আমি ৯৫ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে জনগণের নেত্রী হয়েছি-খালেদা জিয়া

প্রকাশ:| বুধবার, ২২ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:১৬ অপরাহ্ণ

প্রায় ২০ মিনিটের বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘শেখ হাসিনা দশম নির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোটে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর আমি ৯৫ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে জনগণের নেত্রী হয়েছি।’বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারের পতন হবে। এই সরকার এক বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।’

বুধবার রাতে গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি একথা বলেন বলে সূত্রে জানা গেছে। রাত ৮টা ৫০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকটি ছিল রুদ্ধদ্বার।

পেশাজীবী সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘অনেকে বলেন- আন্দোলন জমাতে না পারায় আমি হতাশ। আমি বলছি, ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারে ও গণতন্ত্র রক্ষায় সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমি হতাশ নই, ব্যর্থ নই। আপনারাও হতাশ হবেন না।’

পরবর্তী আন্দোলন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দলের বেশিরভার নেতাকর্মী জেলে রয়েছে। সামনে বিশ্ব ইজতেমা, ও লেভেল এ লেভেল এবং বিভিন্ন পরীক্ষা, তাই জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নতুন কৌশলে যথাসময়ে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’

জেলা সফরের বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন প্রচণ্ড শীত পড়ছে। শীতের তীব্রতা কমলেই জেলা পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক সফর শুরু হবে।’ সফরগুলোতে পেশাজীবীদেরও অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংগঠনগুলোকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করার উপর জোর দেন।

২৯ ডিসেম্বরের মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে পেশাজীবীদের ভূমিকার জন্য নেতাদের ধন্যবাদ জানান ফখরুল। সেই সঙ্গে আগামী দিনের কর্মসূচিতেও পেশাজীবীরা একইভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় পেশাজীবীদের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জন বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে পেশাজীবীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিভিন্ন এলাকার নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে চেয়ারপারসনকে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানান। আগামী দিনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন কর্মসূচিতে রাজপথে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন তারা।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের নেতারাবিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের নেতারা। রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ড্যাব মহাসচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজে মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, এ্যাব সভাপতি আনহ আক্তার হোসেন, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়–য়া, প্রফেসর তাহমিনা আক্তার টপি, ডা. মোস্তাক করিম স্বপন, প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশিদ ও কণ্ঠশিল্পী আরিফ দেওয়ানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সদ্য কারামুক্ত ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য সাভারে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে নিহত ২০ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বিকাল থেকে গুলশান কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করেন। তবে পূর্ব শিডিউল না থাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিহতদের স্বজনরা সাক্ষাৎ করতে পারেননি বলে জানান চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার। নিহতদের স্বজনদের মধ্যে আব্দুর মান্নান বেপারী, শিখা আক্তার, শাপলা, ফিরোজা বেগম, সাজেদা, রাশেদা বেগমসহ ২০ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ