বিএনপি দেশের মানুষকে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি-প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:০৭ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা থাকালে বিএনপি দেশের মানুষকে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তা দমন করেছে। শনিবার বিকালে রাজশাহীর সারদা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এবার দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া হবে। বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা হরতাল-অবরোধ করে ১৩৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। একশ’ বাস পুড়িয়ে দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে ছিল বলেই বিএনপি হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তিনি বলেন, ভোটের মালিক জনগণ। তারা মানুষকে ভোট দিতে দেবে না। এজন্য জ্বালাও পোড়াও করেছে। আগুন দিয়েছে। মানুষ হত্যা করেছে। তারপরও মানুষ ভোট কেন্দ্রে গেছে।
এদিকে সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভাষণকালে তিনি বলেন,
বিগত পাঁচ বছরে সরকার পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক করে তুলেছে এবং একই সময়ে ৬১৪টি ক্যাডার পদসহ ৩১ হাজারেরও বেশি নতুন পদ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, দেশের সকল থানাকে (পুলিশ স্টেশন) আরো কার্যকর সেবাকেন্দ্র করতে এগুলোর সংস্কার করা হবে।
সারদাসহ দেশের সকল পুলিশ কেন্দ্রকে আধুনিক করা হয়েছে। এ ছাড়া জনগণ যাতে ভালো সেবা পায় সে লক্ষ্যে দেশের সকল পুলিশ কেন্দ্র সংস্কার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা অর্জনে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সে ক্ষেত্রে পুলিশকে অবশ্যই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাগত দক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের নারী, শিশুসহ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আপনাদের আচরণ হতে হবে সংবেদনশীল। এ ছাড়া জনগণের সমস্যাকে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে। তিনি বলেন, সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ কঠোর হাতে দমন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
গত কয়েক বছরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার কথা উলে¬খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ এসব জঙ্গিদের আস্কারা দিয়েছে এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করেছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা শুরু হয়েছে। আমরা সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে মুৃক্তিযোদ্ধাদের রক্তঋণ শোধ করবো। দেশকে কলঙ্কমুক্ত করবো।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে বিনিয়োগ হিসেবে বিচেনা করে।
তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা ও অপরাধের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের আধুনিকায়ন করেছি। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।