বিকডা-বাফা-বিজিএমইএ বিতর্ক

প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ জুলাই , ২০১৬ সময় ১১:২০ অপরাহ্ণ

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে রফতানি পণ্যের ওজন ভেরিফাই সার্টিফিকেট পদ্ধতি চালু হয়েছে বাংলাদেশে।

নতুন এই পদ্ধতি চালু করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী- লেবার চার্জ ছাড়া শিপার প্রতিষ্ঠানকে সব ধরণের খরচ বহনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না শিপার বা পণ্য পরিবহণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে এরই মধ্যে প্রতি কন্টেইনারে দেড় হাজার টাকা করে চার্জ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সে চার্জ কে দেবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পোশাক রফতানিকারকরা বলছেন এই চার্জ দেবে শিপাররা। অন্যদিকে শিপার প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে অতিরিক্ত চার্জ রফতানিকারককেই দিতে হবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

জটিলতা নিরসনে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান। কিন্তু সেখানে কোন সুরাহা হয়নি। ফলে বিষয়টি সমাধানে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সবিচকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন নৌ-পরিবহন অধিদফতরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন এম জসীমউদ্দীন সরকার।

রফতানি পণ্যের ওজন ভেরিফাই সনদের চার্জ কে দেবে এবং কত হবে তা নির্ধারণ করে আগামী ১ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আর আগামী দেড় মাস পর্যন্ত বিকডার জার্চ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান। কমিটি নির্ধারণের পর দেড় মাসের বকেয়া চার্জ আদায় করবে বিকডা।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক পরিবহন গোলাম সরওয়ার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব(শুল্ক), মংলা পোর্টের উপপরিচালক (পরিবহন), বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী, বাফার অমিয় শংকর বর্মন, বিকডার ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের শাহেদ সরওয়ার, বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিলের আরিফুল হক, বিকেএমইএ’র শওকত ওসমান, সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর রায়।

এদিকে চার্জ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় কমিটি গঠন করা হলেও রফতানিকারকরা বলছেন তারা চার্জ দিতে চায় না। এ বিষয়ে অনড় অবস্থানে বিজিএমইএ। অন্যদিকে বিকডা বলছে ওজন ভেরিফাই সনদ দিতে তাদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে।তার পারিশ্রমিক অবশ্যই দিতে হবে। বাংলাদেশ বাফা’র নেতৃবৃন্দ বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী রফতানিকারককেই এ চার্জ দিতে হবে।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমরা ওজন ভেরিফাই সনদের চার্জ দিতে চাই না। কারণ এটা আমাদের উপর বর্তায় না। এই চার্জ শিপাররা দিবে।

তিনি বলেন, ওজন ভেরিফাই সনদের বিষয়টি জাহাজের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে এটা শিপারের দায়িত্ব। আমাদের নয়। বিকডা একতরফাভাবে চার্জ আদায় করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রতিটন পণ্যের জন্য ১৮০টাকা করে ল্যান্ডিং চার্জ দিচ্ছি। আবার আরেকটা চার্জ দিব কেন। নীতিমালা না মেনেই বিকডা এ চার্জ নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ওজন ভেরিফাই সনদ দিতে গিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রম স্লো হয়ে যায় এবং কাজ অনেক বেড়ে যায় উল্লেখ করে বিকডার নেতারা বলছেন, অতিরিক্ত কাজ করলে তার চার্জ দিতে হবে।

বিকডার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বলেন, আগে যেখানে একবার কাজ করতে হতো সেখানে এখন পাঁছবার কাজ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ আগে একটি কন্টেইনার কেবল স্টাফিং করা হতো। আর এখন গাড়িতে করে আনা-নেওয়া করতে হয়। কন্টেইনারটি গাড়ি থেকে নামাতে হয় আবার তুলতে হয় এবং ওজন করতে হয়। এতে আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে। যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হচ্ছে।

‘অতিরিক্ত কাজের জন্য বিকডা শিপারের কাছে চার্জ দাবি করবে। ডিজি শিপিং এর নির্দেশনা অনুযায়ী শিপার বিজিএমইএ’র কাছ থেকে আদায় করবে।’

এদিকে কোন পদ্ধতিতে পণ্য রফতানি করা হচ্ছে তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিজিএমইএ বলছে এফসিএ (ফ্রি ক্যারিয়ার) আর বাফা বলছে এফওবি(ফ্রিঅনবোর্ড) পদ্ধতিতে পণ্য রফতানি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এফসিএ পদ্ধতিতে পণ্য রফতানি হলে বিজিএমইএ চার্জ না দেওয়ার বিষয়টি সঠিক। কারণ এই পদ্ধতিতে রফতানিকারক কেবল অফডক পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন। এরপর সব ধরনের খরচ বহন করবে শিপার। অন্যদিকে এফওবি পদ্ধতিতে রফতানি করলে বিজিএমইএকেই চার্জ দিতে হবে। কারণ এই পদ্ধতিতে রফতানিকারক জাহাজ পর্যন্ত পণ্য পৌঁছে দেবেন।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী এফসিএ পদ্ধতিতে রফতানি করছেন বলে দাবি করলেও বাফার পরিচালক (পোর্ট এন্ড কাস্টমস) খায়রুল আলম সুজন বলছেন এফওবি পদ্ধতিতে রফতানি হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে আইএমও’র সেইফটি অফ লাইফ এট সি (সোলাস) কনভেনশন রেগুলেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাধ্যতামূলক করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশেও তা কার্যকর হয়।মূলত  ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য জাহাজিকরণের ফলে বিভিন্ন সময়ে নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটায় আইএমও পণ্য পরিবহনে সোলাস কনভেনশন বাধ্যতামূলক করেছে।


আরোও সংবাদ