বিকাল ৪-সন্ধ্যা ৭টা নগরীতে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ

প্রকাশ:| সোমবার, ১৫ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

মিরসরাইয়ে অবৈধ কাঠবাহী ট্রাক আটকআসন্ন রমজানে ইফতারের সময় যানজট এড়াতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পণ্যবাহী যে কোন ধরণের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সিএমপি।

সোমবার বিকেলে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসন্ন রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সম্মেলন কক্ষে পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মন্ডলের সাথে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, পরিবহন, দোকান মালিক ও হকার্স সমিতির যৌথ এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ উল হক বলেন, ‘আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকল্পে চট্টগ্রামের চেম্বার নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আমদানীকারক, পাইকারী ব্যবসায়ী, দোকান মালিক সমিতি ও হকার্স সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রমজানে বিশেষ করে ইফতারের আগে ও পরে যানজট এড়াতে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সব ধরণের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি সর্বাত্মক সহযোগিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।’

এছাড়া ওই সভায় আরো বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে খাদ্যদ্রব্যসহ ভোজ্য তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার আশু করনীয়, মার্কেটে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বখাটেপনা রোধ, বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলে সিসি টিভির ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মার্কেটগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সহ মার্কেট ও বানিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কমিউনিটি পুলিশী ব্যবস্থা, ক্রেতা সাধারণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানজট নিরসন সংক্রান্ত করনীয়, পার্কিং ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল ম-ল।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘রমজানে সব কটি বড় মার্কেটে পুলিশি প্রহরা থাকবে। শহরের অলিতে গলিতে টহল দিবে মোটরসাইকেল টিম। এছাড়া অন্যান্য মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুট পেট্টল, বিভিন্ন স্থানে থাকবে সার্ভিল্যান্স টিম’

পুলিশ কমিশনার আরোও বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল ও ফরমালিন রোধে পুলিশ অত্যন্ত কঠোর থাকবে। কেউ যাতে মজুতদারী করতে না পারে সেটা মনিটরিং করা হবে। অন্যের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে কাউকে ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভেজাল বিরোধী অভিযানে ইতিমধ্যে ৬টি টিম কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে।’ যানজন নিরসনে প্রতিটি মার্কেটে আলাদা পার্কিং এর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার জন্য ব্যবসায় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
সভায় উপস্থিতি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) দেবদাস ভট্টাচার্য্য, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কুসুম দেওয়ান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) মাসুদ-উল-হাসান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ফারুক আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) হারুন-উর-রশিদ হাযারী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) সুজায়েত ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) কামরুল আমীন, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ, উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম) মোকতার হোসেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক প্রতিনিধি, সকল অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সকল সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, সকল টিআই, পিআইগণ।

ব্যবাসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে সালামত আলী, কামাল উদ্দিন, আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন তালুকদার, মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরী, এসএম ইয়াকুব, আমিনুল হক, আব্দুল মান্নান, আলহাজ্ব নুরুল কবির, আইয়ুব খান, হাজী হারুনুর রশিদ, আহম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ ছগির, রফিক উদ্দিন চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, নুরুল আলম সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।