বায়েজিদে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা: আদালতে খুনিদের জবানবন্দি

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৯:৩১ অপরাহ্ণ

Screenshot_1বায়েজিদে থানার রউফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী পারভিন আক্তার (৩২) হত্যার সাথে জড়িত দুইজনকে টেকনাফ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তারা হলো বাড়ির এক সময়ের দারোয়ান মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৭) এবং তার বন্ধু মোহাম্মদ মনসুর (২৫)। গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতারের পর দুইজনকে আদালতে হাজির করলে বুধবার সন্ধ্যায় তারা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দিয়েছেন বিচারকের খাস কামরায়।

এর আগে পুলিশ তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৩৫ হাজার টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন জানান, হত্যাকাণ্ডে ১০ দিনের মাথায় দুই খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আজ চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীণ আক্তার কাকনের আদালতে হাজির করলে দুজনই হত্যার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Screenshot_2তারা আদালতকে বলেছে হত্যা নয় মূলত লুটপাট করতে তারা প্রবাসীর নুরুল আলমের বাসায় হানা দিয়েছিল। লুটপাটের সময় বাঁধা পেয়ে তারা নূরুল আলমের স্ত্রী পারভিন আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

ইয়াছিন জবানবন্দিতে বলেন, মূলত বাড়ির মালিক আব্দুর শুক্কুরের উপর ক্ষোভ থেকে তারা লুটপাট করতে যায়। আব্দুর শুক্কুর এবং নূরুল আলম আপন ভাই। পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় উক্ত বাড়িতে নীচ তলায় শুক্কুরে পরিবার এবং উপরে ছোট ভাই নূরুল আলমের স্ত্রী পারভিন আক্তার ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সাঈদকে নিয়ে একা থাকতো। ঘটনার সময় নূরুল আলম ছিল প্রবাসে।

ইয়াছিন জবানবন্দিতে বলেন, প্রায় ৭/৮ বছর আগে তিনি শুক্কুরের বাড়িতে দারোয়ানের কাজ করতো। সে সময় বাড়ি নির্মাণের কাজ নিয়ে শুক্কুরের সাথে বিরোধ হলে তাকে শুক্কর বিদায় করে দেয়। পরে সে দুবাই চলে যায়। সেখানেও প্রবাসী শুক্কুরের সাথে তার ঝগড়া হয়।

পরে শুক্কুরের কারণে সে দুবাইতে ১৫ দিন জেল কেটে বের হলে তাকে সে দেশের সরকার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এতে শুক্কুরের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এবং ছোট ভাই নূরুল আলমের শিশু সাঈদকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। পরে সে পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নূরুল আলমের ঘরে লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এবং তাতে বাধা পেয়ে পারভীন আক্তারকে হত্যা করে।

উল্লেখ্য গত ৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে রউফাবাদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন পারভিন আক্তার। তার আট বছর বয়সী শিশুপুত্র নূর মোহাম্মদ সাঈদের কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে পড়শিরা পারভিনের ফ্ল্যাটে এসে দেখেন, তার নিথর দেহ ফ্লোরে পড়ে আছে। খুনিরা ঘরের স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও বেশকিছু মালামালে লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার দুইদিন পরই নূরুল আলম দেশে এসে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সন্দেহজনক নূরুল আলমের ভাতিজা আব্দুর শুক্করের ছেলে মামুনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেও তার কাছ থেকে কোন তথ্য পায়নি।

বায়েজিদ থানার ওসি মহসিন জানান এঘটনায় মামুনের কোন ধরণের সর্ম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।