বিদেশিদের সহায়তা কামনা করছেন রওশন

প্রকাশ:| শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:০৯ অপরাহ্ণ

দেশে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিদেশিদের সহায়তা কামনা করছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ।

যে জোটের আন্দোলনকে ঘিরে বর্তমান সঙ্কটের সৃষ্টি সেই ২০ দলীয় জোটও বারবার বলে আসছে তাদের আন্দোলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বর্তমান সঙ্কটকে রাজনৈতিক সঙ্কট বলতে নারাজ।

শনিবার রাতে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের জন্য আয়োজিত এক নৈশভোজে নিজের শুভেচ্ছা বক্তব্যে সরাসরি তাদের কাছে সহায়তা চান রওশন। রওশন এরশাদই ছিলেন এ নৈশভোজের আয়োজক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রওশন এরশাদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন দরকার ছিল। শেখ হাসিনা বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন নির্বাচনে আসার জন্য। কিন্তু তারা আসেনি। এ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ করা উচিৎ ছিল। সেসময় তিনি যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। দেশের মানুষ শান্তি চায়। বিএনপি আজ সংসদের বাইরে। তারা সংসদে নেই। তারা বাইরে থেকে জ্বালাও-পোড়াও করছে। আমার শান্তি চাই, সরকারও শান্তি চাই। এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা, শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য আপনাদের সহায়তা চাই।’

চীন, ভারত, জাপান, রাশিয়া, ওমানসহ ২৮টি দেশের কূটনীতকরা এ নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে ছিলেন- পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম, সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলাম প্রমুখ।

রওশন বিদেশিদের সহায়তা চাইলেও নৈশভোজ শেষে বেরিয়ে এরশাদ বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। আমাদের সমস্যা, আমাদেরই সমাধান করতে হবে।’

সঙ্কট নিরসনে দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের প্রতিবাদের মধ্যেই গত বছরের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রহসনের নির্বাচন আখ্যায়িত করে ওই নির্বাচন থেকে দূরে থাকে বিএনপি-জামায়াত জোট। ওই নির্বাচন ঠেকাতে ব্যাপক সহিংসতা চালায় নির্বাচনবিরোধীরা। নির্বাচনরে পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলেও নির্বাচনের বছরপূর্তিকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরুর দিকেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন। ফের শুরু হয় সহিংসতা। এসব সহিংসতার জন্য বিএনপি জোট ও ক্ষমতাসীনরা পরস্পরকে দোষারোপ করছে। এরইমধ্যে বাড়ছে নিহত-আহতের সংখ্যা। ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন; যার সিংহভাগই পেট্রোলবোমা হামলার শিকার।


আরোও সংবাদ