষান সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সারোয়ার আলম, ডা. রেজাউল আলম নিপ্পন, ডা. হাসনাত আহসান সুমন, ডা. শাকিল আহমেদ, ডা. গাজি মুহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম, ডা. রেজাউল আলম রাজু,ডা. নজরুল ইসলাম আকাশ, ডা. আসলাম উদ্দিন, ডা. মাহমুদুর রহমান সাদাত, ডা. আমানুর রহমান, ডা. মামুনুজ্জামান মামুন, ডা. গোলাম মুশফিক, ডা. গোলাম মোস্তফা, ডা. জাসেদ, ডা. হারিছ মুহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান প্রমুখ।