বাড়ী থেকে ডেকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখছে সরকারের বাহিনী

প্রকাশ:| বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ

২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে উপর মহলের নির্দেশ মোতাবেক গুলি করে খালে-বিলে-বেড়িবাঁধে লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। বুধবার এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায়ী অবৈধ আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধের সকল আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনকে বিনষ্ট করে জাতির ভবিষ্যৎ অধিকারকেও হরণ করেছে।’ বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ২০ দলীয় জোটের পক্ষে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে (অনুচ্ছেদ-৭ বি) সংবিধানের প্রায় এক তৃতীয়াংশকেই অপরিবর্তনযোগ্য করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সংসদই পরবর্তি সংসদের হাত-পা বেঁধে দিতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘সার্বভৌম সংসদ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণের ভবিষ্যৎ অধিকার হরণ সভ্য দুনিয়ার কোনো রাষ্ট্রেই স্বীকৃত পন্থা নয়। এটি সরাসরি বেআইনি। এই সেই আওয়ামী লীগ যারা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করে তৎকালীন সংসদকে ফের আরেক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করেছিল।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস সাংবিধানিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার ইতিহাস। এদের হাতে আজ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, বিচার ব্যবস্থা, সংসদ ও সর্বোপরি সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে।’

গণতন্ত্র খেকো এই অবৈধ সরকারকে অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উৎখাতের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনের মিছিলে প্রতিদিন সরকারি পেটোয়া পুলিশ বাহিনী অজস্র বুলেটে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে ক্ষতবিক্ষত করছে। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে খালে-বিলে-বেড়িবাঁধে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ক্রসফায়ারের ধরন পাল্টে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করা হয়েছে যশোরের মনিরামপুরের ইউসুফ ও লিটনকে। দুপায়ে গুলি করে চিরতরে পঙ্গু করা হয়েছে ঢাকা কলেজের শিবির নেতা আবদুল হামিদকে, মোহাম্মদপুরের জামায়াত নেতা নাজমুল হাসান ও আবুল কাশেমকে। অসংখ্য বিরোধী নেতাকর্মীকে প্রতিদিন গুম, খুন ও অপহরণ করা হচ্ছে দেশব্যাপী।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রচার মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে এবং কুক্ষিগত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার অবৈধ শাসন চালিয়ে যাওয়ার যে সংকল্প নিয়েছে, তাতে এই রাষ্ট্র গঠনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনসাধারণের সকল স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হতে বসেছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশি শাসন ও নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থার কল্যাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে এনে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আজ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আহমেদ ও আশরাফ উদ্দিন নিজানকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেপ্তার করেছে। আমি তাদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

একই সঙ্গে দেশব্যাপী চলমান অবরোধ ও হরতালে গ্রেপ্তারকৃত সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অবিলম্বে টেলিফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড ও ক্যাবল সংযোগসহ সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনস্থাপনের ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি।’

‘আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব মানবাধিকার সংস্থা, সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীদেরকে গুলশান কার্যালয়ের পরিস্থিতি পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও অনুধাবন করে বিশ্বের কাছে তা তুলে ধরার আহবান জানাই। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাকে যথাযথ ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি’ যোগ করেন তিনি।