বিআরটিসি বাস সার্ভিস বাড়ানোর দাবী

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৭:২৮ অপরাহ্ণ

যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে বান্দরবানে বিআরটিসি বাস সার্ভিস বাড়ানোর এসি বাসদাবী স্থানীয়দের। যাত্রী সেবার নামে লক্কর-জক্কর মার্কা পূরবী-পূর্বাণী বাস সার্ভিসের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে এনে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন যাত্রী সেবার মানোন্নয়ন রক্ষা কমিটির নেতারা। যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের আগে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিস দ্বিগুন করা এবং বান্দরবান-চট্টগ্রামে আরামদায়ক সকল বাস সার্ভিস চালুর পথ উন্মোক্ত করে দেয়ার দাবী জানান। অন্যতায় ঈদের পর মানববন্ধন, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন যাত্রী সেবা রক্ষা কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ রফিকসহ স্থানীয় বাসিন্দাররা।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কে হানিফ, শ্যামলী, এস আলমসহ আরামদায়ক সকল বাস সার্ভিস চালু করার দাবী বান্দরবানবাসীর অনেক দিনের। এমনকি জেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার উত্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবারই একটি হট্টগোলের কারণে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের বাঁধায় বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে বান্দরবানের সাড়ে ৪ লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের এই দাবীটি।

বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে বিলাসবহুল বাস সার্ভিসগুলোর চালুর বিষয়ে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে, বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রামের দূরত্ব মাত্র ৭৪ কিলোমিটার। পৌছাতে সময় লাগে দেড় থেকে দুঘন্টা। কিন্তু সেখানে যত্রতত্র থেকে যাত্রী উঠা-নামার কারণে বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম পৌছাতে লক্কর-জক্কর মার্কা পূরবী-পুর্বানী বাস সার্ভিসগুলোর সময় লাগছে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা। কখনো কখনো তারও বেশি সময় লাগে। সেই সঙ্গে রাস্তায় টায়ার পানচার এবং গাড়ি নষ্ঠ হওয়ার ঘটনাতো ঘটছেই। প্রতিবাদ করলেই যাত্রীদের সাথে চড়াও হয় পরিবহণ চালক-শ্রমিকরা। এমনকি টিকেট চেকারদের অভিযোগ দিয়েও লাভ হয় না। চেকাররাও পরিবহণ শ্রমিকদের পক্ষে সাফায় গাই।

স্থানীয় যাত্রী আনিসুর রহমান ও তাইফু সুলতানা প্রতিবেদককে জানান, সুস্থ মানুষও লক্কর-জক্কর মার্কা পূরবী-পূর্বানী বাস গাড়িগুলোতে উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। যাত্রী সেবার নামে গাড়িগুলোর শ্রমিক-মালিকরা যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার করছে। যত্রতত্র দাড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা এবং রাস্তায় গাড়ি নষ্ঠ হয়ে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। গাড়িগুলোর জিম্মি দশা থেকে যাত্রীদের মুক্ত সরকারের বিআরটিসি বাস সার্ভিস আরো বাড়ানো দরকার। একইসঙ্গে পর্যটন শহর বান্দরবানে যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে বিলাসবহুল গাড়িগুলো চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেয়ার দরকার। একই কথা বলেছেন ঢাকা বেড়াতে আসা এহসানসহ কয়েকজন পর্যটকও।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম বলেছেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে বান্দরবানে খুব শীগ্রই বিআরটিসি বাস সার্ভিস দ্বিগুন করা হবে। বান্দরবানের জন্য নতুন আরো দুটি বিআরটিসি বাস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বান্দরবান-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সড়কে উন্নতমানের সকল বাস চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত অত্যন্তরিকভাবে চেষ্ঠা চালাচ্ছে>>আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান,বিডিপ্রেস২৪ডটকম