বিএমসিসিআই নতুন পরিচালনা পর্ষদের যাত্রা শুরু

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

মুক্তবাজার অর্থনীতির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) নতুন পরিচালনা পর্ষদের যাত্রা শুরু হয়েছে। নব-নির্বাচিত পর্ষদ দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে সড়ক, আকাশ ও জলপথে যোগাযোগ, টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংকিং খাতে যৌথ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিষদ মনে করেন যৌথ বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে মায়ানমারের পূর্বমুখী নীতি এবং আশিয়ান মার্কেটে বাংলাদেশের প্রবেশের ক্ষেত্রে মায়ানমার এবং সার্কবাজারে প্রবেশে মায়নামারের জন্য বাংলাদেশ গেটওয়ে হিসেবে কাজ করতে পারে।

সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এসএম নুরুল হক২০১৬-১৭ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এসএম নুরুল হক। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ মো. আব্দুস সোবহান, ইয়াকুব মো. আরিফ এবং শেখ রফিকুল ইসলাম সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। মহাসচিব পদে সাঈফ আহম্মদ, যুগ্ম মহাসচিব পদে জুবে থিহা (মায়ানমার), নির্বাহী পরিচালক পদে এম মোসলেহ উজ জামান, পরিচালক (অর্থ) পদে দেওয়ান মো. আরিফুল ইসলাম ফারুক নির্বাচিত হন। অন্য পরিচালকরা হলেন আব্দুল মবিন, ক্যাপ্টেন কামরুদ্দীন আহম্মদ, এনায়েত উল্লাহ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ আরেফিন, মো. লোকমান, মো. হারুণ উর রশীদ, মো. গোলাম সারওয়ার, গিয়াস উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, শেখ মাহফুজ হামিদ, মো. মুছা, মো. ওমর ফারুক সবুজ, মো. হালিমুজ্জামান।

এসএম নুরুল হক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর ১৯৮৪ সালে রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত হন। সাবলীল নেতৃত্বের অধিকারী জনাব নুরুল হক বিভিন্ন গরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। তিনি বিভিন্ন সময়ে, চট্টগ্রাম চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি, এফবিসিসিআইর পরিচালক, সার্ক চেম্বারের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া রিহ্যাব ইলেকশন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চিটাগাং ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রিমা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান। তিনি চেয়ারম্যান হিসাবে ২০০১ সালে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যি মেলার (সিআইটিএফ) অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বাংলাদেশ মায়ানমার যৌথ বাণিজ্য কমিশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি ২০১১ সালে সিআইপি মনোনিত হন। ২০১২ সালে রপ্তানি বাণিজ্যে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হন।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে মায়ানমারে ২৫ দশমিক ০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে মায়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছে ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ থেকে প্রধানত ওষুধ, রাসায়নিক, নিটওয়ার, ওভেন গার্মেন্টস্, লৌহ ও প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য, পাদুকা ইত্যাদি রপ্তানি হয়ে থকে। গবাদি, মাছ, চাউল, ছোলা, কাঠ ইত্যাদি আমদানি করা হয়। গত বছর যৌথ বাণিজ্য কমিশনের সভায় দ্বি-পাক্ষিক বার্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়।

এছাড়া মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে গ্যাস আমদানির বিষয়টি অগ্রাধিকার বিবেচনায় আছে। অনেক দিনের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ মায়ানমার সড়ক, মায়ানমার হয়ে চীনে কুমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগের বিষয়টি উভয় দেশ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। বহুল প্রতীক্ষিত এশিয়ান হাইওয়ে এবং বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মায়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের সাথে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।


আরোও সংবাদ