বিদ্যুৎ,গ্যাস সংকটে ভুগছে বন্দরনগরী

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ জুন , ২০১৩ সময় ০৬:১৬ অপরাহ্ণ

ctg-10বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের সঞ্চালন লাইন ফেটে যাওয়ায় সকাল থেকে গ্যাস সংকটে ভুগছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। গ্যাস সংকটের কারণে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।

গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অন্যান্য দিনের তুলনায় লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় ৭০ মেগাওয়াট। ফলে পানি সরবরাহ করতে পারছে না ওয়াসা। আর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা, আসকার দিঘী পাড় এলাকা, এনায়েত বাজার, জুবিলি রোড, ধোপা দিঘীর পাড়, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, রহমতগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ ছিল না।

এসব এলাকার বাসিন্দারা রোববার সকাল থেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। ফলে অনেক পরিবারেই রান্না হয়নি।

এদিকে রাতের মধ্যে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সংকট সেরে যাবে বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) শহীদ আলী বাংলানিউজকে বলেন, ‘ফেটে যাওয়া বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের সঞ্চালন লাইন মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। আশা করি রাতের মধ্যে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে।’

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে এ ইউনিটে দৈনিক ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

গ্যাসের চাপ কম থাকায় এ কেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক(জনসংযোগ) মনিরুজ্জামান। এ ইউনিটে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে রোববার ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে।

মনিরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, অন্যান্য দিন দিনের বেলায় ১০০-১৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হলেও গ্যাস সংকটের রোববার এর পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ মেগাওয়াট।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে দিনের বেলায় চালু করা হয়েছে তেলভিত্তিক দু’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। স্বাভাবিক সময়ে রাতের বেলায় এসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

এতে উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও সারা দেশে সমস্যার কারণে চট্টগ্রামেও সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিং এর কারণে চট্টগ্রাম ওয়াসায়ও পানি সরবরাহ কমেছে। ফলে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল করিম চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, ১০টি গভীর নলকূপ থেকে ১১ কোটি লিটার পানি উৎপানদ করলেও রোববার তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

বাংলানিউজ ২৩.৬.১৩


আরোও সংবাদ