বিতর্কের মধ্যেই দুদকে ৪৭ কর্মকর্তার পদোন্নতি

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ মে , ২০১৫ সময় ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

দিনভর নানা তর্কবিতর্ক ও আলোচনা-আপত্তির মধ্য দিয়ে অবশেষে পদোন্নতি পেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৪৭ কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ৫ জন উপ-পরিচালককে পরিচালক পদে ও ৭ জন সহকারী পরিচালককে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

পদোন্নতি অনেকে আপত্তি ও বিতর্ক থাকায় রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সভা করে কমিশন। অবশেষে ৪৭ জনের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয় বলে বাংলামেইলকে নিশ্চিত করেছেন দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চপ্পু।

তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। তবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত নামের তালিকা জানাতে চাননি তিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা ও মতভেদ চলছিল কর্মকর্তাদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, এবারের পদোন্নতি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কিংবা দক্ষতার ভিত্তিতে হচ্ছে না। অন্যদিকে রোববারের সভায় দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান এসব বিষয়ে তীব্র আপত্তি করেছিলেন বলে জানায়। আর এমন মতপার্থক্যের কারণেই সভা এতো দীর্ঘ হয়।

সূত্র মতে, উপ-পরিচালক থেকে পরিচালক পদে যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তারা হলেন: আক্তার হোসেন, আবু সাইদ, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, মো. সৈয়দ ইকবাল হোসেন এবং শিরীন পারভীন।

৭ জন সহকারী পরিচালককে উপ-পরিচালক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন- মো. সামছুল আলম, শেখ আবদুস ছালাম, সৈয়দ আহমেদ, আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম (প্রশাসন) এবং রফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী)।

আর উপ-সহকারী পরিচালক থেকে ২৩ জনকে সহকারী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। সহকারী পরিদর্শক থেকে ১২ জনকে উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপপরিচালক পর্যায়ের এক দুদক কর্মকর্তা জানান, কোনো কর্মকর্তা পদন্নতির ক্ষেত্রে কয়েকটি জিনিস বিবেচনায় আনা হয়। তার মধ্যে প্রথম জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি), এসিআর বা বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় কোনো শাস্তি আছে কি না বা সততার বিষয়টি দেখা হয়। এখানে বিভাগীয় কোনো শাস্তি থাকলে উপরের কোনো শর্তই কাজ করবে না। আর এগুলো যাচাই-বাছাই করবে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি)। এই কমিটির প্রধান থাকবেন দুদক সচিব, সদস্য হিসাবে ক্যাবিনেটের একজন, দুদক প্রসাশনের মহাপরিচালক ও আইনের মহাপরিচালক এবং প্রসাশনের পরিচালক।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই পদোন্নতি কমিটি কর্মকর্তাদের সব রকমের মাপকাঠিতে বিবেচনা করে কমিশনের কাছে পদোন্নতি চেয়ে সুপারিশ করবেন। তবে কমিশন এসব সুপারিশের বাইরে কাউকে যুক্ত করতে পারবেন না। তাই আমি জ্যেষ্ঠার ভিত্তিতে এগিয়ে ছিলাম। তাছাড়া আমার নাম ডিপিসি সুপারিশও করেছিল বলে শুনেছি। তারপরও নাকি আমার হবে না। অথচ আমার যারা জুনিয়র (ক্রম অনুসারে) তারাই পদোন্নতি পাচ্ছে। আসলে এটা কীসের ভিত্তিতে আমার জানা নেই।’

আরো একাধিক কর্মকর্তা কাছে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা যায়, রোববার কমিশন সভায় দুদক সচিব ও একজন কমিশনারের মধ্যে নানা রকম মতভেদ দেখা যায়। যারা ফলে সকাল থেকে এই সভা শুরু করলেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছিল না কমিশন। সভায় দুদক সচিব পদোন্নতির বিষয়ে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি তুলে সুপারিশ করেন। কিন্তু সেখানে সুপারিশ করার সময় নিয়ম হলো ৫টি পদের জন্য কমপক্ষে ৭টি নামের সুপারিশ দিতে হবে। আর সেখানেই দুদকের এক কমিশনার জ্যেষ্ঠতা বাদ দিয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরার কারণে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। তবে সব শেষে জ্যেষ্ঠতার চাইতে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে আজকের সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কমিশনার (তদন্ত) মো. দসাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ, দুদক সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মহাপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) সহিদুজ্জামান প্রমুখ।