বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে ওবামা-জিনপিং মুখোমুখি

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ জুন , ২০১৩ সময় ০৫:০১ অপরাহ্ণ

 ডেস্ক চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যে দুই দিনব্যাপী শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। শুক্রবার শুরু হওয়া এই বৈঠকের প্রথম দিনেই দুই দেশের প্রেসিডেন্ট চীন এবং আমেরিকার মধ্যে বিদ্যমান মতভেদ দূর করে একটি নতুন সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে দুটি দেশের সাইবার নিরাপত্তাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয়েও মুখোমুখি আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে। তথ্যসূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা
আমেরিকা এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে ওবামা বলেন, ‘শি জিনপিংয়ের ক্ষমতায় আরোহণের পর এত তাড়াতাড়ি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়াটা আমেরিকা এবং চীনের মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্ব নির্দেশ করে। আমি মনে করি, দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কটি কেবল চীনের জন্যই নয়, বিশ্ব এবং আমেরিকার মঙ্গলের জন্যও দরকার।’ চীনের ‘শান্তিপূর্ণ উত্থানকে’ স্বাগত জানিয়েছেন ওবামা। এর পাশাপাশি চীন এবং আমেরিকার মধ্যে বিবদমান বিষয়গুলোর কথা একেবারে এড়িয়ে না গিয়ে ওবামা বলেন ‘দুই দেশের মধ্যে এমন কিছু বিতর্কিত ইস্যু আছে, যেগুলো উত্তেজনার সৃষ্টি করবেই।’ বিবাদের বিষয় হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকা ও চীনের উপস্থিতি এবং প্রভাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের প্রকল্পের কথাও সরাসরি উল্লেখ করেছেন তিনি। এসব বিতর্কিত বিষয় সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তার একটি মডেল গড়ে তোলার ওপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন ওবামা।
বারাক ওবামার মতোই দুই দেশের মাঝে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনা প্রেসিডন্ট বলেন, তিনি এবং ওবামা ক্যালিফোর্নিয়ায় একত্রিত হয়েছেন দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে কেমন সম্পর্ক গড়ে উঠবে, তার রেখাচিত্র তৈরি করতে। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরে দুই দেশের প্রভাব বিস্তারকে বিতর্কের বিষয় উল্লেখ করে ওবামার দেয়া ভাষণের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগর চীন এবং আমেরিকার মতো দুটি সুবিশাল দেশের জন্যই পর্যাপ্ত জায়গার জোগান দিতে পারবে বলেই আমি মনে করি।’ এছাড়া দুই দেশের মধ্যে আরো অধিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে জিনপিং বলেন, ‘চীন এবং আমেরিকা ভবিষ্যতে বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত তার একটি মডেল তৈরি করতে পারে।’
মরুভূমি-প্রধান দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিলাসবহুল অবকাশযাপন কেন্দ্রে ওবামা এবং শি জিনপিংয়ের এই বৈঠকের পুরোটা সময়ই অনানুষ্ঠানিক আবহাওয়া বিরাজ করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এতগুলো বিতর্কিত এবং উত্তেজনাপূর্ণ ইস্যুর গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার পাশাপাশি যেন দুই দেশের মধ্যে একটি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, সে কারণেই অনানুষ্ঠানিক এবং কূটনৈতিক রীতিনীতির বাগাড়ম্বরপূর্ণ আবহাওয়ার দিকে যাননি তারা। তাছাড়া চলতি বছরের মার্চে চীনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণকারী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ওবামার এটাই প্রথম বৈঠক। শুক্রবার রাতে একটি ডিনারের মধ্যদিয়ে চীন এবং আমেরিকার এই দ্বিপাক্ষিক ইস্যুটি শুরু হয়।
দুই দেশের প্রেসিডেন্টই চীন এবং আমেরিকার একটি সুদূরপ্রসারী সুসম্পর্কের অঙ্গীকার করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্যভা-ারে চীনা হ্যাকারদের হামলা, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সমৃদ্ধকরণের মতো তাৎক্ষণিক বিষয়গুলোই দুই প্রেসিডেন্টের মূল বিবেচ্য বিষয়। তাই সেপ্টেম্বরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে দুই প্রেসিডেন্টের প্রথম দেখা হওয়ার কথা থাকলেও তা এগিয়ে জুনে নিয়ে আসা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি খবরে জানা যায়, আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশকিছু নির্মিতব্য অস্ত্রের নকশা চুরি করে নিয়ে গেছে চীনা হ্যাকাররা। অন্যদিকে ধারণা করা হয়, উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটির পরমাণু সমৃদ্ধকরণের পথে সত্যিকারের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। তবে হ্যাকিং প্রসঙ্গ বৈঠকে তুলতে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে ওবামাকে। কারণ মাত্র একদিন আগে ওয়াশিংটন পোস্টেরই এক সংবাদে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার সরকার জনগণের ভার্চুয়াল কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করছে। এছাড়া বৈঠকেও হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সরাসরি কোনো অভিযোগ উত্থাপন বা সমাধান দাবি করেননি ওবামা।


আরোও সংবাদ