বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই জাতীয়তাবাদী দল-জয়

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ মে , ২০১৫ সময় ০৮:৫৮ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই দেশের আসল জাতীয়তাবাদী দল।’

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র বনাম উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
জয়
এ সম্পর্কে যুক্তি তুলে ধরে প্রশ্ন রেখে জয় বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা দিয়ে যারা মন্ত্রী বানাতে পারে সেই দল কি জাতীয়তাবাদী দল হতে পারে? যে রাজকারদের সহযোগিতায় ৩০ লাখ মানুষকে খুন করা হয়েছে, তাদেরকে যারা দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে, তারা কি জাতীয়তাবাদী হতে পারে? নাকি স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন করে যে দল, যুদ্ধাপরাধীদের-সন্ত্রাসীদের বিচার করছে যে দল- সে দল আসল জাতীয়তাবাদী দল? বাংলাদেশের আসল জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সেই দল, যে দল দেশের স্বার্থের জন্য বিশ্বের কারো কাছে মাথানত করে না। বিশ্বের চাপের মুখেও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিতে পারে। কারণ দেশের জনগণ দলটির সঙ্গে আছে বলেই আমরা এটা করতে সাহস পাই। কিন্তু আমাদের তখনই দুঃখ হয়, যখন সেই দলের পক্ষে কথা বলতে অনেকে লজ্জা পান, জয় বাংলা বলতে লজ্জা পান। এটা খুবই লজ্জার বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা শ্লোগান শুধু আওয়ামী লীগের না, এটা আমাদের বাংলাদেশের শ্লোগান। যে ব্যক্তি জয় বাংলা বলতে লজ্জা পাবে, আমি বলবো সে বাঙালি না, বাঙালি হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা পুত্র বলেন, ‘বিশ্বের সামনে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যতোদিন ক্ষমতায় থাকবে ততোদিন কেউ আমাদের মাথা নিচে নামাতে পারবে না। গত ৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। সবচেয়ে বড়ো কথা, নেপালের প্রাকৃতিক দূর্যোগে বাংলাদেশ পানি-চাল-কম্বল নিয়ে সাহায্য করতে যাচ্ছে।’

কিছু গণমাধ্যমের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘খবরের কাগজকে সঠিক খবরটিই দিতে হবে। সেটা সরকারের পক্ষে যাক আর বিপক্ষে যাক।’

এ বিষয়ে একটি সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনের উদাহরণ দিয়ে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর চল্লিশটি নালিশ এসেছে নির্বাচন কমিশনে। খবরটি পড়ে আমি বললাম, এটা তো সুখবর। চল্লিশটি নালিশ যদি চল্লিশটি ভোটকেন্দ্র থেকে আসে তাহলে মোট দেড় শতাংশ ভোটকেন্দ্র থেকে নালিশ এসেছে। তার মানে আমাদের ২৭০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬৬০টি কেন্দ্রে সুন্দর ভোট পড়েছে। সেখানে কোনো কারচুপি হয়নি।’

জয় বলেন, ‘তারপরও কিছু কিছু মিডিয়া আছে যারা ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। তারা পছন্দ করে না, কোনো রাজনৈতিক দল এগিয়ে যাক, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। তাদের চোখ অন্যদিকে। কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায় সে হিসাব করছে তারা। কারণ তারা জানে মানুষের ভোটে কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘এর আগেও ১৯৭৫ সালের পর এবং সর্বশেষ ২০০৭ সালে আমরা তাদেরকে দেখেছি। তারা এখনো আশা ছাড়েনি। তারা ভাবে, আহা! দুদিনের জন্য হলেও যদি গাড়িতে পতাকা নিয়ে ঘোরা যায়।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জয় বাংলাদেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরেন। প্রশ্ন রাখেন বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির ধরন নিয়ে। সন্ত্রাস দমনে সরকারের সফলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সেমিনারে সূচনা বক্তব্য রাখেন সূচিন্তা ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এ আরাফাত। নির্বাচিত বিষয়ের ওপর আরো বক্তব্য রাখেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, শোলাকিয়া ঈদগাঁহ মাঠের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। ফাউন্ডেশনটির পক্ষ থেকে ঢাকার দুই মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেমিনারের একফাঁকে সহিংসতার দিনলিপি নামক একটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। বিএনপি-জামায়াতের সর্বশষ ৯২ দিনের আন্দোলনের সহিংসতার চিত্র দিয়ে ও সংবাদপত্রের ক্লিপিংস দিয়ে তৈরি বইটি সম্পাদন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির। সেমিনার শেষে একটি নান্দনিক লেজার শোর আয়োজন করা হয় সম্মেলন কেন্দ্রের হল অফ ফেমে।