বিচারকরাই শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেনা

প্রকাশ:| বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

বিচারকরাই শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনজীবীদের বাদ দিয়ে কোনভাবেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কিছু মিডিয়া, কিছু বুদ্ধিজীবি, এবং সমাজের কিছু লোক বলেন, বিচারকরাই শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এটা কোনমতেই সত্য না। আইনের শাসন বলতে আমরা বিচারকরা চলাফেরা, উঠা-বসা, আইনের গতি যেদিকে সেদিকে ছাড়া অন্যদিকে না গিয়ে সঠিক বিচার করা। কম সময়ের মধ্যে বিচার করা, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচার করার পর রায় দেয়। রায় দেয়ার পর সে রায় যাতে সেকশনে কোন গাফিলতি না হয়। রায়ের সার্টিফিকেট কপি দ্রুত দিয়ে দেওয়া। বিচারকদের এসব করা উচিত এর সাথে আপনারা বিজ্ঞ আইনজীদের সহযোগিতকা ছাড়া কোনভাবেই আমার বিচারকরা বিচার করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা আইনজীবীদের সহরেযাগিতা আমার দরকার। আইনজীবীরা হলেন কারিগর। আপনারা একটা মামলার বাদি পক্ষের হোক বিবাদী পক্ষের হোক সাক্ষ্য নেন। আমাদের বিচারকরা এসব দেখে সিদ্ধান্ত নেন। বলা হচ্ছে, আজকে ৩১ লক্ষের উপরে মামলা আছে। কিছু লোক বলছে, বিচার বিভাগতো গেল। এত মামলার ভার নিতে পারছে না। তবে আমি বলবো পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় এই ৩১ লক্ষ মামলা খুব বেশী নয়।’

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের এ অভিভাবক আরো বলেন, ‘বিশেষ করে ভারতের তুলনায় আমাদের মামলার সংখ্যা অনেক কম। যদিও প্রতি দশ লক্ষ মানুষের গড়ে যতজন বিচারক থাকার কথা আমাদের দেশে সে দশ লক্ষ লোকের অর্ধেকের বিচারক আছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে কম বিচারক আমাদের দেশে। এবং এইকম বিচারক নিয়েও আমরা কিন্তু দেখিয়ে দিয়েছি, এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব। আমি দায়িত্ব নেওয়া পরে বিভিন্ন সময়ে সার্কুলার জারি করে বিচারকদের মোটিভেট করেছি।’

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরো বলেন, ‘অনেক আইনজীবী দুপুরে লাঞ্চের পর জামিন শুনানীসহ বিচারকাজে অংশ নিতে চাননা। আপনারা কিন্তু জনগণকে তাদের আইনের অধিকারে নিশ্চয়তা দিতে কাজ করছেন। এই মহান পেশা আপনারা বেছে নিয়েছেন। আশা করি আপনাদের এই সাময়িক অসুবিধা এটা সহ্য করে নেবেন।’

চট্টগ্রামের আদালতের বিচারক সংকট ও মামলাজট নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার বিশেষ আদালতে ১৯৯৪ সালের মামলা ১৯৯৫ সালের মামলা, ১৯৯৬ সালের মামলা রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দেখলাম। সেখানে নন জিআর মামলা প্রায় ১০-১২-১৫ বছর আগের। এই মামলাগুলো আপনারা (আইনজীবী) যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে দ্রুত নিষ্পপ্তি করা সম্ভব। আইনের গতি যে দিকে সেই পথে বিচার করা, যত সম্ভব কম সময়ের মধ্যে শেষ করা।’

তিনি বলেন, ‘হয়তো এত বিচারকের মধ্যে কয়েকজন একটু এদিক সেদিক করে থাকে। তারপরও সবচেয়ে ভালো বিচারকরদেরই আমি এখানে নিয়োগ দিয়েছি। বিচারকদের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ থাকলে সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর যে অভিযোগ বাক্স রাখা হয়েছে সেটিতে অভিযোগ দাখিল করলে আমরা দু’তিন দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেবো।’

‘অচিরেই চট্টগ্রামে যে ৬ জন অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংকট রয়েছে তার মধ্যে অন্তত ৫ জনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। এছাড়া যে ৮ জন সহকারি জজ সংকট রয়েছে সেটিও ধীরে ধীরে পূরণ করা হবে। জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের বসার যে স্থান সংকট রয়েছে সেটিও সমাধান করা হবে।’-বলেন প্রধান বিচারপতি।

মতবিনিময় সভা উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার,  চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ এস এম নুরুল হুদা, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহেনূর, চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাহান কবীর, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মশিউর রহমান, বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালের বিচারক মহিদুল হক এনাম চৌধুরী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডাভোকেট এনামুল হক প্রমুখ।