বিদেশিদের নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ সর্তকতা

প্রকাশ:| রবিবার, ৪ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১১:৫২ অপরাহ্ণ

ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি নাগরিক খুনের ঘটনায় বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আর খুনিরা এ ঘটনা দুইতেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় এবার চট্টগ্রামে মোটরসাইকেলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। পাশাপাশি যেসব এলাকায় বিদেশি নাগরিকের অবস্থান বেশি সেই সব এলাকায় পোশাকধারী পুলিশসহ সাদা পোশাকের পুলিশের কার্যক্রম জোরদার ও নগরীর অন্তত ৩০টি স্পটে সার্বক্ষণিক চেক পোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক চাইলেই তাকে সিএমপির পক্ষ থেকে স্কট দেয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএমপি।

রোববার রাতে সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে জরুরি এক মিনি কনফারেন্সে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে এসব সিদ্ধান্তের বাইরেও নগরীর আইনশৃংখলা রক্ষায় সিএমপির করণীয় সম্পর্কে একটি ধারণা নেন সিএমপি প্রধান। সিএমপির প্রত্যেক থানার ওসি থেকে শুরু করে এসি, এডিসি, ডিসি ও দুই অতিরিক্তি কমিশনারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় আলোচিত এজেন্ডাগুলো আগামীকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের অনুষ্ঠেয় ক্রাইম কনফারেন্সে তুলে ধরবেন সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল সব পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, প্রত্যেক থানায় যেসব বিদেশি নাগরিক থাকেন তাদের তালিক খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তৈরি করে থানায় রাখার পাশাপাশি নগর পুলিশের বিশেষ শাখার কাছে জমা দিতে হবে। তাদের বাসা ও কর্মস্থানে পুলিশি টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারিও আগের চেয়ে দ্বিগুণ করতে হবে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার দিকে যেসব বিদেশি নাগরিক জগিং করতে বের হন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, যেকোনো বিদেশি নাগরিক চাইলেই তাদের পুলিশি স্কট দিতে প্রত্যেক থানার ওসিদের নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। আর এসব কাজ নিবিড়ভাবে তদারকি করতে প্রত্যেক ডিসি ও এডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন সিএমপি প্রধান।

ঢাকা ও রংপুরে একই কায়দায় দুই বিদেশি নাগরিককে মোটরসাইকেল যোগে এসে গুলি করে হত্যা করায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পুলিশ কমিশনার। এজন্য নগরীর অন্তত ৩০টি স্পটে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি সারপ্রাইজিং চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন যানবাহন ও লোকজনকে তল্লাশি করতে বলা হয়েছে। যেকোনো মোটরসাইকেলে একজনের বেশি উঠলেই তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ ক্রাইম কনফারেন্সে।

এছাড়া, কর্ণফুলী ইপিজেড, কোরিয়ান ইপিজেডসহ বিদেশিদের কর্মস্থানে যাতায়াতের পথে পুলিশকে সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থায় থেকে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের। একাজে ডিসি থেকে শুরু করে থানার একজন কনস্টেবলও যাতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা না করেন সে ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সিএমপি কমিশনার।

এদিকে, নগরীর শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে শিল্প পুলিশ-৩। রোববার বেপজা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে নিজেদের এ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রয়োজনে বিদেশিদের স্কট দিতে তারাও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে সব মিলিয়ে আড়াই হাজারের মত বিদেশি নাগরিক রয়েছে। তবে এদের অধিকাংশেরই বসবাস হচ্ছে নগরীর খুলশীতে। সেকারণে এ থানায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সিএমপিকে বেশি মনযোগ দিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইপিজেড ও খুলশী ছাড়া সিএমপির অন্য সব থানা তাদের থানা এলাকায় অবস্থিত সব বিদেশি নাগরিকের তালিকা প্রস্তুত করেছে। দু’য়েক দিনের মধ্যে এ দুই থানারও তালিকাও প্রস্তুত করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর সেই তালিকা ধরেই বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বিদেশি নাগরিক অবস্থানকারী হোটেলগুলোতেও পুলিশি প্রহরার পাশাপাশি সাধা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএমপি।


আরোও সংবাদ