দেশের সর্ববৃহৎ স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সন্ধান

প্রকাশ:| সোমবার, ২৫ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম তথা দেশের সর্ববৃহৎ স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সন্ধান পেয়েছে মহানগর পুলিশ। গতকাল বিকেলে নগরীর কোতোয়ালি থানার তামাকুমুন্ডি লেনের একটি ভবনে তাদের আস্তানা থেকে তিনটি সিন্দুক জব্দ করেছে পুলিশ। সিন্দুক তিনটির একটি থেকে রাত বারোটা দশের দিকে ২৫০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। একটি সিন্দুক ফাঁকা ছিল। তৃতীয় সিন্দুকেও পাওয়া যায় ৬০ লাখ টাকা ।

ঘটনা প্রসঙ্গে সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তার আজাদীকে জানান, যতদূর জেনেছি, এটি স্বর্ণ চোরাচালানের বড় ও সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছে ফটিকছড়ির আবু নামে একজন। তামাকুমুন্ডি লেনের ওই ভবনের ষষ্ঠ তলার চার নম্বর কক্ষটি জুতা ও ব্যাগের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য সেই ভাড়া নিয়েছিলেন।

যেভাবে অভিযান : গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এসি ডিবি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে বাহার মার্কেট নামের ওই ভবনের আশেপাশে ছদ্মবেশে অবস্থান নেন। বিকেলে একে একে তারা উঠে আসেন ষষ্ঠ তলায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদ রয়েছে এ মার্কেটে অবৈধ স্বর্ণের একটি ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের সন্দেহ হয় ৪ নম্বর কক্ষটির প্রতি। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীনের উপস্থিতিতে গ্যাস কাটার দিয়ে দরজা কেটে তারা চার নম্বর কক্ষের ভেতরে ঢুকেন। কক্ষটি আট ফুট বাই ১০ ফুট। সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে কক্ষটিতে। সেখানে পাওয়া যায় দুটি সিন্দুক। সিসি ক্যামেরার তার কোথায় গেছে দেখতে গিয়ে দেখা যায় ১ নং ও ৮ নং কক্ষে থাকা মনিটরের সাথে সেগুলো সংযৃক্ত। ওই দুটি রুম থেকে মনিটরিং করা হয় সিন্দুক রাখার রুমটি। ধারণা করা হচ্ছে সিন্দুকের রুমে অভিযান চালানোর ফুটেজ দেখেই জড়িতরা পালিয়েছে। তবে এসি মো:কামরুজ্জামান আজাদীকে বলেন, ‘পালিয়ে আর যাবে কোথায় ? ধরা পড়বেই, সে যেই হোক।’

সিন্দুক এলো থানায় : চটের বস্তায় ভরা ২০২৫টি জুতোর বস্তা দিয়ে আড়াল করে রাখা দুটি সিন্দুক লুকোনো অবস্থায় পাওয়া যায় ৪ নং কক্ষটিতে। অভিযান শেষে ৪ নম্বর কক্ষটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এরপর পাশের ৮ নম্বর কক্ষেও একটি সিন্দুক পাওয়া যায়। কিন্তু বড় হওয়ায় সেটি প্রথমে বের করা সম্ভব হয়নি। এরপর জনবল বাড়িয়ে বিশেষ কৌশলে সেটিও জব্দ করা হয়। সিন্দুক তিনটি জব্দ করার পর ঘটনাস্থলে দীর্ঘক্ষণ পুলিশ গ্যাস কাটার দিয়ে সেগুলো কাটার চেষ্টা করলেও তাতে সফল হয়নি। তারপর সেগুলো কোতোয়ালি থানায় পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্দুকগুলো ছিল অত্যন্ত ভারী। একেকটি নামাতে পাঁচছয়জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ৪ নং কক্ষটিতে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা দেখা গেছে। আট নম্বর কক্ষটিতে লোকজন থাকত। ওই কক্ষে কম্পিউটার দেখা গেছে।

অবশেষে পাওয়া গেল স্বর্ণ, অর্থ : রাত সাড়ে নয়টার দিকে সিন্দুক তিনটি নিয়ে আসা হয় থানায়। শুরু হয় সিন্দুক ভাঙার কাজ। রাত সাড়ে দশটার দিকে একটি ভাঙা হলেও পাওয়া যায় নি কিছুই। রাত বারোটা দশের দিকে ভাঙা হয় দ্বিতীয়টি। বেরিয়ে আসে একে একে ২৫০ স্বণের্র বার। যার অনুমানিক মূল্য বারো কোটি টাকা। তৃতীয় সিন্দুকটি ভাঙা হয় পৌনে একটার দিকে। পাওয়া যায় ৬০ লাখ টাকা। এ প্রসঙ্গে ওসি কোতোয়ালী জসিম উদ্দিন আজাদীকে জানান, এতদিন এয়ারপোর্টে স্বর্ণের বার ধরা পড়তো। এর বাইরে এত সংখ্যক স্বর্ণের বার প্রথম ধরা পড়লো চট্টগ্রামে। এর নেপথ্যে কারা আছে আমরা তা বের করার চেষ্টা করছি।


আরোও সংবাদ