বিএনপির লংমার্চের ফলে ভারত পানি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

লংমার্চেবিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি বেরিয়েছে। এজন্য পানি পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা থেকে রওয়ানা দেওয়ার কথা শুনে ভারত সরকার পানি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রংপুর শহরের হোটেল নর্থ ভিউ এর লিফটে ওঠার সময় বাংলানিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এখনও আন্দোলন শুরু হয়নি। তাতেই এ-অবস্থা।আন্দোলন পুরোদমে শুরু করলে তারা পুরো পানি ছাড়তে বাধ্য হবে। এ আন্দোলনে দেশের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণ করা উচিত।

এ-নতজানু সরকার অন্যের স্বার্থ রক্ষা করে বেশি। নিজের চিন্তা করে না। এ-কারণে আমরা নায্য হিস্যা পাচ্ছি না। দেশের জনগণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ-কারণে ভারত সরকার পানি দিতে বাধ্য হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাশের দেশের আগ্রাসনের কারণে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। তিস্তা নদীর অববাহিকায় পাশের দেশের বাঁধ নির্মাণের ফলে উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলার প্রায় ৩ কোটি লোকের জীবন-জীবিকা আজ সংকটাপন্ন।

মঙ্গলবার বিকাল সোয়া চারটায় বগুড়ার মাটিডালি এলাকায় লংমার্চের ৪র্থ পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, এ নতজানু সরকারের পক্ষে জনগণের সমস্যার সমাধান সম্ভন নয়। কারণ, তারা জনগণের সরকার নয়- জনগণ তাদের ক্ষমতায় আনেনি। তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছে। তাই সব সমস্যার একমাত্র সমাধান জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সবাইকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা তিস্তাসহ ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। এসব নদীর পানি প্রাপ্তি কারো দয়া নয়, আমাদের অধিকার। ভারত অবৈধভাকে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

তিনি বলেন, বগুড়া জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীদের পূন্যভূমি। কারণ এই ভূমিতেই জন্মেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাই আপনাদের কাছে দাবি নিয়ে এসেছি- দেশ বাঁচাতে হবে, মানুষ বাঁচাতে হবে।

মির্জা আলমগীর বলেন, এ সরকারকে দাবি জানিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ এরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারবে না। এরা ভারতে তাবেদার সরকার। তাই কোনো দাবি নয়, রাজপথে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার আদায় করতে হবে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চাঁনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপিার ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুর রশিদ আবেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রংপুরের তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমীগের নেতৃত্বে ঢাকার উত্তরা থেকে লংমার্চেও যাত্রা শুরু হয়। এর পরে সকাল ১০টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে, সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলে এবং সোয়া ১২টায় সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে পথসভা করে দলটি। এখন লংমার্চটি গোবিন্দগঞ্জে রয়েছে।