বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন

প্রকাশ:| শনিবার, ৩ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ০৬:১০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্মিত আইন অনুষদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরা ভূলেও কখনো কোনো মন্ত্রণালয় বা কারো কথায় রায় দেইনি। আমরা বিচারকরা মামলার নথিপত্র ও সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই রায় দিয়ে থাকি।’

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরো বলেন, ‘আমেরকিার কংগ্রেস লিডার যিনি তিনি কিন্তু আইনের অধ্যাপক। শুধু তাই নয় সেখানে প্রায় ৮০ ভাগ ছাত্র আইনের শিক্ষার্থী। তাই তারা আইনের সুশাসন সহ দেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পেরেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে পার্লামেন্টে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের  ৮০ ভাগই ব্যবসায়ী।’

তিনি বলেন, ‘দেশে মাত্র আইনের শিক্ষার্থী ৩-৪ ভাগ। তাই পরবর্তী প্রজন্ম যদি আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে এ সংখ্যা বাড়িয়ে পার্লামেন্টে তাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। তখন দেশে অনিয়ম বন্ধ হবে।’

আইনের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনের শিক্ষার প্রতি সকল পেশার মানুষকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর গুরুত্ব দিলেই দেশে আইনের ছাত্র বৃদ্ধি পাবে আর তখন আমরা ভাল আইনবিদ পাব। যে যত বেশি আইনের শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিবে সে তত বেশি ভাল আইনবিদ হবে। আর তাই বর্তমানে আইনের সিলেবাসকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চর্চা করতে হবে।’

তিনি আগের বাংলার মানুষকে সভ্য উল্লেখ কওে বলেন, ‘আগের বাংলার মানুষরা বর্তমানের চাইতে অনেক বেশি সভ্য ছিল। কারণ তখন অপরাধ প্রবণতা কম ছিল। আর বর্তমানে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।’

সর্বশেষে তিনি নতুন আইন অনুষদ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করায় এ.কে.খান ফাউন্ডেশন পরিবারকে ধন্যবাদ জানান ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুন্দর দালান হলেই যে সুন্দর আইনবিদ পাওয়া যাবে তা কিন্তু ঠিকনা। ভাল আইনবিদ হওয়ার জন্য প্রয়োজন সুন্দরমন।’

টাঙ্গাইলে বিনা উসকানিতে পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনায় জেলা  ম্যাজিস্ট্রেটকে ইঙ্গিত করে ড. মিজান বলেন, ‘আপনার পুলিশ নিরহ মানুষকে গুলি করে মারে অথচ আপনি খোঁজ রাখেননা। আপনাকে জিজ্ঞাস করলে বলেন, এসবের আমি কিছুই জানিনা। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় তারা আপনাকে মানে কি না? আপনাকে না মেনেই তারা গুলি চালিয়েছে?’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এ কে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সেক্রেটারি সালাউদ্দিন কাশেম খান, চবি আইন অনুষদের প্রতিষ্ঠাকালিন ডিন প্রফেসর ড. এম এ শাহ আলম, বর্তমান ডিন ড.আব্দুল্লাহ ফারুক, চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ নুরুল হুদা, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন

এর আগে সকাল সাড়ে ১০ টায় চবি আইন অনুষদের নব নির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানবিচারপতি।

প্রসঙ্গত, উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০০৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ কে খান গ্রুপের কাছে ভবন নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়। ২০০৯ সালে দু’পক্ষের মধ্যে এ ব্যাপাওে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর হয়, ২০১১ সালের আগস্ট মাসে ভবনের নকশা অনুমোদন হয় এবং ২০১১ সালের ৩ নভেম্বর ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। যেটির কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের মার্চে।