বিদেশি হত্যায় বিএনপি-জামায়াতের হাত : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| রবিবার, ৪ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৮:৪২ অপরাহ্ণ

সরকারের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে মন্তব্য করে এর পেছনে ‘বিএনপি-জামায়াতের হাত’ থাকার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আর দুটি হত্যাকাণ্ডের কারণে সরকারের সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যাবে- এমন ‘মনে করার কোনো কারণ নেই’ বলেও তিনি জনগণকে সচেতন হতে বলেছেন।

রোববার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখানে একটা ঘটনা ঘটলে খুব সেনসেটিভ হয়ে যাই। অর্জনগুলি যেন সব শ্যাডো হয়ে গেল, অর্জনগুলি যেন সব হারিয়ে গেল। ওই একটা ঘটনায়… আমরা এতো মানসিক দৈন্যতায় কেন ভুগি?

“হ্যাঁ, যে ঘটনা ঘটেছে সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, এখানে অবশ্যই পরিকল্পিত কিছু তো আছেই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা যুদ্ধাপরাধী, তাদের যখন বিচার করছেন, তারাই স্বাধীনতার পর রাজত্ব করেছে পঁচাত্তরের পর ২১ বছর- এটা ভুলে যাবেন না। তারাই ক্ষমতায় ছিল। আজকে যখন তার বিচার করছি, তার কিছু রিঅ্যাকশন তো হবেই।”

এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সব অর্জন একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল এই দুই ঘটনায়, এই যদি আপনাদের চিন্তা-ভাবনা হয়, তাহলে তো আমার মনে হয় যে বিএনপি-জামাত রাজাকারদের যে উদ্দেশ্য সেটাই সফল।

“তারা এ ঘটনাগুলি… পেছনে নিশ্চয়ই মদদ আছে। এবং এটা করাই হচ্ছে আমাদের অর্জনটা যেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে ইতালীয় এনজিওকর্মী চেজারে তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আর শনিবার সকালে রংপুরে একই কায়দায় খুন হন জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি।

এ বিষয়ে সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ারের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই বলেন, দুই হত্যাকাণ্ডের ধরণ ‘একই রকম’।

“গুলশানে ইতালিয়ান নাগরিক যে মারা গেল, তাকে যে চারটা গুলি করা হল, একটা গুলিও কিন্তু মিসফায়ার হয়নি। চারটা গুলিই তার লাগল। তার মানে এটা সুপরিকল্পিত। আমি একটু স্মরণ করাতে চাই, ঠিক তার আগে বিএনপির এক নেতার কিছু বক্তব্য এবং এই হত্যাকাণ্ডের পর তার যে রিঅ্যাকশন, আপনারা যদি একটু মিলিয়ে দেখেন, তাহলেই জিনিসটা খুব স্পষ্ট হয়ে যায়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এটা দেশবাসীকেও বুঝতে হবে। দেশের মানুষকে জানতে হবে। তারা এই যে ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে এটার পেছনে একটা উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই আছে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে তাদের একটা হাত আছে, এতে কোনো.. ই নাই।”

একটি পক্ষ বাংলাদেশকে অস্থিতিশলী করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র ধরে রেখেছে, এটা ‘তাদের’ পছন্দ হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আইএসের কোনো তৎপরতা নেই এবং ‘এ ধরনের সন্ত্রাসবাদকে’ তার সরকার বাংলাদেশে মাথা চাড়া দিতে দেবে না।

এ ধরনের ঘটনা বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখবেন, এই হত্যাকারীদের ধরা হবে, বিচারও করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ঢুকে নয়জনকে হত্যা এবং অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলিতে দুইজনকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ওখানে কি কেউ রেড অ্যালার্ট দিয়েছে? আমরা অল্পতেই খুব সেনসিটিভ হয়ে যাই।”

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মিনিটে কতজন খুন হচ্ছে, কতটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, সেই পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১২ সালে নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজমুল ইসলাম (৫৫) খুন হওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশি নাগরিক মারা গেলে আমরা যত গুরুত্ব দেই, আমার দেশের মানুষ মারা গেলে আমরা তত গুরুত্ব দেই না কেন? এটা আমার প্রশ্ন।”

পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সরকারপ্রধান।

যারা জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের প্রশ্রয় না দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা জনগণের সাথে আছি।”

অস্ত্র বিক্রি না করলে এবং মদদ না দিলেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা কোনো ধর্মের লোক নয়, ‘সন্ত্রাসই’ তাদের ধর্ম।

জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে এই সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।


আরোও সংবাদ